📌 আলী যাকেরের জন্মদিনে ফারুক আহমেদের স্মৃতিতে ফিরে দেখা যায় পর্দায় দাপুটে কিন্তু পর্দার বাইরে স্নেহশীল অভিনেতার চরিত্র। মুক্তিযুদ্ধের শব্দসৈনিক হিসেবে তিনি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও মঞ্চনাটকের ইতিহাসে আলী যাকেরের নাম অনন্য। পর্দায় তিনি ছিলেন রাগী গৃহকর্তা, কিন্তু পর্দার বাইরে তিনি ছিলেন একজন স্নেহশীল মানুষ। সহশিল্পী ফারুক আহমেদের স্মৃতিতে এখনও তিনি রয়েছেন সেই মানুষটিকে — যিনি থাপ্পড় মারতেন কিন্তু স্নেহের বাক্য বলতেন। আজ ৬ নভেম্বর আলী যাকেরের জন্মদিন। ১৯৪৪ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতা, নির্দেশক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের ৮২তম জন্মবার্ষিকীতে ফিরে দেখা যাক তাঁর জীবন ও কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত কিছু স্মৃতিচারণ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফারুক আহমেদের স্মৃতিতে আলী যাকেরের চরিত্রের স্মৃতি বেঁচে আছে — পর্দায় দাপুটে, পর্দার বাইরে স্নেহশীল
- 📌 ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ইংরেজি বিভাগে কাজ করে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের খবর বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেন
- 📌 ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চে তাঁর পথচলা শুরু হয়
- 📌 নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সাথে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন তিনি, সাংগঠনিক দায়িত্বও পালন করেছেন
- 📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি ১৯৪৪ সালের ৬ নভেম্বর
📰 বিস্তারিত
আলী যাকেরের অভিনয় জীবনে ফারুক আহমেদের সাথে একটি বিশেষ স্মৃতি বেঁচে আছে। ‘আজ রবিবার’ নাটকে ফারুক আহমেদের চরিত্র মতি এবং আলী যাকেরের চরিত্র আজগরের মধ্যে একটি দৃশ্য ছিল যেখানে আজগর মতিকে বারবার থাপ্পড় মারতেন। কিন্তু ক্যামেরা বন্ধ হলে আলী যাকের ফারুককে বুকে টেনে নিতেন এবং দুঃখ প্রকাশ করতেন। ফারুক আহমেদের স্মৃতিচারণে বলা হয়েছে, ‘থাপ্পড় মারার শট ওকে না হওয়ার কারণে বারবার আলী যাকেরের হাতে আমাকে থাপ্পড় খেতে হচ্ছিল। প্রতিবার থাপ্পড় মেরে তিনি সঙ্গে সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে ধরতেন। আমাকে আদর করে বলতেন, “ইশ্ রে, জোরে লেগেছে মনে হয়। মনে কষ্ট রেখো না।”’
মুক্তিযুদ্ধের সময় আলী যাকেরের অবদানও ছিল অসামান্য। তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ইংরেজি বিভাগে কাজ করে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের খবর বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেন। স্বাধীনতার পর তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর মঞ্চ জীবন শুরু হয়। এই নাটকে তিনি একজন প্রধান অভিনেতা, নির্দেশক ও সংগঠক হিসেবে পরিচিতি পান।
আলী যাকেরের জীবনে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সাথে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। তিনি এই দলের হয়ে অভিনয় ও নির্দেশনার পাশাপাশি সাংগঠনিক দায়িত্বও পালন করেছেন। তাঁর দীর্ঘদিনের সহযাত্রী ছিলেন অভিনেত্রী ও নাট্যব্যক্তিত্ব সারা যাকের। ফারুক আহমেদের স্মৃতিচারণে বলা হয়েছে যে, ‘যাকের ভাই ছিলেন স্বাস্থ্যবান, তাঁর হাতের পাঞ্জা ছিল মোটা। সেদিন প্রথম থাপ্পড় খেয়ে আমি মাটিতে পড়ে যাই। ব্যথায় আমার মাথা ঘুরতে থাকে। যাকের ভাই দ্রুত আমাকে তুলে নেন। দুঃখ প্রকাশ করেন। সেদিন সারাক্ষণ আমাকে আদর করে বলতে থাকেন, “মনে কষ্ট রাখিস না।”’
"ইশ্ রে, জোরে লেগেছে মনে হয়। মনে কষ্ট রেখো না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলী যাকের, ফারুক আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮২ (জন্মবার্ষিকী), ২১ (ফেব্রুয়ারি), ১৯৭১ (মুক্তিযুদ্ধ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!