📌 সুন্দরবনের ৫টি মাছ ও ২টি চিংড়ির ডিএনএ সিকোয়েন্স বিশ্বের সর্ববৃহৎ জিন ব্যাংকে যুক্ত হবে। গবেষণা দলের প্রধান ড. এম এনামুল হক জানান, এগুলো আগে কোনো আন্তর্জাতিক ডেটাবেজে ছিল না। বন বিভাগের মাধ্যমে নভেম্বর মাসে হস্তান্তর হবে ফলাফল
বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের ৫টি নতুন মাছ ও ২টি চিংড়ির ডিএনএ সিকোয়েন্স আন্তর্জাতিক জিন ব্যাংকে যুক্ত হবে। এই সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশের গবেষক দল। গবেষণা দলের প্রধান ড. এম এনামুল হক বলেছেন, এগুলো আগে বিশ্বের কোনো জিন ব্যাংকে ছিল না। আগামী নভেম্বর মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য কর্মশালায় বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর উপস্থিতিতে গবেষণার ফলাফল বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপরই আন্তর্জাতিক জিন ব্যাংকে এগুলোর ডিএনএ সিকোয়েন্স যুক্ত হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সুন্দরবনের ৫টি মাছ ও ২টি চিংড়ির ডিএনএ সিকোয়েন্স যুক্ত হবে আমেরিকার আন্তর্জাতিক জিন ব্যাংকে
- 📌 গবেষণায় ৬৫টি নদী-খাল ও ৪২৪ কিলোমিটার এলাকা জরিপ করা হয়, ৮৩টি মাছের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়
- 📌 নতুন আবিষ্কৃত প্রজাতির নাম: বড় আইশ পারশে, ফোটা বাটা, বার্মিজ এক ঠ্ইুটা, কুলি বেলে, সবুজ ফোঁটা বেলে, মাকড়সা চিংড়ি ও ফোঁটা চিংড়ি পোকা
- 📌 আগে সুন্দরবনের ১৪১ প্রজাতির মাছের ডিএনএ সিকোয়েন্স আন্তর্জাতিক জিন ব্যাংকে যুক্ত ছিল
- 📌 গবেষণায় সুন্দরবনে মোট ৩৮২ প্রজাতির সাদা মাছ ও ৮৮ প্রজাতির খোলসযুক্ত প্রাণীর সন্ধান পাওয়া গেছে
📰 বিস্তারিত
বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের জলজ সম্পদের গবেষণায় নতুন সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। গবেষক দল ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ১৬ মাসব্যাপী গবেষণা চালিয়ে ৫টি মাছ ও ২টি চিংড়ির ডিএনএ সিকোয়েন্স সংগ্রহ করেছেন। এগুলো আগে বিশ্বের কোনো আন্তর্জাতিক জিন ব্যাংকে ছিল না। গবেষণা পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশ সরকারের ‘সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের’ আওতায় সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) এবং আরণ্যক ফাউন্ডেশন। গবেষক দলের প্রধান ড. এম এনামুল হক, যিনি বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক, বলেছেন, “গবেষণার পর আমরা পাঁচ প্রজাতির মাছ ও দুই প্রজাতির চিংড়ির ডিএনএ সিকোয়েন্স আন্তর্জাতিক জিন ব্যাংকে আপলোডের প্রস্তুতি নিয়েছি। তবে বিষয়টি বন বিভাগের, তাই আগামী নভেম্বর মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য কর্মশালায় বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর উপস্থিতিতে ফলাফল হস্তান্তর করা হবে। পরবর্তীতে সরকারিভাবে বন বিভাগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জিন ব্যাংকে এগুলোর ডিএনএ যুক্ত হবে।”
গবেষণায় সুন্দরবনের চারটি রেঞ্জে (শরণখোলা, সাতক্ষীরা, খুলনা ও চাঁদপাই) জলজ সম্পদের অবস্থা, প্রজনন মৌসুম এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়। গবেষকরা শরণখোলা রেঞ্জে সবচেয়ে বেশি প্রজাতির বৈচিত্র্য (১৬৪ প্রজাতি) লক্ষ্য করেছেন। তবে অতিরিক্ত মৎস্য আহরণ ও নদী-খালে বিষ প্রয়োগের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে প্রাকৃতিক মাছের মজুত হুমকিতে পড়ছে। গবেষণায় সুন্দরবনে মোট ২৫১ প্রজাতির মাছ ও ৫১ প্রজাতির খোলসযুক্ত প্রাণীর উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। আগের গবেষণার ফলাফলের সঙ্গে মিলিয়ে এখন মোট ৩৮২ প্রজাতির সাদা মাছ এবং ৮৮ প্রজাতির খোলসযুক্ত প্রাণীর সন্ধান পাওয়া গেছে।
গবেষক দল ডিএনএ বারকোডিং ও নতুন প্রজাতির আবিষ্কার গবেষণায় সুন্দরবনের ৩০ প্রজাতির মাছ ও ১১ প্রজাতির খোলসযুক্ত প্রাণীর ডিএনএ বারকোড তৈরি করেছেন। এর অংশ হিসেবে ৮৩টি মাছের নমুনার ডিএনএ বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের উপকূলীয় জলসীমার জন্য সম্পূর্ণ নতুন পাঁচটি মাছ ও দুইটি চিংড়ির প্রজাতি নথিবদ্ধ করা হয়েছে। এগুলো হলো: বড় আইশ পারশে, ফোটা বাটা, বার্মিজ এক ঠ্ইুটা, কুলি বেলে বা চ্যাপ্টা মাথা বেলে, সবুজ ফোঁটা বেলে এবং মাকড়সা চিংড়ি ও ফোঁটা চিংড়ি পোকা।
"গবেষণার পর আমরা পাঁচ প্রজাতির মাছ ও দুই প্রজাতির চিংড়ির ডিএনএ সিকোয়েন্স আন্তর্জাতিক জিন ব্যাংকে আপলোডের প্রস্তুতি নিয়েছি। তবে বিষয়টি বন বিভাগের, তাই আগামী নভেম্বর মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য কর্মশালায় বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর উপস্থিতিতে ফলাফল হস্তান্তর করা হবে। পরবর্তীতে সরকারিভাবে বন বিভাগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জিন ব্যাংকে এগুলোর ডিএনএ যুক্ত হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুন্দরবন (শরণখোলা, সাতক্ষীরা, খুলনা, চাঁদপাই রেঞ্জ), ঢাকা, খুলনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. এম এনামুল হক (বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫টি মাছ, ২টি চিংড়ি, ১৬ মাস, ৬৫টি নদী-খাল, ৪২৪ কিলোমিটার, ১৪১ প্রজাতির মাছ, ৮৩টি মাছের নমুনা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!