📌 বিদেশে উচ্চশিক্ষায় বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের ফলাফলের গুরুত্ব নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ইউনেস্কোর তথ্যমতে, গত দুই দশকে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী বাংলাদেশিদের সংখ্যা তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মাধ্যমিক ফলাফল বিদেশে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রাথমিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হলেও তা একমাত্র নির্ধারক নয়
বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের ফলাফলের গুরুত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন কুমিল্লার শিক্ষার্থী জিসান চৌধুরী। তার প্রশ্ন, "এসএসসি পাশ করেই কি বিদেশে লেখাপড়া করতে যাওয়া যায়? সেখানে বাংলাদেশের এই রেজাল্টের গুরুত্ব কতটা? নাকি গিয়ে আবার নিচের ক্লাসে ভর্তি হতে হবে?"
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইউনেস্কোর তথ্যমতে, গত দুই দশকে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী বাংলাদেশিদের সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে
- 📌 বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য সাধারণত ১২ বছরের স্কুলিং প্রয়োজন, যা বাংলাদেশের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সমতুল্য
- 📌 এসএসসি বা মাধ্যমিক ফলাফল বিদেশে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রাথমিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হলেও তা একমাত্র নির্ধারক নয়
- 📌 ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের তুলনায় বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের বিদেশে ভর্তির আবেদন গ্রহণের হার কম
- 📌 বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত ৬০ শতাংশ নম্বরকে ন্যূনতম মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দুই দশকে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী বাংলাদেশিদের সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউনেস্কোর 'হায়ার এডুকেশন গ্লোবাল ট্রেন্ডস রিপোর্ট' অনুসারে, বিশ্বজুড়ে উচ্চশিক্ষার জন্য এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের ফলাফলের গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী শিক্ষার্থী পুষ্পিতা হক ইংল্যান্ডে যাওয়ার আগে ইংরেজি মাধ্যমের ও-লেভেল সম্পন্ন করেছিলেন। অন্যদিকে, আনিসুর রহমান সুরেল অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পর আইইএলটিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান। তার অভিভাবক মোমেনা সরকার জানান, এসএসসি এবং এইচএসসির ফলাফলও তার ভর্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা পরামর্শক তামান্না তমা বিবিসি বাংলাকে জানান, ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের তুলনায় বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের বিদেশে ভর্তির আবেদন গ্রহণের হার কম। তিনি বলেন, "কিছু কিছু দেশ আছে, যেমন- মালয়েশিয়া, ওরা ফাউন্ডেশন কোর্স প্রোভাইড করে এবং অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের ক্ষেত্রে কিছু কিছু নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় এক বছর ফাউন্ডেশন কোর্সের মাধ্যমে ব্যাচেলরে ভর্তির সুযোগ দেয়।"
তামান্না তমা আরও জানান, বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত ৬০ শতাংশ নম্বরকে ন্যূনতম মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। তিনি বলেন, "একটা মিনিমাম বেঞ্চমার্ক (নির্দিষ্ট নম্বর) থাকে, যেটা একজন শিক্ষার্থীকে পূরণ করতে হয়। আমরা যে দেশগুলোকে ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড কান্ট্রি মনে করি বা শিক্ষার্থীরা বেশি যেতে চায়, সেখানকার প্রতিষ্ঠানগুলোও অন্তত ৬০ শতাংশ নম্বর দেখতে চায়।"
"এসএসসি পাশ করেই কি বিদেশে লেখাপড়া করতে যাওয়া যায়? সেখানে বাংলাদেশের এই রেজাল্টের গুরুত্ব কতটা? নাকি গিয়ে আবার নিচের ক্লাসে ভর্তি হতে হবে?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জিসান চৌধুরী, পুষ্পিতা হক, আনিসুর রহমান সুরেল, তামান্না তমা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ (তিনগুণ বৃদ্ধি), ৬০ (শতাংশ), ১২ (বছরের স্কুলিং)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!