📌 প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ছাত্রীদের সংখ্যা ছেলেদের চেয়ে বেশি, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের অংশগ্রহণ ৪০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। সরকারি চাকরিতেও নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ২৮ শতাংশ। শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে বাধাগুলো চিহ্নিত করা দরকার
বাংলাদেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ছাত্রীদের অগ্রগতি সফল হলেও উচ্চশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণে উল্লেখযোগ্য পিছিয়ে পড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীদের হার ৪০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এছাড়াও সরকারি চাকরিতে নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ২৮ শতাংশের কমে রয়েছে। শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য বাধাগুলো চিহ্নিত ও সমাধান করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে মেয়েদের অংশগ্রহণ ৫১.২ থেকে ৫৪.৬৭ শতাংশের মধ্যে, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে তা ৩৯.৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে
- 📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের হার ৪২ শতাংশ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৯ শতাংশ, কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ৩৫ শতাংশ
- 📌 সরকারি চাকরিতে নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ২৮ শতাংশ, পুরুষের তুলনায় ৭১ শতাংশের বেশি
- 📌 উচ্চশিক্ষায় বাধা: বাড়ির বাইরে থাকা, আবাসনের অভাব, নিরাপদ যাতায়াত, আর্থিক সক্ষমতা ও বিয়ে
- 📌 কর্মক্ষেত্রে বাধা: বদলিযোগ্য কর্মস্থল, দূরবর্তী এলাকায় পদায়ন, নিরাপদ আবাসন ও পারিবারিক দায়িত্ব
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) প্রকাশিত বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৫ অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে মেয়েদের অংশগ্রহণ ৫১.২ শতাংশ, মাধ্যমিক স্তরে তা বেড়ে ৫৪.৬৭ শতাংশ হয়েছে। কলেজ পর্যায়ে ছাত্রীদের হার প্রায় ৫২ শতাংশ। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এই অগ্রগতি ধরে রাখতে পারেনি। মোট ১১ লাখ ১৩ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রীদের হার মাত্র ৩৯.৩৪ শতাংশ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজ ছাড়া ৫৬টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ৪২ শতাংশ, কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তা মাত্র ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ছাত্রীদের অংশগ্রহণে পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের হার ৪২ শতাংশ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৯ শতাংশ। তবে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ৫৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তা ৫০ শতাংশের বেশি। এছাড়াও, উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণে বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বাড়ির বাইরে থাকা, আবাসনের অভাব, নিরাপদ যাতায়াতের সীমাবদ্ধতা, পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা এবং বিয়ে।
কর্মক্ষেত্রেও নারীদের অংশগ্রহণ কম। সরকারি চাকরিতে কর্মরত ১০ লাখ ৪২ হাজার ৫৬২ জন পুরুষের বিপরীতে নারী কর্মকর্তা-কর্মচারী মাত্র ৪ লাখ ২১ হাজার ৭৮৮ জন। অর্থাৎ সরকারি চাকরিতে নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ২৮ শতাংশ। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্কুল-কলেজে মেয়েদের অগ্রগতিকে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। এ জন্য উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণের পথে বাধাগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীবান্ধব পরিবেশ তৈরিতেও গুরুত্ব দিতে হবে।
"উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ কম হওয়ার পেছনে কোন কারণ কতটা দায়ী, তা বিশদ গবেষণার মাধ্যমে নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, গাজীপুর (বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থীরা, নারী কর্মকর্তা-কর্মচারী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫১.২%, ৫৪.৬৭%, ৩৯.৩৪%, ৪২%, ৩৫%, ২৮%
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!