📌 আজ (২০ অক্টোবর) উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম মহিলা গ্র্যাজুয়েট ও শিক্ষাবিদ বেগম ফজিলাতুন্নেসা জোহার মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে এমএ প্রথম হন এবং ১৯২৮ সালে লন্ডনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৭৭ সালের ২১ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন
আজ (২০ অক্টোবর) উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম মহিলা গ্র্যাজুয়েট ও শিক্ষাবিদ বেগম ফজিলাতুন্নেসা জোহার মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ছিলেন একজন অসামান্য শিক্ষাবিদ, লেখিকা এবং সমাজসেবী। তার জন্ম ১৮৯৯ সালে টাঙ্গাইল সদর থানার নামদার কুমুল্লী গ্রামে। তার পিতার নাম ওয়াজেদ আলী খান এবং মাতা হালিমা খাতুন। শিক্ষার প্রতি তার পরিবারের গভীর আগ্রহ ছিল। তার বাবা ওয়াজেদ আলী খান মাইনর স্কুলের শিক্ষক ছিলেন এবং তিনি মেয়ের শিক্ষা-প্রসারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন এবং স্বর্ণপদক লাভ করেন — তিনি ছিলেন উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম মহিলা গ্র্যাজুয়েট।
- 📌 ১৯২৮ সালে লন্ডনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য যান — তিনি ছিলেন উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম মহিলা যিনি বিদেশ থেকে ডিগ্রি লাভ করেন।
- 📌 ১৯৩০ সালে কলকাতার স্কুল ইনস্পেক্টর পদে যোগদান করেন এবং ১৯৩৫ সালে বেথুন কলেজে গণিতের অধ্যাপক হন।
- 📌 ১৯৪৮ সালে ঢাকায় এসে ইডেন কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত সেখানে কর্মরত ছিলেন।
- 📌 ১৯৭৭ সালের ২১ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।
📰 বিস্তারিত
বেগম ফজিলাতুন্নেসা জোহার শিক্ষা-জীবনের শুরু থেকেই তার পরিবার তাকে সমর্থন করেছিল। তার পিতার মাইনর স্কুলের শিক্ষকতা এবং পরিবারের অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা সত্ত্বেও, তিনি তার মেয়ের শিক্ষা-প্রসারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ফজিলাতুন্নেসা ১৯২১ সালে ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯২৩ সালে ইডেন কলেজ থেকে আইএ এবং ১৯২৫ সালে কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন। তার পড়াশোনার ব্যাপারে বিশেষভাবে সাহায্য করেছিলেন করটিয়ার জমিদার মরহুম ওয়াজেদ আলী খান পন্নী (চাঁদ মিয়া)।
১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন এবং স্বর্ণপদক লাভ করেন। তিনি ছিলেন উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম মহিলা গ্র্যাজুয়েট। ১৯২৮ সালে তিনি লন্ডনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য যান এবং উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম মহিলা হিসেবে বিদেশ থেকে ডিগ্রি লাভ করেন।
১৯৩০ সালে কলকাতায় স্কুল ইনস্পেক্টর পদে যোগদান করেন। ১৯৩০ সালের আগস্টে কলকাতার অ্যালবার্ট হলে অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় মুসলিম সমাজসেবক সংঘের বার্ষিক অধিবেশনে তিনি সভাপতিত্ব করেন। ১৯৩৫ সালে কলকাতার বেথুন কলেজে গণিতের অধ্যাপক পদে যোগদান করেন। দেশবিভাগের পর তিনি ঢাকায় এসে ইডেন কলেজে অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার প্রচেষ্টায় ইডেন কলেজ বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগসহ ডিগ্রি পর্যায়ে উন্নীত হয়।
বেগম ফজিলাতুন্নেসা জোহা ছিলেন একজন লেখিকা ও সমাজসেবী। তিনি নারী শিক্ষা ও নারী সমাজের অগ্রগতি বিষয়ে শিখা ও সওগাত পত্রিকায় প্রবন্ধ ও গল্প প্রকাশিত করেছেন। ১৯২৮ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। নজরুল ফজিলাতুন্নেসার লন্ডনে যাওয়ার উপলক্ষ্যে ‘বর্ষা-বিদায়’ নামক একটি কবিতা লিখেছিলেন।
"বর্ষা-বিদায়" কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম ফজিলাতুন্নেসার লন্ডনে যাওয়ার স্মরণে লিখেছিলেন — তার শিক্ষা-প্রসারের প্রতি শ্রদ্ধা ও উৎসাহ প্রকাশ করে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: টাঙ্গাইল সদর (জন্ম), ঢাকা, কলকাতা, লন্ডন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বেগম ফজিলাতুন্নেসা জোহা, কাজী নজরুল ইসলাম, ওয়াজেদ আলী খান, হালিমা খাতুন, মরহুম ওয়াজেদ আলী খান পন্নী (চাঁদ মিয়া)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮৯৯ (জন্ম), ১৯২১ (ম্যাট্রিক), ১৯২৩ (আইএ), ১৯২৫ (বিএ), ১৯২৭ (এমএ, স্বর্ণপদক), ১৯২৮ (লন্ডনে উচ্চশিক্ষা), ১৯৩০ (স্কুল ইনস্পেক্টর), ১৯৩৫ (বেথুন কলেজে অধ্যাপক), ১৯৪৮ (ইডেন কলেজ অধ্যক্ষ), ১৯৫৭ (পদত্যাগ), ১৯৭৭ (মৃত্যু)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!