📌 জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আমানুল্লাহ বলেছেন, ৪০ লাখ শিক্ষার্থী নিয়ে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করা চ্যালেঞ্জিং। তিনি জানান, সিলেবাস আধুনিকীকরণ, ডিজিটাল দক্ষতা ও শিল্পসংযোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববাজার উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেছেন, ৪০ লাখ শিক্ষার্থী নিয়ে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করা একটি বিশাল দায়িত্ব। তিনি জানান, গত দুই বছরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করার চ্যালেঞ্জ ছিল অন্যতম বড়। গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা ট্রমাটাইজড ছিলেন, কিন্তু বর্তমানে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০% শিক্ষার্থী দেশের উচ্চশিক্ষার মোট জনশক্তি — তাদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন চ্যালেঞ্জিং
- 📌 ৫ লাখ শিক্ষার্থী বছরে পাস করে বের হন, কিন্তু তাদের চাকরি পাওয়ার সুনির্দিষ্ট ডেটা নেই — গবেষণা চলছে
- 📌 সিলেবাস আধুনিকীকরণের কাজ চলছে, কিন্তু বর্তমান কারিকুলাম "মান্ধাতা আমলের" বলে আমানুল্লাহ
- 📌 ডিজিটাল দক্ষতা (কোডিং, এআই, সাইবার সিকিউরিটি) বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা — বছরে ২ লাখ দক্ষ শিক্ষার্থী তৈরির লক্ষ্য
- 📌 ১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, আইসিটি ও ইউনিসেফ সহযোগিতায়
📰 বিস্তারিত
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেছেন, উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান বললে কম বলা হয়। এটা দেশের উচ্চশিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। দেশের ৭০ শতাংশ উচ্চশিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পড়াশোনা করে। এই বিপুল জনশক্তিকে বিশ্ববাজার উপযোগী করে গড়ে তোলা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তিনি জানান, ২০২৪ সালের আগস্টের পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করার চ্যালেঞ্জ ছিল অন্যতম বড়। গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ট্রমাটাইজড ছিলেন, কিন্তু বর্তমানে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিবছর প্রায় ৫ লাখ শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বের হন। তবে তাদের মধ্যে কত শতাংশ চাকরি পায়, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। বর্তমানে ইউনিসেফের সহযোগিতায় একটি গবেষণা চলছে, যার ফলাফল জানার পর সম্ভবত এই তথ্য পাওয়া যাবে। তবে বিভিন্ন গবেষণা থেকে অনুমান করা হয়, প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী চাকরি পায়।
উপাচার্য আমানুল্লাহ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা লক্ষ্য ছিল স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠ্যক্রম আধুনিকীকরণ এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন। কিন্তু বর্তমান সিলেবাস "মান্ধাতা আমলের" বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, "আমরা বলি ৪০ লাখ শিক্ষার্থী, আসলে তারা পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা দিচ্ছে, ডিগ্রি নিচ্ছে। বিশ্ব যখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছে, তখনো আমাদের কারিকুলাম পুরোনো আমলের।"
তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতায় সিলেবাস ও কারিকুলাম উন্নয়নের কাজ চলছে। কলেজগুলোর ল্যাবরেটরি আধুনিকীকরণ ও ভর্তি পরীক্ষা চালু করার মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে ঢেলে সাজানোর কর্মযজ্ঞ চলছে।
শিক্ষার্থীদের বিশ্ববাজার উপযোগী করার জন্য আমানুল্লাহ বলেন, "আমূল সংস্কারের পরিকল্পনা আছে। আউটকাম-বেজড এডুকেশনের ওপর জোর দিচ্ছি। মৌলিক ডিজিটাল দক্ষতা যেমন ডেটা অ্যানালাইসিস, কোডিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, এআই কোর্স বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে, যেন শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ বা অন দ্য জব ট্রেনিংয়ের সুযোগ তৈরি হয়। ইংরেজি ও আইসিটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল কমিউনিকেশন, লিডারশিপ ও ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি — এসব আধুনিক বিষয়ও পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।"
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, "সারা দেশে ১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, এটুআই, আইসিটি ডিভিশন ও ইউনিসেফ বাংলাদেশ সহযোগিতা দিচ্ছে। আইসিটির জন্য ৪৯ জন কোর ট্রেইনার, ৮৪০ জন মাস্টার ট্রেইনারসহ মোট ৯৩০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।"
"আমরা বলি ৪০ লাখ শিক্ষার্থী। আসলে শিক্ষার্থী নয়, পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা দিচ্ছে, ডিগ্রি নিচ্ছে। বিশ্ব যখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছে, তখনো আমাদের সেই পুরোনো আমলের কারিকুলামে আটকে থাকতে হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়), রাজশাহী, চট্টগ্রাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. এ এস এম আমানুল্লাহ (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ লাখ (শিক্ষার্থী), ২ বছর (দায়িত্বকাল), ৭০% (উচ্চশিক্ষার্থী), ৫ লাখ (বছরে পাস), ৭০% (চাকরি পাওয়ার হার), ২ লাখ (বছরে দক্ষ শিক্ষার্থী), ১২ হাজার (শিক্ষক প্রশিক্ষণ), ৯৩০ জন (ট্রেইনার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!