📌 ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে চিত্রনায়িকা পরীমনি ও সাংবাদিক রবিউল হোসাইনের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ সংঘর্ষ ঘটে। পরীমনি রবিউলকে স্পর্শ করার অভিযোগ করেন, কিন্তু রবিউল মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। উভয় পক্ষের বিরোধিতার মধ্যে ঘটনাস্থল উত্তপ্ত হয়ে ওঠে
ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে গত বৃহস্পতিবার চিত্রনায়িকা পরীমনি ও সাংবাদিক রবিউল হোসাইনের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন গণমাধ্যমের অন্যান্য সাংবাদিকরা। পরীমনি রবিউলকে স্পর্শ করার অভিযোগ করেন, কিন্তু রবিউল হোসাইন পরীমনির বিরুদ্ধে মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। এই ঘটনার পেছনে রয়েছে একটি জামিন মামলা, যা উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পরীমনি রবিউল হোসাইনের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি নিজেই ফোনটি সরিয়ে নেন কারণ লিফট বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল।
- 📌 রবিউল হোসাইন অভিযোগ করেন, পরীমনি ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নেন এবং ট্রাইপড ভেঙে ফেলেন।
- 📌 পরীমনি রবিউলকে স্পর্শ করার অভিযোগ করেন এবং বলেন, তাঁকে "খামচি মারা"-এর মতোভাবে ধরা হয়েছিল।
- 📌 আদালত থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনি রবিউলকে ডাকেন এবং তাঁর উদ্দেশে গালিগালাজ করেন, যা সাংবাদিকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
- 📌 পরীমনি ৫০০ টাকা মুচলেকায় জামিন পান, কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে বের হওয়ার সময় আবারও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়।
📰 বিস্তারিত
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে গত বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন পরীমনি। এই মামলায় ২০২২ সালের ৬ জুলাই নাসির উদ্দিন মাহমুদ অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে পরীমনি ও তাঁর সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে ভাঙচুর করেন এবং মারধর ও হত্যার হুমকি দেন। এই ঘটনায় আগেই ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাভার থানায় মামলা করা হয়েছিল পরীমনির।
আদালতে উপস্থিত হওয়ার সময় পরীমনির সঙ্গে সাংবাদিকদের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটে। পরীমনি বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে গাড়ি থেকে নেমে এজলাসের দিকে যাওয়ার সময় সাংবাদিকেরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে চাইলে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়। এই সময় দৈনিক সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে পরীমনির বিরুদ্ধে। রবিউল হোসাইন পরীমনির বিরুদ্ধে মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন এবং বলেন, পরীমনি তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন এবং মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন।
পরীমনি লিফটে উঠার সময় তাঁর মুঠোফোন লিফটের কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমি হাত দিয়ে মোবাইল সরিয়ে দিয়েছি। সরানোর পর মনে হলো, কেউ একজন আমার হাতটা ধরেছে। যে দুজন আমাকে ধরছে, তাদের স্পর্শ তো আমি জানি। এ রকম ব্যথা দেওয়া টাইপ ধরা, খামচি মারা কী রকম করে ধরা যেন, আমি ব্যথা পাইছি।” পরীমনি আরও বলেন, রবিউল হোসাইনের মুখ দেখে তিনি তাঁকে ডাকেন এবং জিজ্ঞাসা করেন, “আমার হাত এভাবে ধরলি কেন?”
রবিউল হোসাইন পরীমনির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি লিফটে ওঠেননি। তিনি বলেন, “পরীমনি লিফটে ঢোকার পথে আমার ফোনটা টান দিয়ে নিয়ে নেন। লিফটে ওঠার সময় আমি উনার পথ আটকাব কেন, উনার চলার পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা আমি কখনো তৈরি করিনি।” তিনি আরও বলেন, তাঁর ডান হাতের কারণে স্পর্শ করার কোনো সুযোগ ছিল না।
আদালত থেকে বের হওয়ার সময় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরীমনি রবিউল হোসাইনের দিকে এগিয়ে যান এবং তাঁকে ডাকেন। রবিউল বলেন, পরীমনি তাঁর উদ্দেশে বলেন, “আপা আমার ট্রাইপড ভেঙে দিয়েছে”। এই ঘটনার পর পরীমনি ৫০০ টাকা মুচলেকায় জামিন পান।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: চিত্রনায়িকা পরীমনি, সাংবাদিক রবিউল হোসাইন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ জুলাই ২০২২, ৯ জুন ২০২১, ১১টা ৪০ মিনিট, ৫০০ টাকা
"আমি হাত দিয়ে মোবাইল সরিয়ে দিয়েছি। সরানোর পর মনে হলো, কেউ একজন আমার হাতটা ধরেছে। যে দুজন আমাকে ধরছে, তাদের স্পর্শ তো আমি জানি। এ রকম ব্যথা দেওয়া টাইপ ধরা, খামচি মারা কী রকম করে ধরা যেন, আমি ব্যথা পাইছি।"
"আপা আমার ট্রাইপড ভেঙে দিয়েছে"
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!