📌 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে নির্মাণাধীন হলগুলোর কাজ ১০ বছরে গড়ায়। তিন দফা মেয়াদ বাড়ানো সত্ত্বেও অপরাজিতা হল, বিজয়-৭১ হল ও শিক্ষক কোয়ার্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অসম্পূর্ণ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের আবাসন সঙ্কট আরো তীব্র হচ্ছে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে নির্মাণাধীন হলগুলোর কাজ সাড়ে পাঁচ বছরের মেয়াদে শেষ করার কথা থাকলেও তা হয়নি। প্রকল্পের মেয়াদ তিন দফায় বাড়িয়ে ১০ বছরে গড়ায়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসন সঙ্কট আরও গভীর হয়ে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১০ বছরে গড়া প্রকল্প: ২০১৭ সালে অনুমোদিত ৩৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকার প্রকল্পের কাজ ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
- 📌 অসম্পূর্ণ কাজ: বিজয়-৭১ হলের ৯৬% কাজ শেষ হলেও অনুমোদনের কারণে বাকি, অপরাজিতা হলের ৭০% কাজ শেষ হলেও ফিনিশিংসহ কাজ বাকি।
- 📌 আবাসন সঙ্কট: হলগুলো চালু না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া থেকে পড়াশোনা করতে হচ্ছে।
- 📌 নির্মাণে অনিয়ম: শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হলের ছাদ ধসে পড়ার অভিযোগ ও নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
- 📌 মেয়াদ বাড়ানোর কারণ: করোনা, শ্রমিকের মৃত্যু, ধীরগতি ও অনুমোদনের কারণে প্রকল্পে বিলম্ব হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
২০১৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৩৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের আওতায় অপরাজিতা হল (শেখ হাসিনা হল), বিজয়-৭১ হল, ১০ তলা শিক্ষক কোয়ার্টার, ২০ তলা অ্যাকাডেমিক ভবন, ড্রেন নির্মাণ ও শেখ রাসেল মডেল স্কুলসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে প্রকল্পের বাজেট সংশোধন করে ৫১০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা অনুমোদন করা হয়।
প্রকল্পের কাজ শেষ করার জন্য প্রাথমিকভাবে ২০২২ সালের জুন নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু করোনা মহামারি, একটি শিক্ষার্থী ও দুই শ্রমিকের মৃত্যু, নির্মাণকাজে ধীরগতি ও অন্যান্য কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। প্রথম দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর, দ্বিতীয় দফায় ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সর্বশেষ তৃতীয় দফায় মেয়াদ আবারো বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার (ভারপ্রাপ্ত) পরিচালক প্রকৌশলী এস এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “বিজয়-৭১ হলের প্রায় ৯৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। হলটির সামান্য কিছু কাজ বাকি রয়েছে, যা মূলত প্রয়োজনীয় অনুমোদনের কারণে আটকে আছে। হলটিতে একটি পাম্প স্থাপনের প্রয়োজন হলেও তা মূল প্রাক্কলনে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ফলে অনুমোদন ছাড়া পাম্প স্থাপন করা যাচ্ছে না।” তিনি আরও বলেন, হলটি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অপরাজিতা হলের নির্মাণকাজ প্রায় ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। হলটির নয় তলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে, তবে ফিনিশিংসহ বেশ কিছু কাজ বাকি রয়েছে। নির্মাণকাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্য বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার অ্যাসোসিয়েট লিমিটেড জড়িত।
শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হলের নির্মাণকাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড জড়িত। ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি হলটির একটি অংশের ছাদ ধসে পড়ে। এরপর হলটির বিভিন্ন দেয়াল ও পিলারে ফাটল দেখা দেয়ার অভিযোগ ওঠে। মেরামতের পরও পলেস্তারা খসে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে পরিচালক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, নির্মাণকাজ পরিদর্শনের পর গুরুতর কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি।
"বিজয়-৭১ হলের প্রায় ৯৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। হলটির সামান্য কিছু কাজ বাকি রয়েছে, যা মূলত প্রয়োজনীয় অনুমোদনের কারণে আটকে আছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রকৌশলী এস এম ওবায়দুল ইসলাম (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ বছর (মেয়াদ), ৩৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা (প্রাথমিক বাজেট), ৫১০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা (সংশোধিত বাজেট), ৯৬% (বিজয়-৭১ হলের কাজ), ৭০% (অপরাজিতা হলের কাজ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!