📌 রাজশাহীতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে বাবা হারানোর পরও মায়ের জন্য জীবনকে জয়ের গল্পে রূপান্তরিত করে আনিকা কবিরের সাফল্য আলোচিত। শিক্ষা বোর্ডের মডেল স্কুলে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে ৬৪ জেলা থেকে ৫.০০ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
মায়ের একমাত্র আশা হয়ে উঠেছেন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী আনিকা কবির। রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তার গল্প শুনে উপস্থিতদের চোখ ছলছল করে ওঠে। বাবা হারানোর পরও জীবনের প্রতিকূলতা মাড়িয়ে প্রথম পাবলিক পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করে তিনি মঞ্চে উঠতে পেরেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আনিকা কবিরের বাবা হারানোর পর মায়ের একমাত্র আশা হয়ে উঠেছেন তিনি, যিনি জিপিএ-৫ পেয়ে মঞ্চে উঠেছেন
- 📌 রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে ৬৪ জেলা থেকে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ
- 📌 শিক্ষা বোর্ডের মডেল স্কুলে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষক ও বক্তারা দক্ষতা ও সামাজিক দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন
- 📌 অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিঝুম ও আরাফাতের সাফল্য গল্পও শোনানো হয়
- 📌 অনুষ্ঠানে শিল্পী অনীক সূত্রধরের সঙ্গে মঞ্চে গান গেয়েছেন রাজশাহী শিক্ষার্থী হুমায়রা তাপসী
📰 বিস্তারিত
‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ এই স্লোগানের অধীনে বাংলাদেশের ৬৪ জেলা থেকে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে আনিকা কবিরের গল্প বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। তিনি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে হারান। তারপর থেকে জীবনের প্রতিকূলতা মাড়িয়ে তিনি প্রথম পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। অনুষ্ঠানে তার কথা শুনে উপস্থিতদের চোখ ছলছল করে ওঠে।
প্রথম আলোর আয়োজনে ও শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। পাওয়ার্ড বাই বিকাশ, কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা-গ্রী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়েছে।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল ও কলেজের মাঠে অনুষ্ঠিত এই সম্মাননা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা সকাল আটটা থেকে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হতে শুরু করেন। তারা হাতে প্রথম আলোর ক্রেস্ট এবং মাথায় লাল টুপি পরিয়ে মাঠে ছড়িয়ে পড়েন। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের মূল পর্ব শুরু হয়। প্রথম আলোর রাজশাহীর নিজস্ব প্রতিবেদক আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ স্বাগত বক্তব্য দেন এবং প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের লিখিত বক্তব্য পড়েন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-উপাচার্য ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, “আজকে এখানে রাজশাহীর শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা সংবর্ধনা নিতে এসেছে। তোমাদের মতো মেধাবীরাই দেশের এই পরিবর্তনে এগিয়ে এসেছে। তোমাদের এই সাফল্য আমাদের আশাবাদী করে। তোমরাও এটা পারবে।” শিক্ষা বোর্ডের অধ্যক্ষ মো. শাহাদাত হোসেন সরকার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “তোমরা তথ্যপ্রযুক্তি যুগের মানুষ। এআই তোমাদের সামনে অনেক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। তোমরা এটাকে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে না নিয়ে দক্ষতা উন্নয়নের চর্চা করো, জীবনের সফলতা আসবে। তোমাদের মেধা ও যোগ্যতাকে দেশের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে হবে।”
"আমি শুধু আমার মায়ের জন্য বেঁচে আছি এবং এই অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠতে পেরেছি"
প্রথম আলোর উপসম্পাদক এ কে এম জাকারিয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন করাও জরুরি। শিক্ষার্থীদের প্রকৃত লড়াইটা শুরু হবে পেশাগত জীবনে ঢোকার সময়। তখন শুধু একাডেমিক পড়াশোনা নয়, এর বাইরের পড়াশোনাটাও জরুরি হয়ে পড়ে। কারণ, ওইটাই একজন শিক্ষার্থীকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করে।” অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ঔড়ব আজাদ ও প্রীতি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল ও কলেজ মাঠ, রাজশাহী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আনিকা কবির, মো. শাহাদাত হোসেন সরকার, ফরিদ উদ্দিন খান, আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৪ জেলা, জিপিএ-৫.০০
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!