📌 দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা নওগাঁর লিটন বাবু আলোর পাঠশালার সহায়তায় নার্সিং পড়ছেন। বর্তমানে রাজশাহীর হেলথ কেয়ার নার্সিং কলেজে চূড়ান্ত বর্ষে অধ্যয়নরত তিনি নিজের পড়াশোনার খরচ নিজেই চালাচ্ছেন
দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলেছেন নওগাঁ জেলার গুড়িহারী-কামদেবপুর এলাকার মো. লিটন বাবু। বাবা ভ্যান চালিয়ে পরিবার চালানোর চেষ্টা করলেও খরচের অভাবে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যেতে বসেছিল। কিন্তু আলোর পাঠশালার সহায়তায় তিনি জেএসসি থেকে এইচএসসি পর্যন্ত উত্তীর্ণ হন এবং বর্তমানে রাজশাহীর হেলথ কেয়ার নার্সিং কলেজে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কোর্সের চূড়ান্ত বর্ষে অধ্যয়ন করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 লিটন বাবু নওগাঁর গুড়িহারী-কামদেবপুর এলাকার ভ্যানচালক মো. আমিনুর রহমান এর সন্তান।
- 📌 ২০১৬ সালে আলোর পাঠশালায় ভর্তি হওয়ার পর থেকে তিনি জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।
- 📌 বর্তমানে তিনি রাজশাহীর হেলথ কেয়ার নার্সিং কলেজে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কোর্সের চূড়ান্ত বর্ষে অধ্যয়ন করছেন।
- 📌 নিজের পড়াশোনার খরচ নিজেই চালানোর জন্য তিনি পার্টটাইম চাকরি, টিউশন, ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস এবং আল্ট্রাসোনোগ্রাফি রিপোর্ট তৈরির কাজ করছেন।
- 📌 বাবা আমিনুর রহমান বলেছেন, ‘আমি গরিব মানুষ, জমি নেই। ভ্যান চালিয়ে পড়ার খরচ দিতে পারি না। ছেলেই কষ্ট করে নিজের পড়ার খরচ চালাচ্ছে।’
- 📌 লিটন বলেছেন, ‘আমার ছোটবেলা থেকেই মানবসেবার লক্ষ্য ছিল। আলোর পাঠশালা ও শিক্ষকদের সহযোগিতা না পেলে আমি এতদূর আসতে পারতাম না।’
📰 বিস্তারিত
মো. লিটন বাবু তার শৈশব কেটেছে অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে। বাবা মো. আমিনুর রহমান ভ্যান চালিয়ে পরিবার চালানোর চেষ্টা করলেও খরচের অভাবে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যেতে বসেছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত আলোর পাঠশালায় সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকে তার ভাগ্যের চাকা ঘুরতে শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির সহযোগিতা ও শিক্ষকদের দিকনির্দেশনায় তিনি জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।
বর্তমানে রাজশাহীর হেলথ কেয়ার নার্সিং কলেজে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কোর্সের চূড়ান্ত বর্ষে অধ্যয়নরত লিটন নিজের পড়াশোনার খরচ নিজেই চালাচ্ছেন। তিনি পার্টটাইম চাকরি, টিউশন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস এবং স্থানীয় দুটি হাসপাতালে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি রিপোর্ট তৈরির কাজ করছেন।
ছেলের এই সাফল্যে আনন্দিত বাবা আমিনুর রহমান বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ, জমি বলতে কিছুই নেই। ভ্যান চালিয়ে পড়ার খরচ দিতে পারি না। ছেলেই কষ্ট করে নিজের পড়ার খরচ চালাচ্ছে। আল্লাহ যেন ওর ইচ্ছা পূরণ করেন।’
লিটন বলেন, ‘আমার ছোটবেলা থেকেই মানবসেবার লক্ষ্য ছিল। সেবক হয়ে গরিব-দুঃখী মানুষকে বিনামূল্যে সেবা দেবার ইচ্ছা ছিল। আলোর পাঠশালা ও শিক্ষকদের সহযোগিতা না পেলে আমি এতদূর আসতে পারতাম না।’
"আমার ছোটবেলা থেকেই মানবসেবার লক্ষ্য ছিল। আলোর পাঠশালা ও শিক্ষকদের সহযোগিতা না পেলে আমি এতদূর আসতে পারতাম না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নওগাঁ জেলার গুড়িহারী-কামদেবপুর এলাকা, রাজশাহী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. লিটন বাবু, মো. আমিনুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০১৬ (আলোর পাঠশালায় ভর্তি), চূড়ান্ত বর্ষ (বর্তমান অধ্যয়ন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!