📌 এইচএসসি পরীক্ষার্থী মিনহাজুল ইসলামের ডায়াবেটিসের চিকিৎসা দেরিতে পেলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মা-বাবা জানতেন না ছেলের রোগের কথা এবং হাসপাতালেও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা হয়নি। ২৩ আগস্ট ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি
এইচএসসি পরীক্ষার্থী মিনহাজুল ইসলামের ডায়াবেটিসের চিকিৎসা দেরিতে পেলে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ২৩ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মিনহাজুলের মা-বাবা জানতেন না ছেলের ডায়াবেটিসের কথা। পরীক্ষার চাপে অসুস্থ হয়ে পড়লেও হাসপাতালেও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিনহাজুল ইসলাম (১৮) এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন, যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল মিরাজ ও তার স্ত্রী ফাহমিদা আক্তার এর একমাত্র ছেলে।
- 📌 পরীক্ষার চাপে অসুস্থ হয়ে ৬ আগস্ট থেকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হলেও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা হয়নি। চিকিৎসকরা পরীক্ষাভীতির কথা বলে ছেলেকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।
- 📌 ১৩ আগস্ট শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মিনহাজুলের রক্তে শর্করার মাত্রা ৩৮ মিলিমোল/লিটার পৌঁছায়। সেদিনই মা-বাবা জানতে পারেন ছেলের ডায়াবেটিস ছিল।
- 📌 মিনহাজুল বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এর শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি সেনা কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন এবং এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন।
- 📌 মিনহাজুলের বোন সাফিয়া জাহান নবম শ্রেণিতে পড়ছেন এবং ভাই আরশাদুল ইসলাম প্লে গ্রুপে পড়ছেন।
📰 বিস্তারিত
মিনহাজুল ইসলামের মৃত্যুর পেছনে ছিল পরীক্ষার চাপ এবং ডায়াবেটিসের চিকিৎসা দেরি। মিনহাজুলের মা ফাহমিদা আক্তার বলেছেন, পরীক্ষা শুরুর আগে ছেলে বলতেন, ‘যদি জিপিএ-৫ না পাই’। মা বলতেন, ‘না পেলে কিছু হবে না’। কিন্তু মিনহাজুল রাগ করে বলতেন, ‘মা তুমি কিছু বুঝতেই পারছো না, জিপিএ-৫ না পেলে ভালো জায়গায় ভর্তি হওয়া যাবে না’।
৬ আগস্ট ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা পরীক্ষাভীতির কথা বলে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। কোনো হাসপাতালেই ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা হয়নি। স্যালাইন ও ঘুমের ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। ১৩ আগস্ট শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মিনহাজুলের রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে ৩৮ মিলিমোল/লিটারে পৌঁছায়। সেদিনই মা-বাবা জানতে পারেন ছেলের ডায়াবেটিস ছিল।
মিনহাজুল ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি সেনা কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন তিনি। উচ্চতর গণিত পরীক্ষার দিন সিট পরিবর্তনসংক্রান্ত কারণে বিরক্ত ছিলেন। পরে ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে পারেননি।
"ছেলে নিজে নিজে চ্যালেঞ্জ নিত, কলেজ-বাসার বিভিন্ন দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিত। শরীর খারাপ হওয়ার পরও জিপিএ-৫ না পেলে কী হবে, সে কথা বলত। একপর্যায়ে বাসায় যে শিক্ষক ছেলেকে পড়াতেন তিনিও জানতে চান, রেজাল্ট খারাপ হলে আমরা বকা দেব কি না। না বলার পর তিনিও অতিরিক্ত চিন্তা করছে বলে ছেলেকে বকা দেন।"
মিনহাজুলের বাবা সাজ্জাদুল মিরাজ যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেছেন, ছোটবেলা থেকেই মিনহাজুল ভালো ছাত্র ছিলেন। কিন্তু নিজে নিজেই চ্যালেঞ্জ নিত ছেলে। ডায়াবেটিসের বিষয়টি জানতেন না বাবা-মা। বেশ কয়েকটি হাসপাতালে ছেলেকে নেওয়া হলেও কেউ ডায়াবেটিস বা অন্য পরীক্ষা করেনি। পরীক্ষাভীতির কথা শুনেই ব্যবস্থাপত্র লিখে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। এই করতে করতে ছেলের প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করতেই দেরি হয়ে গেছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিনহাজুল ইসলাম, ফাহমিদা আক্তার, সাজ্জাদুল মিরাজ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৮ মিলিমোল/লিটার (শর্করার মাত্রা), ৬ আগস্ট (অসুস্থ হওয়া), ২৩ আগস্ট (মৃত্যু)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!