📅 ২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

দিনমজুর জীবন থেকে জিপিএ-৫: বাবা হারানোর পরও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন আরাফাত

দিনমজুর জীবন থেকে জিপিএ-৫: বাবা হারানোর পরও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন আরাফাত

📷 ছবি: প্রথম আলো

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 প্রথম আলো ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার দিনমজুর আরাফাত হোসেন এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে অনন্য সাফল্য অর্জন করেছেন। বাবা হারানোর পরও সংসার চালিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার দিনমজুর আরাফাত হোসেন এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে অনন্য সাফল্য অর্জন করেছেন। দিনমজুর জীবন থেকে শুরু করে বাবা হারানোর পরও সংসার চালিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি। বাবা আবুল কাশেমের মৃত্যুর পর থেকে আরাফাতের জীবন ছিল কঠিন পরিশ্রমের চিত্র।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 ১৮ বছর বয়সী আরাফাত হোসেন এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে অনন্য সাফল্য অর্জন করেছেন।
  • 📌 ২০২১ সালে বাবা আবুল কাশেমের মৃত্যুর পর থেকে তিনি দিনমজুর হিসেবে কাজ করে সংসার চালিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন।
  • 📌 ৬ কিলোমিটার দূরের কলেজে যাতায়াত করতে বাবার রেখে যাওয়া ভাঙাচোরা সাইকেল ব্যবহার করেছেন তিনি।
  • 📌 সপ্তাহে তিন দিন দিনমজুরি করে, বাকি দিনগুলোতে পানবরজে কাজ ও ধান কাটার কাজ করেছেন।
  • 📌 মা শিল্পী খাতুন বলেছেন, সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়, কিন্তু ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করতে ইচ্ছে আছে।

📰 বিস্তারিত

১৮ বছর বয়সী আরাফাত হোসেনের জীবন ছিল দিনমজুরের কঠোর পরিশ্রমের চিত্র। ভোরে ঘুম থেকে জেগে পড়াশোনা শুরু করতেন তিনি। পরে একটু বেলা হলেই জীবনের তাগিদে মাঠে ছুটে যেতেন। দিনমজুরের কাজ সেরে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার এই রুটিনে তিনি বাবা হারানোর পরও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন।

আরাফাত রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাগমারা পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা। তিনি ভবানীগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। গত শনিবার প্রকাশিত ফলাফলে তাঁর এই সাফল্যে পরিবার ও এলাকাবাসী আনন্দিত।

২০২১ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় আরাফাতের বাবা আবুল কাশেম মারা যান। বাবা ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বাবার মৃত্যুর পর চার বছরের ছোট ভাই ও মায়ের দায়িত্ব এসে পড়ে আরাফাতের কাঁধে। সংসারের চাকা সচল রাখতে মা শিল্পী খাতুন স্থানীয় কিছু শিশুকে প্রাইভেট পড়াতে শুরু করেন এবং আরাফাত পানবরজে শ্রমিকের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে নামেন।

এসএসসি পাসের পর সংসারের চাপ আরও বাড়ায় আরাফাতকে পুরোদমে দিনমজুরের কাজে নামতে হয়। কঠোর পরিশ্রম ও আর্থিক সংকটে এসএসসিতে আশানুরূপ ফল না পেলেও তিনি ভেঙে পড়েননি। বাড়ি থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে ওই কলেজে মানবিক বিভাগে ভর্তি হন।

আরাফাত বলেন, ‘শুক্রবার ও শনিবার ছাড়াও সপ্তাহের যেসব দিনে গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস থাকত না, সেই দিনগুলোতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। সাধারণত সপ্তাহে তিন দিন তিনি কলেজে যেতেন। তিনি পানবরজে কাজের পাশাপাশি ধান কাটা ও মাটি কাটার কাজও করেছেন। তাঁর তেমন ভালো পোশাক ছিল না; এক জোড়া পোশাক পরেই দুই বছর কাটিয়ে দিয়েছেন। তবে মা সব সময় সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন বলেই তাঁর পড়াশোনা বন্ধ হয়নি।’

"অভাবের কারণে সব গাইড বা সহায়ক বই কিনতে পারেননি। তবে কলেজের শিক্ষকেরা বই ও নানাভাবে তাঁকে সহযোগিতা করেছেন।"

মামুনুর রশিদ, কলেজের শিক্ষক বলেছেন, ‘দিনমজুরি করে শত বাধা ও অভাব-অনটনের মধ্যেও অধ্যবসায়ের জোরে আরাফাত অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তার এই সাফল্যে পুরো কলেজ পরিবার গর্বিত। উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের আরাফাতের পাশে এগিয়ে আসা উচিত।’

আরাফাতের মা শিল্পী খাতুন বলেছেন, ‘ছোটবেলা থেকে মানুষের কাজ করে ও কষ্ট করে আরাফাত পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। তাঁকে নিয়মিত তিন বেলা খাবার বা ভালো পোশাক কিনে দিতে পারেননি। সংসার চালাতে আজও তাঁদের খুব কষ্ট হয়। ইচ্ছে আছে ছেলেটাকে শহরে পাঠিয়ে উচ্চশিক্ষিত করার, তবে সামর্থ্য কতটুকু কুলোবে জানি না।’

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: রাজশাহী, বাগমারা উপজেলা, ভবানীগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আরাফাত হোসেন, শিল্পী খাতুন, আবুল কাশেম, মামুনুর রশিদ
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: জিপিএ-৫, ১৮ বছর, ৬ কিলোমিটার, ৩ দিন (সপ্তাহে)

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖