📌 নাটোরের বড়াইগ্রামে ট্রাক-বাস সংঘর্ষে ১২ জন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়। এর মধ্যে পূজার ছুটি কাটাতে যাচ্ছিলেন পটুয়াখালীর রুবিনা আক্তার (৩৬) ও তার পরিবার, যাদের স্বামী ও মেয়ে মৃত্যুবরণ করেন। পাঁচ শরীয়তপুরের ব্যবসায়ীও এই দুর্ঘটনায় নিহত হন
নাটোরের বড়াইগ্রামে ট্রাক ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে গতকাল রোববার ভোর চারটার দিকে ১২ জনের প্রাণহানি ও ৩২ জনের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনায় পূজার ছুটি কাটাতে রাজশাহী যাত্রায় রওনা হওয়া পটুয়াখালীর রুবিনা আক্তার (৩৬) ও তার পরিবারের দু’জন সদস্য নিহত হন। পাঁচজন শরীয়তপুরের ব্যবসায়ীও এই দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১২ জন নিহত: নাটোর-পাবনা মহাসড়কে ট্রাক-বাস সংঘর্ষে ১২ জনের মৃত্যু, তাদের মধ্যে পাঁচজন শরীয়তপুরের ব্যবসায়ী ও তিনজন পটুয়াখালীর পরিবারের সদস্য
- 📌 ৩২ জন আহত: দুর্ঘটনায় ৩২ জন আহত, তাদের মধ্যে রুবিনা আক্তার (৩৬) ও তার ১০ বছর বয়সী ছেলে লাবিব হোসেন গুরুতর আহত
- 📌 পূজার ছুটি ভেসে যায়: রুবিনা আক্তার ও তার পরিবার রাজশাহীতে ভগ্নিপতির বাসায় পূজার ছুটি কাটাতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু স্বামী শহিদুল ইসলাম (৪০) ও মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮) মৃত্যুবরণ করেন
- 📌 ব্যবসায়িক যাত্রায় নিহত পাঁচজন: শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাঁচ ব্যবসায়ী কৃষিপণ্য কেনার জন্য রাজশাহী যাত্রায় মৃত্যুবরণ করেন
- 📌 আহতদের অবস্থা: রুবিনা বনপাড়া পাটোয়ারী ক্লিনিক ও লাবিব নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদের পরিবার মৃত্যুর খবর পায়নি
📰 বিস্তারিত
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালি গ্রামের বাসিন্দা রুবিনা আক্তার (৩৬) পূবালী ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তিনি পূজার ছুটি কাটাতে রাজশাহীর পাঠানপাড়া এলাকায় থাকা ভগ্নিপতির বাসায় যাচ্ছিলেন। পথে তাঁর সঙ্গে যোগ দেন স্বামী শহিদুল ইসলাম (৪০), যিনি ব্র্যাক ব্যাংকের মাগুরা শাখায় ক্রেডিট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিল আট বছরের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন ও দশ বছরের ছেলে লাবিব হোসেন। গতকাল ভোর চারটার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে ট্রাক ও বাসের সংঘর্ষ ঘটে। এতে শহিদুল ইসলাম ও তাছফিয়া খাতুন নিহত হন। রুবিনা ও লাবিব গুরুতর আহত হন।
শহিদুল ইসলামের ভগ্নিপতি শহিদুর রহমান জানান, পটুয়াখালী থেকে রওনা হওয়ার পর পথে স্বামী শহিদুল যোগ দেন রুবিনাদের। নির্ধারিত সময়ে তাঁরা না পৌঁছানোর খবর পেয়ে তিনি দুর্ঘটনার খবর জানতে গিয়ে পান। তিনি নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি লাবিবের পাশে আছেন। রুবিনা বনপাড়া পাটোয়ারী ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনায় রুবিনা জানেন না যে, তাঁর স্বামী ও মেয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।
এই দুর্ঘটনায় শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাঁচ ব্যবসায়ীও নিহত হন। তাঁরা কৃষিপণ্যের বীজ কিনতে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুরে যাচ্ছিলেন। সাতজন ব্যবসায়ী নাওডোবা থেকে বাসে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় যান, পরে বরগুনা থেকে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী বাসে ওঠেন। বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সামনে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন নিহত হন জুয়েল মাদবর (৪০), সালাল মোল্যা (৪৫), সোহাগ শিকদার (৩০), আবদুস সামাদ ফকির (৭০) ও শাহিন ব্যাপারী (২৫)।
"কিছুদিন আগে আমার শ্যালিকা ও ভায়রা ওমরাহ করে এসেছেন। পূজার ছুটিটা আমাদের বাসায় কাটাতে চেয়েছিলেন। সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেল।"
— শহিদুর রহমান, রুবিনার ভগ্নিপতি
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা, বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্র, নাটোর-পাবনা মহাসড়ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রুবিনা আক্তার (৩৬), শহিদুল ইসলাম (৪০), তাছফিয়া খাতুন (৮), লাবিব হোসেন (১০), জুয়েল মাদবর (৪০), সালাল মোল্যা (৪৫), সোহাগ শিকদার (৩০), আবদুস সামাদ ফকির (৭০), শাহিন ব্যাপারী (২৫)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ জন নিহত, ৩২ জন আহত, ৩৬ বছর বয়সী রুবিনা, ৪০ বছর বয়সী শহিদুল ইসলাম, ৮ বছর বয়সী তাছফিয়া খাতুন, ১০ বছর বয়সী লাবিব হোসেন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!