📌 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ১০ মাসের কর্মসূচিতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। তবে এর মধ্যে ৬২ লাখ টাকার ভাউচারই জমা দেওয়া হয়নি। নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে সম্পাদকদের বিরুদ্ধে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) বর্তমান কমিটি গত ১০ মাসে ৪২টি কর্মসূচিতে ব্যয় করেছে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা। এর মধ্যে তিনটি কর্মসূচি এখনও চলমান থাকলেও বাকি ৩৯টি কর্মসূচির ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী কর্মসূচি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভাউচার জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। সম্প্রতি কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের নথি বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাকসুর ১০ মাসের ব্যয়: ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা
- 📌 কর্মসূচির সংখ্যা: ৪২টি (৩টি চলমান)
- 📌 অনিয়মিত ভাউচারের পরিমাণ: ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকা
- 📌 সর্বোচ্চ ব্যয়কারী: জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার (২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা)
- 📌 ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের অনিয়মিত ব্যয়: ১২ লাখ ৪০ হাজার ৪০০ টাকা
- 📌 ক্রীড়া সম্পাদক নার্গিস খাতুনের অনিয়মিত ব্যয়: ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ১২৬ টাকা
📰 বিস্তারিত
রাকসুর বর্তমান কমিটির অধীনে গত ১০ মাসে মোট ৪২টি কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচিতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা। কর্মসূচিগুলোর মধ্যে তিনটি এখনও চলমান থাকলেও বাকি ৩৯টির ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী কর্মসূচি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভাউচার জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের নথি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার সর্বোচ্চ ব্যয় করেছেন। তিনি সাত ধাপে মোট ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, 'ভর্তি পরীক্ষার বুথ বসানো কর্মসূচির জন্য প্রাথমিক বাজেট ছিল ৩ লাখ ২ হাজার টাকা। তখন ব্যয়ের ওপর ভ্যাট যোগ করার বিষয়টি জানা ছিল না। ফলে হিসাব সমন্বয় করতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। ছাত্র সাংসদদের জন্য নেওয়া ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকার মধ্যে বিজ্ঞান সম্পাদকের হিসাব না আসায় বিলটি জমা দেওয়া হয়নি। বাকি হিসাব জমা দেওয়া হয়েছে।'
ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ৬ ধাপে ১৩ লাখ ৪০ হাজার ৩২৪ টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১২ লাখ ৪০ হাজার ৪০০ টাকার হিসাব জমা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, 'একেবারে কোনো বিল জমা দেওয়া হয়নি বিষয়টি এমন নয়। এটি দ্রুত দেওয়া ভালো। তবে মেয়াদের মধ্যে জমা দিলেও হবে। আমাদের মেয়াদের এখনও ৬০ দিন বাকি।'
ক্রীড়া সম্পাদক মোছা. নার্গিস খাতুন ৭ ধাপে ১৫ লাখ ৭১ হাজার ৬২৬ টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ১২৬ টাকার ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, 'গত মাসে শুরু হওয়া ছয় কর্মসূচির 'রাকসু গেমস' চলমান থাকায় এই বিল জমা দেওয়া হয়নি।'
অন্যান্য সম্পাদকদের মধ্যে বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর ৬ ধাপে ৮ লাখ ৪২ হাজার ৭৬৫ টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে দুটি ভাউচার জমা দিয়েছেন তিনি। সংস্কৃতি সম্পাদক জাহিদ হোসেন জোহা ৩ ধাপে ৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি এম নাজমুল সাকিব ৩ ধাপে ৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা নিয়েছেন। মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. মুজাহিদ ইসলাম ৩ ধাপে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪৪৮ টাকা নিয়েছেন। মহিলাবিষয়ক সম্পাদক সায়িদা হাফসা ২ ধাপে ১ লাখ ৮৮ হাজার ২৭৬ টাকা নিয়েছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ তোফার ২ ধাপে ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন। পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ কোনো খাত না দেখিয়েই ৮২ হাজার টাকা নিয়েছেন।
'কোনো সরকারি ব্যয় অগ্রিম নেওয়া হলে, সেখানে নির্ধারিত তারিখে হিসাব সমন্বয়ের শর্ত থাকে। একটি বিল সমন্বয়ের পরেই কেবল দ্বিতীয় ধাপের টাকা উত্তোলন করা যায়। কোনো সম্পাদক আগের বিলের হিসাব সমন্বয় ছাড়া পরবর্তী বিল উত্তোলন করলে সেখানে নির্দ্বিধায় আর্থিক অনিয়ম হয়েছে।'
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, ক্রীড়া সম্পাদক নার্গিস খাতুন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা, ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!