📌 কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকটে শিক্ষার্থীদের শহীদ মিনার, টিনের ছাপড়া ও খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে হচ্ছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ না পাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই সমস্যা
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার খরখরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়টির পুরোনো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রায় ১০ মাস আগে তা ভেঙে ফেলা হয়। নতুন ভবনের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হলেও এখনো বরাদ্দ মেলেনি। ফলে বিদ্যালয়টির ১৮১ শিক্ষার্থীকে শহীদ মিনার, টিনের ছাপড়া ও খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিদ্যালয়টির পুরোনো ভবনটি ২০২৫ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে ভেঙে ফেলা হয়
- 📌 নতুন পাঁচ কক্ষবিশিষ্ট ভবনের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হলেও এখনো বরাদ্দ মেলেনি
- 📌 বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১০ জন শিক্ষক ও ১৮১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে
- 📌 শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনার, টিনের ছাপড়া ও খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করছে
- 📌 নতুন ভবনের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে
📰 বিস্তারিত
চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের জোড়গাছ এলাকায় অবস্থিত খরখরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। বিদ্যালয়টির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। পুরোনো ভবনটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০২৫ সালে এলজিইডি তা ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। একই বছরের ১২ নভেম্বর নিলামের মাধ্যমে ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর থেকে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ সংকটে পড়তে হচ্ছে।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. নুর মোস্তফা জানান, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে নিলামের মাধ্যমে ভেঙে ফেলা হয়েছে। নতুন ভবনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তবে অনুমোদন না আসা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে দুটি টিনের ছাপড়া ঘরের ব্যবস্থা করে পাঠদান চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১০ জন শিক্ষক রয়েছেন যারা ১৮১ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করছেন। পুরোনো ভবনটির একটি কক্ষ অফিস ও অন্যটি পঞ্চম শ্রেণির শ্রেণিকক্ষ হিসাবে ব্যবহৃত হতো। শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পিইডিপি-২ প্রকল্পের আওতায় আরও দুই কক্ষের একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার ও জয়ন্তি রাণী জানায়, সোমবার তারা বসে থাকা অবস্থায় বাতাসে ছাপড়ার একটি টিন খুলে তাদের ওপর পড়ে। অল্পের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। অভিভাবক জহুরুল ইসলাম বলেন, রোদ ও গরমের মধ্যে শিশুরা ক্লাস করছে। বৃষ্টি হলে ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, নতুন ভবনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আরও কক্ষ নির্মাণের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় ভবন নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। শিগগির পিইডিপি-৫ প্রকল্প চালু হবে। তখন বিদ্যালয়টির নতুন ভবনের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বরাদ্দ পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
"ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে নিলামের মাধ্যমে ভেঙে ফেলা হয়েছে। নতুন ভবনের বরাদ্দ পেতে দেরি হওয়ায় দুটি ছাপড়া ঘরের ব্যবস্থা করে পাঠদান চালু রাখা হয়েছে। তবে সব শ্রেণির জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ করা সম্ভব হয়নি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চিলমারী, কুড়িগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধান শিক্ষক মো. নুর মোস্তফা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮১ (শিক্ষার্থী), ১০ (শিক্ষক), ৩ (লাখ টাকা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!