📌 চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্যাস সংকটের কারণে হলগুলোর চুলা জ্বলছে না। ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য লাকড়ির চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। ধোঁয়া ও সময়ের অভাবে ভোগান্তিতে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) আবাসিক হলগুলোর চুলায় গত এক সপ্তাহ ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য রান্না করতে হচ্ছে লাকড়ির অস্থায়ী চুলায়। ধোঁয়া ও সময়ের অভাবে কর্মীদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও ভোগান্তি বেড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চুয়েটের ৯টি আবাসিক হলের মধ্যে ৬টি ছাত্রদের ও ৩টি ছাত্রীদের
- 📌 প্রতিটি হলের জন্য দিনে গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ শিক্ষার্থীর খাবার রান্না করতে হয়
- 📌 গ্যাস সংকটের কারণে লাকড়ির চুলায় রান্না করতে হচ্ছে কর্মীদের
- 📌 ধোঁয়া ও বৃষ্টির কারণে রান্না কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত
- 📌 শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন পছন্দমতো খাবার না পাওয়ার কারণে
📰 বিস্তারিত
চুয়েটের শহীদ মোহাম্মদ শাহ হলের ডাইনিং ব্যবস্থাপক শিক্ষার্থী তাহমিদ সুপ্ত জানান, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় প্রতিদিনের রান্নার পরিকল্পনা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ে কয়েক শ শিক্ষার্থীর খাবার প্রস্তুত করতে হলেও লাকড়ির চুলায় রান্না করতে সময় ও শ্রম বেশি লাগছে। ফলে পছন্দমতো খাবারের পদ রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
ছাত্রীদের তাপসী রাবেয়া হলের ডাইনিং ব্যবস্থাপক শিক্ষার্থী সুনেহরা সুবাহ বলেন, প্রচণ্ড গরম ও ধোঁয়ার মধ্যে কর্মীদের কাজ করতে হচ্ছে। বৃষ্টিতে লাকড়ি ভিজে গেলে রান্না করতে আরও বেশি সময় লাগে। ফলে নির্ধারিত সময়ে খাবার পরিবেশন করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক শিক্ষার্থী না খেয়ে পরীক্ষা বা ক্লাসে যেতে বাধ্য হন।
পুরকৌশল বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত খানম জানান, রান্নার সময় হলের আশপাশে গরম ও ধোঁয়াযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়। এ অবস্থায় রুমে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর কোনো রান্নার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
"লাকড়ি দিয়ে এত মানুষের রান্না এক-দুই দিন করা যায়, প্রতিদিন করা সম্ভব নয়। এতে কয়েক গুণ বেশি কষ্ট হচ্ছে।"
শহীদ আবু সাঈদ হলের বাবুর্চি মো. আলমগীর জানান, গ্যাস সংকটের কারণে হলের ক্যানটিনেও রান্না ব্যাহত হচ্ছে। শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূর থেকে অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে ক্যাম্পাসে আসেন। তাঁদের খাবারের অন্যতম ভরসা হলের ক্যানটিন হলেও গ্যাসের অভাবে সেখানেও রান্না ব্যাহত হচ্ছে।
শহীদ মোহাম্মদ শাহ হলের ক্যানটিনের ইজারাদার সজীব জানান, গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার কিনে রান্না করতে হচ্ছে। এতে খরচ কয়েক গুণ বেড়েছে। রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মোসাম্মাত রোকসানা খাতুন জানান, সারা দিনই গ্যাস থাকে না। বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিকের চুলায় রান্না করতে হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী ও পুরকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তারেকুল আলম জানান, মাতারবাড়ি থেকে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। ফলে সারা দেশেই গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। ওই সমস্যার সমাধান হলে চুয়েটেও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তাহমিদ সুপ্ত, সুনেহরা সুবাহ, নুসরাত খানম, মো. আলমগীর, সজীব, মোসাম্মাত রোকসানা খাতুন, তারেকুল আলম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯টি, ৩০০ থেকে ৪০০, ২৩, ২৫
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!