📌 নেত্রকোনা সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগে মাত্র দুজন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও সাড়ে ছয় হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদান সংকটের মুখে পড়েছে। শিক্ষকসংকটের কারণে নিয়মিত ক্লাসের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট কোচিংয়ে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
নেত্রকোনা সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগে মাত্র দুজন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও সাড়ে ছয় হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদান সংকটের মুখে পড়েছে। শিক্ষকসংকটের কারণে নিয়মিত ক্লাসের সংখ্যা এক থেকে দুটিতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেত্রকোনা সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগে মাত্র দুজন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও সাড়ে ছয় হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদান সংকটের মুখে পড়েছে।
- 📌 ইংরেজি বিভাগে অনুমোদিত চারটি পদে শুধু দুজন শিক্ষক কর্মরত, যার মধ্যে সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপকের পদ দুটি প্রায় আট বছর ধরে শূন্য রয়েছে।
- 📌 প্রতিদিন ৩৯টি ক্লাসের প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে মাত্র এক থেকে দুটি ক্লাস হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য যথেষ্ট নয়।
- 📌 শিক্ষকসংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট ও কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
- 📌 কলেজে ১৫ হাজার ৪৫৪ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, কিন্তু অনুমোদিত শিক্ষকের পদ মাত্র ৬৫টি, যার মধ্যে ২৯টি পদ শূন্য রয়েছে।
- 📌 শিক্ষকসংকট দূর করতে ১৭০টি নতুন শিক্ষক পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে, কিন্তু অনুমোদন পাওয়া যায়নি।
📰 বিস্তারিত
নেত্রকোনা সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী খুসবো তারান্নুমের কথা অনুযায়ী, প্রতিদিন আটটি ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষকসংকটের কারণে নিয়মিত এক থেকে দুটি ক্লাসের বেশি হয় না। অনুরূপভাবে, চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান আহমেদের নয়টি ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও গড়ে মাত্র একটি ক্লাস হয়। এই সংকটের কারণে ইংরেজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
বিভাগের প্রভাষক কাজী আশরাফুন হুমায়রা জানান, ইংরেজি সম্মান শ্রেণিতে প্রতিদিন ২৭টি, স্নাতকোত্তরে ৭টি এবং উচ্চমাধ্যমিক, ডিগ্রি ও অন্যান্য পর্যায়ে ক্লাসও রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩৯টি ক্লাসের প্রয়োজন হয়। এতে কম করে হলেও ১২ জন শিক্ষক থাকা দরকার। তবে বর্তমানে মাত্র দুজন শিক্ষক এবং তিনজন অতিথি শিক্ষক নিয়ে ক্লাস চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষকসংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের যতটুকু পাঠদান প্রয়োজন, তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পাঠ দিতে না পারায় নিজেকে অপরাধী মনে হয়।
কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. আবদুল কাদির ফকির জানান, নেত্রকোনা সরকারি কলেজের মতো অন্যান্য কলেজে প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষকের পদ সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু নেত্রকোনা সরকারি কলেজে তা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, কলেজে শিক্ষকের প্রয়োজন ২৩৭ জন, কিন্তু বর্তমানে কর্মরত শিক্ষক মাত্র ৩৬ জন। অধ্যক্ষ মো. আবু তাহের খান বলেছেন, শিক্ষকসংকটের সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না।
শিক্ষকসংকটের কারণে অন্যান্য বিভাগেও সমস্যা চলছে। গণিত বিভাগে অনুমোদিত চারটি পদের বিপরীতে শিক্ষক আছেন দুজন, প্রাণিবিদ্যায় চারটি পদের মধ্যে দুজন শিক্ষক কর্মরত। এছাড়াও, কিছু বিষয়ে বাইরে থেকে অতিথি শিক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে।
"শিক্ষকসংকটের কারণে যে কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে, তা বলে শেষ করা যাবে না। শিক্ষার্থীদের যতটুকু পাঠদান প্রয়োজন, তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পাঠ দিতে না পারায় নিজেকে অপরাধী মনে হয়।"
— কাজী আশরাফুন হুমায়রা, ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেত্রকোনা সরকারি কলেজ, নেত্রকোনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কাজী আশরাফুন হুমায়রা, মো. আবদুল কাদির ফকির, মো. আবু তাহের খান
- 📌 শিক্ষার্থী সংখ্যা: সাড়ে ছয় হাজার (ইংরেজি বিভাগ), ১৫ হাজার ৪৫৪ জন (সকল বিভাগ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ জন (প্রয়োজনীয় শিক্ষক), ৩৯টি (প্রতিদিনের ক্লাস), ২৩৭ জন (শিক্ষকের প্রয়োজন), ৬৫টি (অনুমোদিত শিক্ষকের পদ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!