📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে গান-নাচের আপত্তি তুলে কওমি ছাত্ররা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান স্থগিতের দাবি জানিয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে কোনো কনসার্টের ঘোষণা নেই, তবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে গানবাজনা ও নাচানাচির আপত্তি তুলে জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান স্থগিতের দাবি জানিয়েছে। তারা দাবি করেছে, যদি অনুষ্ঠানে গান ও নাচের আয়োজন হয়, তাহলে তাদের আপত্তি থাকবে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, কোনো কনসার্টের ঘোষণা দেওয়া হয়নি এবং অনুষ্ঠান হবে সাংস্কৃতিক প্রকৃতির।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে কওমি ছাত্ররা গান-নাচ বন্ধের দাবি জানিয়েছে
- 📌 ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া নবীনবরণে তিন ধাপে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে: একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৃক্ষরোপণ
- 📌 কলেজ অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমানের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়, যেখানে কনসার্টের আপত্তি তুলে ধরা হয়েছে
- 📌 জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের কাছেও স্মারকলিপি পৌঁছেছে
- 📌 ২০২৬ সালের ১৮ আগস্টে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা স্মরণ করে কওমি ছাত্ররা সতর্কতা জানিয়েছে
📰 বিস্তারিত
শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য ফুযায়েল আহমেদ খান স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওবায়দুর রহমানের কাছে জমা দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে ১৪ সেপ্টেম্বর নবীনবরণ উপলক্ষে কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কওমি ছাত্ররা দাবি করেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবীনবরণের আয়োজন অবশ্যই আনন্দময় ও উৎসবমুখর হতে পারে, তবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যেন শিক্ষার পরিবেশ, সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা এবং এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়।
ফুযায়েল আহমেদ খান প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বলতে গানবাজনা ও নাচানাচি বোঝানো হয় না। আমরা চাই না, কলেজে গানবাজনা ও নাচানাচির নামে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এর আগেও কলেজে কনসার্ট হয়েছিল, তখন এক তরুণী ইভ টিজিংয়ের শিকার হয়েছিলেন। এরপর কনসার্ট বন্ধ হয়ে গেছে।’ তিনি আরও জানান, কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করলে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করে বিষয়টি সমাধান করার কথা বলেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের কাছেও স্মারকলিপি পৌঁছেছে। খালেদ হোসেন মাহবুব বলেছেন, ‘আমরা তিনটি ধাপে অনুষ্ঠান করব। প্রথম ধাপে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীনবরণ, দ্বিতীয় ধাপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও তৃতীয় ধাপে বৃক্ষরোপণ। কোনো কনসার্টের ঘোষণা আমরা দিইনি। আমরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করব। আমরা সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করব। আমরা চাই না, জেলায় কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।’
কলেজের অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘১৪ সেপ্টেম্বর আমরা তিনটি ধাপে অনুষ্ঠান করব। প্রথম ধাপে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠান, দ্বিতীয় ধাপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও তৃতীয় ধাপে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। এখানে কোনো কনসার্ট হবে, এমন ঘোষণা আমরা দিইনি। আমরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করব।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, পুলিশ কোনো স্মারকলিপি পায়নি। তিনি বলেন, ‘স্মারকলিপি পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেভাবেই পুলিশ কাজ করবে।’
২০২৬ সালের ১৮ আগস্ট রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়। এর আগে ৩০ মে জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের শিক্ষার্থীদের আপত্তির মুখে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমাটির প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যায়।
"সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বলতে গানবাজনা ও নাচানাচি বোঝানো হয় না। আমরা চাই না, কলেজে গানবাজনা ও নাচানাচির নামে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফুযায়েল আহমেদ খান, ওবায়দুর রহমান, খালেদ হোসেন মাহবুব, সিরাজুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন, মো. শহীদুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ সেপ্টেম্বর, ১৮ আগস্ট, ৩০ মে, ১২:৩০ টা, ৩ ধাপ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!