📌 নাটোরের প্রত্যন্ত গ্রামের কৃষকপুত্র মো. জাহেদ হাসান তিনবার বিসিএস পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার পর ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। করোনাকালীন বেকারত্ব থেকে নিজেকে ঘুরে দাঁড় করানোর গল্প তুলে ধরেছেন তিনি
নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া মো. জাহেদ হাসান নিজের জীবনের কঠোর সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরেছেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। করোনাকালীন টিউশনি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়লে শুরু করেন বিসিএস প্রস্তুতি। তিনবার ব্যর্থতার পর অবশেষে ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে কৃষক পরিবারে জন্ম মো. জাহেদ হাসানের
- 📌 জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন
- 📌 করোনাকালীন টিউশনি হারিয়ে বেকার হওয়ার পর শুরু করেন বিসিএস প্রস্তুতি
- 📌 ৪৩তম, ৪৪তম ও ৪৫তম বিসিএসে কাঙ্ক্ষিত ক্যাডার না পাওয়ার পরেও থেমে থাকেননি
- 📌 ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন জাহেদ
📰 বিস্তারিত
মো. জাহেদ হাসান জানান, তাঁর শৈশব কেটেছে নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে। সেখানে বিদ্যুৎ না থাকায় হারিকেন বা কুপির আলো জ্বেলে পড়াশোনা করতেন তিনি। তাঁর বাবা একজন কৃষক এবং মা গৃহিণী। দুই ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। ছোটবেলা থেকেই সংসারের কাজে বাবা-মাকে সাহায্য করতেন তিনি।
২০১০ সালে নূরপুর মালঞ্চি উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে রাজশাহী কলেজে ভর্তি হয়ে মেসে থেকে পড়াশোনা করেন। ২০১২ সালে এইচএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পান তিনি। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিলেও কাঙ্ক্ষিত সুযোগ মেলেনি। অবশেষে ২০১৩ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে ভর্তি হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পাশাপাশি টিউশনি শুরু করেন জাহেদ। ধীরে ধীরে শিক্ষার্থী বাড়তে থাকলে পার্শ্ববর্তী এলাকায় রুম ভাড়া নিয়ে ব্যাচ আকারে পড়ানো শুরু করেন। করোনাকালীন সব টিউশনি বন্ধ হয়ে গেলে তিনি বেকার হয়ে পড়েন। এরপর থেকেই শুরু করেন বিসিএস প্রস্তুতি।
তিনি জানান, ৪৩তম বিসিএসে প্রথম আবেদন করেন। তাঁর বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ ভাই এবং সহধর্মিণী তাঁকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত করেছিলেন। দীর্ঘদিনের টিউশনির সুবাদে বিজ্ঞান, গণিত ও মানসিক দক্ষতায় আলাদা প্রস্তুতি নিতে হয়নি তাঁকে। অন্য বিষয়গুলো পরীক্ষার এক মাস আগে প্রচুর মডেল টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি নেন।
তিনি কখনোই কোনো কোচিং সেন্টারে ভর্তি হননি। পরিবারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিসিএস প্রস্তুতি শুরু করেন। সন্তান ও পরিবারকে সময় না দিয়ে রাতে পড়াশোনা আর দিনে ঘুমিয়ে সংসার চালাতেন। প্রায় ১৩-১৪ ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন তিনি।
৪৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন তুলনামূলক কঠিন হওয়ায় ভাইভাও আশানুরূপ না হওয়ায় ফলাফল নিয়ে তাঁর কোনো প্রত্যাশা ছিল না। ফল প্রকাশের প্রায় ২০ মিনিট পর এক সহকর্মী ফোন করে রেজাল্ট প্রকাশের খবর দেন। পিডিএফ ডাউনলোড করে রোল মেলাতেই চোখ আটকে যায়—তিনি বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন!
"সব নিশ্চিত হয়ে আমি ও আমার সহধর্মিণী অতীতের সব কষ্টের কথা মনে করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। বাবাকে ফোন করে জীবনের এই সবচেয়ে বড় আনন্দের খবরটি জানাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. জাহেদ হাসান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৭, ৫, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ১৩-১৪, ২০
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!