📌 নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ে স্কুলের পাশের জমিতে কীটনাশক স্প্রে করার ফলে ১৮ শিক্ষার্থী অচেতন হয়ে পড়েন। প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ তদন্তে বিষক্রিয়া নিশ্চিত হয়। ১৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, সবাই আজ ক্লাসে ফিরেছেন
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ে গত সোমবার ১৮ জন শিক্ষার্থী অচেতন হয়ে পড়ার ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটিত হয়েছে। স্কুলের পাশের জমিতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে স্প্রে করা কড়া কীটনাশকের বিষক্রিয়া ছিল মূল কারণ। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও মেডিক্যাল টিমের যৌথ তদন্তে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৮ শিক্ষার্থী অচেতন: স্কুলের পাশের জমিতে কীটনাশক স্প্রে করে বিষক্রিয়া ঘটে
- 📌 ১৩ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি, সবাই আজ ক্লাসে ফিরেছেন
- 📌 কীটনাশকের বোতল জব্দ করা হয়েছে, বিষাক্ত বাষ্পের কারণে ঘটনা ঘটে
- 📌 উপজেলা প্রশাসন জারি করেছে নির্দেশনা: স্কুলের সীমানায় কীটনাশক স্প্রে নিষিদ্ধ
- 📌 মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন (প্রধান শিক্ষক): "৫০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৮ জন আক্রান্ত, সবাই সুস্থ"
📰 বিস্তারিত
গতকাল সোমবার স্কুলে অবস্থানকালে রোদের উত্তাপ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ১৮ জন শিক্ষার্থী মাথা ঘোরা, বমি ভাব ও অস্থিরতা বোধ করে অচেতন হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে ১৩ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তবে চিকিৎসা শেষে রাতে সবাই বাড়ি ফিরে যায়। আজ সকালে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও মেডিক্যাল টিমের যৌথ তদন্তে নিশ্চিত হয় যে, স্কুলের পশ্চিম-উত্তর পাশে অবস্থিত একটি জমিতে কীটনাশক স্প্রে করা হয়েছিল। বিষাক্ত বাষ্প বাতাসে মিশে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের শারীরিক প্রতিক্রিয়া ঘটায়।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল জানান, গতকাল দুপুরের আগে কৃষক কীটনাশক স্প্রে করেছিলেন। কৃষকের বাড়িতে থাকা কীটনাশকের বোতলটি দেখিয়ে বলা হয়, বোতলের লেবেলে উল্লেখ রয়েছে যে, তীব্র ঘ্রাণ বা স্পর্শে মাথা ঘোরা, বমি ভাব ও অস্থিরতা হতে পারে। তদন্ত দল নিশ্চিত করেছে যে, বাতাসে ভেসে আসা বিষাক্ত বাষ্পই শিক্ষার্থীদের অচেতন হওয়ার মূল কারণ। কীটনাশকের বোতল ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে বলে জানান ইউএনও।
জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, গতকালের ঘটনায় শিক্ষক ও অভিভাবকরা চরম আতঙ্কিত ছিলেন। তবে প্রশাসনের তদন্তে প্রকৃত কারণ জানার পর স্বস্তি ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্কুলে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। আক্রান্ত ১৮ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসা শেষে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছে এবং তারা সবাই আজ ক্লাসে উপস্থিত হয়েছে।’
উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে স্কুলের সীমানায় কীটনাশক স্প্রে করা যাবে না। স্কুলের আশপাশে কীটনাশক ব্যবহার করতে হলে শুধু শুক্র বা শনিবার (ছুটির দিন) করতে হবে। এছাড়াও, কড়া কীটনাশক প্রয়োগের আগে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অনুমতিপত্র নিতে হবে।
"গতকাল ওই জমিতে কৃষক কীটনাশক ছিটিয়েছেন। দুপুরের আগে প্রচণ্ড রোদের মধ্যে কীটনাশক স্প্রে করা হয়। ওই কৃষক তাঁর বাড়িতে থাকা কীটনাশকের বোতলটি এনে তাঁদের দেখিয়েছেন। বোতলের গায়ে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ রয়েছে—এই তরলের তীব্র ঘ্রাণ বা স্পর্শে মাথা ঘোরা, বমি ভাব, অস্থিরতা ও চেতনা হারানোর মতো প্রতিক্রিয়া হতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়, হাতিয়া উপজেলা, নোয়াখালী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাসেল ইকবাল (ইউএনও), মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন (প্রধান শিক্ষক), কৃষক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ জন শিক্ষার্থী অচেতন, ১৩ জন হাসপাতালে ভর্তি, ৫০০ শিক্ষার্থী স্কুলে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!