📌 ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে বিধিমালা লঙ্ঘন করে সভাপতি নিয়োগের অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা ব্যবসায় প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবরোধ করেন। বিভাগের যোগ্য শিক্ষকদের উপেক্ষা করে ডিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁদের
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মার্কেটিং বিভাগে বিধিমালা লঙ্ঘন করে নতুন সভাপতি নিয়োগের অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা বিভাগের যোগ্য শিক্ষকদের উপেক্ষা করে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুস শহীদ মিয়াকে সভাপতি নিয়োগ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টায় শিক্ষার্থীরা মার্কেটিং বিভাগে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে তাঁরা ব্যবসায় প্রশাসন ভবনের প্রধান ফটকেও তালা দিয়ে অবরোধ করেন। এতে ভবনটিতে থাকা ছয়টি বিভাগের অন্তত চার শতাধিক শিক্ষার্থী আটকা পড়েন। দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা তালা খুলে দেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মার্কেটিং বিভাগে বিধিমালা লঙ্ঘন করে সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের
- 📌 বিভাগের যোগ্য শিক্ষকদের উপেক্ষা করে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে
- 📌 শিক্ষার্থীরা ব্যবসায় প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে চার শতাধিক শিক্ষার্থীকে অবরুদ্ধ করেন
- 📌 বিভাগের সভাপতি নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী সিনিয়র শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে
📰 বিস্তারিত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে বিধিমালা লঙ্ঘন করে সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভাগের একাধিক যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও তাঁদের কাউকে নিয়োগ না দিয়ে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুস শহীদ মিয়াকে সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় মার্কেটিং বিভাগে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে তাঁরা ব্যবসায় প্রশাসন ভবনের প্রধান ফটকেও তালা দিয়ে অবরোধ করেন। ফলে ভবনটিতে থাকা ছয়টি বিভাগের অন্তত চার শতাধিক শিক্ষার্থী আটকা পড়েন। দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা তালা খুলে দেন।
জানা গেছে, ১৬ আগস্ট মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক ড. সাদেকুল আজাদের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মতিনুর রহমান ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুস শহীদ মিয়াকে বিভাগটির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো বিভাগে সর্বোচ্চ ক্যাটাগরিতে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে সবচেয়ে সিনিয়র শিক্ষককে সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, কোনো বিভাগে সভাপতি হওয়ার যোগ্য শিক্ষক না থাকলে বর্তমান সভাপতিকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া যাবে।
বিধিমালা অনুযায়ী, ‘সিনিয়র’ বলতে পদবি বা পদমর্যাদায় সিনিয়র বোঝাবে; বয়স বা চাকরির মেয়াদকে সিনিয়রিটির ভিত্তি ধরা হবে না। একই পদমর্যাদায় একাধিক শিক্ষক থাকলে চাকরির মেয়াদের ভিত্তিতে সিনিয়রিটি নির্ধারণ করা হবে। চাকরির মেয়াদ সমান হলে বর্তমান পদে পদোন্নতি বা নিয়োগের সময় যাঁর নাম ক্রমানুসারে আগে ছিল, তাঁকে সিনিয়র হিসেবে গণ্য করা হবে।
রেজিস্ট্রার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মার্কেটিং বিভাগে বর্তমানে পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন এবং তাঁরা সবাই সহকারী অধ্যাপক। তাঁদের মধ্যে একজন আগে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আরেকজনের সভাপতির মেয়াদ ১৬ আগস্ট শেষ হয়েছে। বিধি অনুযায়ী, বাকি তিনজন শিক্ষকের মধ্য থেকে একজনকে সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল।
"আমাদের বিভাগ অল্পসংখ্যক শিক্ষক দিয়েই সেশনজট ছাড়াই এত দিন ভালোভাবে চলে আসছে। সভাপতি হওয়ার মতো সিনিয়র শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও অনুষদের ডিনকে নিয়োগ দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। আমরা বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। অন্য বিভাগ থেকে সভাপতি হলে সেশনজট তৈরি হতে পারে। আমরা চাই, আমাদের বিভাগের শিক্ষকদের মধ্য থেকেই সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হোক।"
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী বিভাগের পরবর্তী সিনিয়র শিক্ষককেই সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়টি সম্পর্কে আমি বলতে পারব না। উপাচার্য যেভাবে নিয়োগ দিয়েছেন, আমি সেভাবেই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছি।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক ড. মতিনুর রহমান (উপাচার্য), অধ্যাপক ড. আব্দুস শহীদ মিয়া (ডিন)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: চার শতাধিক শিক্ষার্থী অবরুদ্ধ, ১৬ আগস্ট মেয়াদ শেষ, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শুভ মিয়া
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!