📌 রংপুরের পীরগাছায় শতভাগ পাস পাওয়া নোবেল রেসিডেন্সিয়াল মডেল উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও প্রধান শিক্ষকের অব্যাহতির ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ শিক্ষার্থী টিসি নিয়ে অন্যত্র ভর্তির জন্য বিদ্যালয়ে জড়ো হন
রংপুরের পীরগাছায় অবস্থিত নোবেল রেসিডেন্সিয়াল মডেল উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শতভাগ পাস পাওয়া বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সন্তানদের অন্যত্র ভর্তির জন্য টিসি নিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে বিদ্যালয়ে অস্থিরতা দেখা দেয়
- 📌 প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ শিক্ষার্থী টিসি নিয়ে অন্যত্র ভর্তির জন্য বিদ্যালয়ে জড়ো হন
- 📌 প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান পদত্যাগ করেন এবং আল আমিন মিয়াকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়
- 📌 বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে জমি কেনা ও শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে মতবিরোধ চলছিল
- 📌 ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির ৭২ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করে, যার মধ্যে ৪৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে
📰 বিস্তারিত
রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলায় অবস্থিত নোবেল রেসিডেন্সিয়াল মডেল উচ্চবিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ভালো ফলাফলের কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা অর্জন করেছিল। বিদ্যালয়টির তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৭২ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করে এবং তাদের মধ্যে ৪৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফলাফলের দিক থেকে বিদ্যালয়টি পীরগাছা উপজেলায় প্রথম এবং দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করে।
তবে গত কয়েক মাস ধরে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। একাধিক শিক্ষক বিদ্যালয় ছেড়ে চলে যান এবং পাঠদান কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকরা নিজেদের সন্তানদের অন্যত্র ভর্তির সিদ্ধান্ত নেন। অভিভাবক রঞ্জু মিয়া বলেন, ‘আমার মেয়ে কয়েক মাস পর অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে। এমন সময়ে বিদ্যালয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী চলে গেছে। তাই মেয়েকেও আর এখানে পড়াতে চাচ্ছি না।’
বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে জমি কেনা ও শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে মতবিরোধ চলছিল। বিশেষ করে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মারুফ পারভেজ ও প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমানের মধ্যে এই বিরোধ প্রকট আকার ধারণ করে। এছাড়া দুই বছর আগে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগও বিদ্যালয়ের পরিবেশকে বিষিয়ে তোলে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে এই বিরোধ প্রকাশ্যে আসলে বিদ্যালয়ে বিভাজন তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের একাংশ প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করে, অন্য অংশ তাঁর পক্ষে অবস্থান নেয়।
এই সংকটের মধ্যে প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে বিদ্যালয়ের সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা আল আমিন মিয়াকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আল আমিন মিয়া বলেন, ‘আতাউর রহমান কয়েকজন শিক্ষককে নিয়ে অন্য একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন। ওই অভিযোগ ও তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’
‘শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে এবং সভাপতির আহ্বানে আমি অব্যাহতিপত্র জমা দিয়েছি। আমি চাই, তিলে তিলে গড়ে তোলা আমার প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠানটির সংকট দ্রুত দূর হোক।’ — প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পীরগাছা, রংপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আল আমিন মিয়া, সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫০-২০০ শিক্ষার্থী, ৭২ জন পরীক্ষার্থী, ৪৫ জন জিপিএ-৫, ৫৩৯ জন শিক্ষার্থী, ৩২ জন শিক্ষক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!