📌 নবাব সলিমুল্লাহ একাডেমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের নাম পরিবর্তন করে জিন্নাহ হল করার দাবি জানায়। সভায় জিন্নাহকে 'ডাকাত ও খুনি' বলে সমালোচনা করা হলেও তার ইতিহাসের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
নবাব সলিমুল্লাহ একাডেমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের নাম পরিবর্তন করে পুনরায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নামে নামকরণের দাবি জানিয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে জিন্নাহর ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এই দাবি উত্থাপিত হয়। সভায় নবাব সলিমুল্লাহ একাডেমির সভাপতি মুহম্মদ আব্দুল জাব্বার সূর্যসেন হলের নাম পরিবর্তন নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলেন, ‘সূর্যসেন হলের নাম পরিবর্তন করে জিন্নাহ হল করা হয়েছে, যিনি একজন ডাকাত ও খুনি। যিনি জিন্নাহর নামে হলটি ছিল, তার নামেই হলটির নামকরণ করা উচিত।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে জিন্নাহর ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় সূর্যসেন হলের নাম পরিবর্তন নিয়ে জিন্নাহ সম্মাননায় জোরদার দাবি উত্থাপিত হয়
- 📌 নবাব সলিমুল্লাহ একাডেমির সভাপতি মুহম্মদ আব্দুল জাব্বার সূর্যসেন হলের নাম পরিবর্তনকে সমালোচনা করে বলেন, জিন্নাহ হলের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে যিনি একজন ডাকাত ও খুনি
- 📌 ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ খান জিন্নাহকে ‘কায়েদে আজম’ বলে সম্মানিত করে বলেন, তিনি মুসলিমদের ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে কাজ করেছিলেন
- 📌 বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. শেখ আকরাম আলী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে জিন্নাহকে বাদ দিলে ইতিহাস অসম্পূর্ণ হবে
- 📌 জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ মেয়েদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান
📰 বিস্তারিত
সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় নবাব সলিমুল্লাহ একাডেমির সভাপতি মুহম্মদ আব্দুল জাব্বার সূর্যসেন হলের নাম পরিবর্তন নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান। তিনি বলেন, সূর্যসেন হলের নাম পরিবর্তন করে জিন্নাহ হল করা হয়েছে, যিনি একজন ডাকাত ও খুনি। তিনি দাবি করেন, জিন্নাহর নামে হলটি ছিল, তাই তার নামেই হলটির নামকরণ করা উচিত।
সভায় অল মুসলিম উম্মাহের চেয়ারম্যান ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ খান জিন্নাহকে ‘কায়েদে আজম’ বলে সম্মানিত করে বলেন, ‘১৭৫৭ সালে ইংরেজরা এই উপমহাদেশ দখলের মাধ্যমে মুসলিমদের থেকে ক্ষমতা দখল করেছিল। জিন্নাহ চেয়েছিলেন এই উপমহাদেশে মুসলিমরা ক্ষমতার অধিকারী হয়। তিনি পুরো বাংলা এক থাকার জন্য কাজ করেছিলেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘১৯০৫ সালে লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করলেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আমরা কাজী নজরুলের চেয়ে বেশি মূল্যায়ন করি, যা ইতিহাসের সত্য নয়।’
বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. শেখ আকরাম আলী বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে জিন্নাহকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। শেখ মুজিবের অবদান আমরা স্বীকার করব, কিন্তু জিন্নাহকে বাদ দিয়ে নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সৃষ্টিকর্তা স্যার সলিমুল্লাহকে নিয়ে চর্চা হয় না, কিন্তু জিন্নাহের নামে একটা হল ছিল, সেটা মুছে দেওয়া হলো। আমরা ইতিহাসে যার যেটুকু অবস্থান, তাঁকে ততটুকু সম্মান করতে চাই।’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ সভায় মেয়েদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক ক্যাম্পাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সমাজে মেয়েদের জন্য এখনো পর্যাপ্ত নিরাপদ পরিসর তৈরি করা সম্ভব হয়নি। বাল্যবিবাহ, সহিংসতা ও সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।’
"ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহ হলের নাম পরিবর্তন করে সূর্যসেন হল করা হয়েছে, যিনি একজন ডাকাত, একজন খুনি। যাঁর নামে হলটি হয়েছিল, পুনরায় তাঁর নামেই অর্থাৎ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নামে হলটির নামকরণ করা হোক।"
"১৭৫৭ সালে ইংরেজরা এই উপমহাদেশ দখলের মাধ্যমে মুসলিমদের থেকে ক্ষমতা দখল করেছিল। জিন্নাহ চেয়েছিলেন এই উপমহাদেশে মুসলিমরা ক্ষমতার অধিকারী হয়। কায়েদে আজম জিন্নাহ চেয়েছিলেন পুরো বাংলা এক থাকুক।"
"বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহের নাম বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। শেখ মুজিবের অবদান আমরা স্বীকার করব, কিন্তু জিন্নাহকে বাদ দিয়ে নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, জাতীয় প্রেসক্লাব
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুহম্মদ আব্দুল জাব্বার, ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ খান, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. শেখ আকরাম আলী, প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৮ (জিন্নাহর মৃত্যুবার্ষিকী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!