📌 জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মমতাজ আরা বর্ষাকে র্যাব পরিচয়ে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। সাবেক ভগ্নিপতি সুমন মিয়া পারিবারিক বিরোধের প্রতিশোধ নিতে এই অপহরণ চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী মমতাজ আরা বর্ষাকে র্যাব পরিচয়ে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে পুরান ঢাকার কলতাবাজারে। ভুক্তভোগী মমতাজ আরা বর্ষা দাবি করেছেন, তার সাবেক ভগ্নিপতি সুমন মিয়া পারিবারিক বিরোধের প্রতিশোধ নিতে এই অপহরণ চেষ্টা করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬ সেপ্টেম্বর সকালে কলতাবাজারের জনসন রোডে জবি শিক্ষার্থী মমতাজ আরা বর্ষাকে র্যাব পরিচয়ে অপহরণ চেষ্টার ঘটনা ঘটে।
- 📌 ভুক্তভোগী মমতাজ আরা বর্ষা দাবি করেছেন, সাবেক ভগ্নিপতি সুমন মিয়া পারিবারিক বিরোধের প্রতিশোধ নিতে এই অপহরণ চেষ্টা করেছেন।
- 📌 ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী মমতাজ আরা বর্ষাকে র্যাবের পরিচয় দিয়ে অপহরণের চেষ্টা করা হয়।
- 📌 ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিমের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
- 📌 সাবেক ভগ্নিপতি সুমন মিয়া র্যাবের আইটি সেকশনে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
- 📌 ৩০ লাখ টাকা চুরির মামলার কথা বলে অপহরণ চেষ্টার সময় শিক্ষার্থীকে গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়।
📰 বিস্তারিত
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কলতাবাজারের জনসন রোডের লবণের গুদাম গলির একটি ছাত্রী মেসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মমতাজ আরা বর্ষাকে র্যাব পরিচয়ে অপহরণের চেষ্টা করা হয়। ভুক্তভোগী মমতাজ আরা বর্ষা দাবি করেছেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে তাঁর বোনের সাবেক স্বামী সুমন মিয়া প্রতিশোধ নিতে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।
মমতাজ আরা বর্ষা বলেছেন, চলতি বছরের মে মাসে তাঁর ছোট বোনের সঙ্গে সুমন মিয়ার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকেই সাবেক ভগ্নিপতি সুমন তাদের পরিবার ও তাঁর বোনকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গত মাসে (আগস্ট) দিনাজপুর জজকোর্টে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। এরপর ফোনে ও মেসেজের মাধ্যমে হুমকি দেয়। আমার সাবেক ভগ্নিপতি সুমন মিয়া র্যাবের আইটি সেকশনে দীর্ঘদিন কাজ করেছে। সে র্যাবের সেই পরিচয় ব্যবহার করে আমাকে অপহরণের চেষ্টা করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করায় সে প্রতিশোধ নিয়েছে।’
ভুক্তভোগী আরও বলেন, ‘খুব ভোরে সিভিল ড্রেসে কয়েকজন এসে আমাদের ফ্ল্যাটের দরজায় নক করে। অপরিচিত তাই আমরা দরজা খুলিনি। পরে তারা র্যাবের পরিচয় দেয়। কিন্তু কোনো আইডি কার্ড ও মামলা কিংবা ওয়ারেন্ট তারা দেখাতে পারেনি। তারা বিশ্রী ভাষায় আমাদের সঙ্গে ব্যবহার করে। আমরা বারবার ওয়ারেন্ট দেখাতে বললেও তারা ওয়ারেন্ট ছাড়াই আমাকে তুলে নিতে চায়। আমার বাসাও সার্চ করে। কিন্তু কোনো নারী র্যাব সদস্য ছিল না। পুরুষ সদস্যরা কীভাবে নারীদের মেস সার্চ করে? ওয়ারেন্ট ছাড়া কীভাবে আমাকে তুলে নিতে চায়?’
প্রত্যক্ষদর্শী ও মমতাজের মেসমেট মেঘলা আক্তার বলেন, ‘র্যাবের পরিচয় দিয়ে কয়েকজন সিভিল ড্রেসের মানুষ আসছিল। তখন পৌনে ছয়টা বাজে। এত ভোরে আসছে। আমাদের সঙ্গে খুবই রাফ অ্যান্ড টাফ ব্যবহার করছিল। বলতেছে, এখানে নাকি সার্চ করবেন। আমরা বললাম, সার্চ করবেন ভালো কথা, ভালো করে বলতে হবে না? যেহেতু মেয়েদের মেস, আমাদের সঙ্গে সুন্দর করে কথা বলতে হবে। কিন্তু তাঁরা খুবই অসংযত হয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলছিল।’
মেঘলা আক্তার আরও জানান, ‘দরজার লক পা দিয়ে, হাত দিয়ে ভেঙে ফেলবে এ রকম একটা ব্যাপার। আমরা বললাম, আপনারা আমাদের বাড়িওয়ালাকে নিয়ে আসেন। কিন্তু তাঁরা তা করেনি। ততক্ষণে আমরা ইউনিভার্সিটির যত মানুষজন ছিল, টিচারসহ সবাইকে বিষয়টি জানাই।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সকালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফোন পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই এবং সূত্রাপুর থানার ওসিকে বিষয়টি জানাই। পরে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা ঘটনাস্থলে আসেন। র্যাবের পরিচয়ে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে প্রথমে সন্দেহ তৈরি হলেও পরে সেখানে র্যাবের সদস্যরা আসেন। শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিমের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আহমেদ ইহসানুল কবির বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার পর আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, একজন শিক্ষার্থীকে র্যাবের গাড়িতে তোলা হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলি এবং শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলি।’
"আমি আমার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলতাবাজার, পুরান ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মমতাজ আরা বর্ষা, সুমন মিয়া, মেঘলা আক্তার, আহমেদ ইহসানুল কবির, মোস্তাফিজুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ, ৩০ লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!