📌 বেবি নাজ শৈশবে মঞ্চে নাচ করে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি খ্যাতি অর্জন করলেও পারিবারিক অশান্তি ও অর্থনৈতিক বঞ্চনার কারণে জীবনের শেষদিকে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। ৫১ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন
বেবি নাজের জীবন ছিল এক করুণ কাহিনী — শৈশবে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করলেও পারিবারিক অশান্তি ও অর্থনৈতিক বঞ্চনার কারণে তিনি জীবনের শেষদিকে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। শিল্পীজীবনে পা রাখার পথে তিনি একের পর এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাত্র চার বছর বয়সে মঞ্চে নাচ করে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন বেবি নাজ, যিনি বাবা মির্জা দাউদ বেগের লেখক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- 📌 ১০০ টাকা পারিশ্রমিক পেয়ে পরিবারের খরচ চালাতেন বেবি নাজ, যিনি আট বছর বয়সে প্রথম চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করেন।
- 📌 ‘বুট পলিশ’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ১৯৫৫ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ সম্মাননা পান বেবি নাজ।
- 📌 মাত্র ১০ বছর বয়সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বেবি নাজ, যিনি কুয়োয় ঝাঁপ দিয়েছিলেন।
- 📌 ১২ বছর বয়সে জানতে পারেন মা-বাবার দাম্পত্য কলহের পেছনে ছিল মায়ের অন্য পুরুষের সম্পর্ক।
- 📌 ১২০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও নিজের উপার্জনের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি বেবি নাজ।
- 📌 ৫১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন বেবি নাজ, যিনি শিশুশিল্পী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করলেও নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি।
📰 বিস্তারিত
বেবি নাজের শৈশব ছিল কঠিন। বাবা মির্জা দাউদ বেগ একজন লেখক ছিলেন, কিন্তু পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। চার বছর বয়সে তিনি মঞ্চে নাচ করে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন। সিনেমার নায়িকাদের নাচ দেখে অনুকরণ করতে ভালোবাসতেন তিনি। কিন্তু শখের সেই নাচ একসময় পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর দায়িত্বে পরিণত হয়। প্রথম দিকে মঞ্চে নাচ করতেন তিনি, পরে একের পর এক অনুষ্ঠানে পারিশ্রমিক পেতেন মাত্র ১০০ টাকা। সেই অর্থ দিয়ে পরিবারের খরচ চালাতেন।
আট বছর বয়সে প্রথম চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পান বেবি নাজ। পারিশ্রমিকের কথা জানার পর তাঁর মা-বাবা প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। চলচ্চিত্রে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় তাঁর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। একসময় স্কুল থেকে তাঁর নামও কেটে দেওয়া হয়। পর্দায় জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁকে আবার পড়াশোনায় ফেরার সুযোগ দিতে চেয়েছিল, কিন্তু তত দিনে সংসারের প্রধান উপার্জনকারী হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ফলে শিক্ষাজীবনে আর ফেরা হয়নি।
১৯৫৪ সালে মুক্তি পায় ‘বুট পলিশ’ চলচ্চিত্রে বেবি নাজ অভিনয় করেন বেলু চরিত্রে। ছবিটি দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ১৯৫৫ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বুট পলিশ’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য বিশেষ সম্মাননা পান তিনি। রাজ কাপুর তাঁর প্রতিভা দেখে সুইজারল্যান্ডে পড়াশোনার জন্য পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু মা সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।
বেবি নাজের জীবন ছিল কঠিন। তিনি ১২০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও নিজের উপার্জনের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি। মা তাঁর উপার্জনের অর্থ নিজের এক পুরুষসঙ্গীর পেছনে ব্যয় করতেন। শিশুশিল্পী হিসেবে দিনের পর দিন কাজ করলেও অনেক সময় ঠিকমতো খাবারও জুটত না তাঁর। মাত্র ১০ বছর বয়সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। কুয়োয় ঝাঁপ দিয়েছিলেন, পরে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। সেই ঘটনার পরও মা তাঁকে সান্ত্বনা দেননি, বরং রাগ করে বকাঝকা করেছিলেন।
"আমি ছোট ছিলেন বলে মা-বাবাকে অমান্য করার সাহস পাইনি। মা চলচ্চিত্রের প্রস্তাব গ্রহণ করতেন, আর বাবা কাজ ছেড়ে দিয়েছিলেন। ফলে উপার্জনের দায়িত্ব পুরোপুরি আমার ওপর এসে পড়ে।"
১২ বছর বয়সে জানতে পারেন বেবি নাজ, মা-বাবার দাম্পত্য কলহের পেছনে ছিল মায়ের অন্য এক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক। পরে মা সেই ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। বেবি নাজের বয়স তখন ১৬ বছর। মায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বাবাকে ফিরিয়ে আনেন নিজের উপার্জনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা শুরু করেন। একসময় মাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করে দেন। বাবাকে খুঁজে বের করে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনেন। মায়ের সেই সম্পর্ক ভেঙে যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুইজারল্যান্ড (পড়াশোনার প্রস্তাব), বাংলাদেশ (জন্ম ও কর্মজীবন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বেবি নাজ, মির্জা দাউদ বেগ, রাজ কাপুর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০ টাকা পারিশ্রমিক, ১২০টি চলচ্চিত্র, ১০ বছর বয়সে আত্মহত্যার চেষ্টা, ৫১ বছর বয়সে মৃত্যু
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!