📌 শিক্ষা ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় মন্ত্রণালয়ের উপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি শিক্ষা কার্যক্রমের তদারকি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম আধুনিকীকরণ এবং প্রশাসনিক সংস্কারের জরুরি প্রয়োজন তুলে ধরেছেন
শিক্ষা ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের তদারকি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম আধুনিকীকরণ এবং প্রশাসনিক সংস্কারের জরুরি প্রয়োজন তুলে ধরেছেন। তিনি মঙ্গলবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বলেছেন, শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় শুধু মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বা সহযোগিতার ওপর নির্ভর করা যাবে না। তিনি বলেছেন, ‘শুধু মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে বন্দুক রেখে গুলি করা আর চলবে না। ট্রিগার আমিও টানতে জানি’।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নিজস্ব উদ্যোগ নিতে হবে এবং মন্ত্রণালয়ের উপর নির্ভরতা কমাতে হবে।
- 📌 মন্ত্রী বলেছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ২ হাজার ৩০৭টি কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমের তদারকি জরুরি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি এবং তাদের যোগাযোগের বিষয়ে নজরদারি প্রয়োজন।
- 📌 শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, এসএসসি পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা খাতা মূল্যায়নের ত্রুটির প্রশ্ন তুলে ধরে।
- 📌 প্রশ্ন প্রণয়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। মন্ত্রী বলেছেন, ১০০ জন শিক্ষক কর্তৃক প্রণীত প্রশ্নের মধ্যে ৯০ জনের প্রশ্নের মিল পাওয়া যায়, যা প্রশ্নের নকশায় অসঙ্গতি নির্দেশ করে।
- 📌 শিক্ষা খাতে বরাদ্দকৃত ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা একটি আয়োজনে ব্যয় করা হয়েছে, যেখানে বৈজ্ঞানিক সরঞ্জামের জন্য অর্থের অনুমতি পেতে হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, তাঁর হাতে এখনো অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, সাত মাসে সব পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তবে উদ্যোগ ও কাজের গতি দেখা দরকার। উপাচার্যের নেতৃত্বে দেওয়া দলের উৎপাদনশীলতা ও কাজের ফলাফল সরকার দেখতে চায়। মন্ত্রী বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে, কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের জন্য বাজারের চাহিদাভিত্তিক কোর্স চালু, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম আধুনিকীকরণ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন জরুরি বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ২ হাজার ৩০৭টি কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম তদারকির ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, কোন কলেজে কী পড়ানো হচ্ছে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কেমন এবং তাদের পারস্পরিক যোগাযোগ কেমন — এসব বিষয়ে নজরদারি প্রয়োজন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, শ্রেণিকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে পাঠদান ও উপস্থিতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে সরকার। তিনি অনার্স ও মাস্টার্স চালুর ক্ষেত্রেও যথাযথ পরিকল্পনার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন। মন্ত্রী বলেন, এমন কলেজও রয়েছে যেখানে এক বা দুজন শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও কোনো বিষয়ে অনার্স চালু রয়েছে। কোথাও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতও ঠিক নেই। এসব তথ্য যথাযথভাবে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়নি।
পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি কিছু বিষয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা আরও কঠোর করতে হবে। এসএসসি পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এবার পুনর্নিরীক্ষণে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তিনি বলেন, এতে খাতা মূল্যায়নে ত্রুটি ছিল কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং খাতা মূল্যায়নে ভুল হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষককে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী প্রশ্ন প্রণয়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তনের প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ১০০ জন শিক্ষককে দিয়ে প্রশ্ন তৈরি করালে ৯০ জনের প্রশ্নের মধ্যে মিল পাওয়া যায়। গাইড ও নোট বইয়ের সঙ্গেও প্রশ্নের মিল দেখা যায়। তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রশ্ন প্রণয়নের বিষয়টি ভাবতে হবে।
শিক্ষা খাতে এবারের বাজেটে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধু বড় বাজেট পেলেই হবে না, সেই অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি টাকা, প্রতিটি পয়সার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে রবীন্দ্রভারতীতে বাংলাদেশ ভবন করার জন্য ৩০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি জন্মবার্ষিকী আয়োজনের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অথচ বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম ও ল্যাবরেটরির জন্য অর্থের প্রয়োজন হলে মন্ত্রণালয়ের অনুমতির জন্য আসতে হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে উদ্যোগ নিতে হবে।
"শুধু মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে বন্দুক রেখে গুলি করা আর চলবে না। ট্রিগার আমিও টানতে জানি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিক্ষা ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ হাজার ৩০৭টি কলেজ, ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী, ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা, ৩০০ কোটি টাকা, ১ হাজার কোটি টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!