📌 ৫৯জন শিক্ষার্থী ‘হরিকেল অভিযাত্রা’ নামে একটি সংগঠিত যাত্রায় শ্রীহট্টের মালনীছড়া চা-বাগান, রাতারগুলের জলাবন এবং সাদাপাথর পৌঁছায়। অনলাইন টিকিটের জটিলতা সত্ত্বেও তারা একসঙ্গে ট্রেনে চড়ে সিলেটে পৌঁছেন এবং প্রকৃতির বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থান ঘুরে দেখেন
৫৯জন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ‘হরিকেল অভিযাত্রা’ নামে একটি সংগঠিত যাত্রায় শ্রীহট্টের রমণীয় প্রকৃতিতে অভিযান শুরু করেছে। দীর্ঘ পরিকল্পনার পর এই অভিযাত্রা শুরু হলো মালনীছড়া চা-বাগান থেকে শুরু করে রাতারগুলের জলাবন এবং সাদাপাথর পর্যন্ত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৫৯জন শিক্ষার্থী** একসঙ্গে ‘হরিকেল অভিযাত্রা’ নামে একটি সংগঠিত যাত্রায় রওনা দেন শ্রীহট্টে।
- 📌 **টিকিটের জটিলতা** মোকাবেলা করে তারা অনলাইনে একসঙ্গে টিকিট কাটেন, কিন্তু ট্রেনে উঠে সবাই আলাদা বগিতে পড়েন।
- 📌 **সিলেট শহরের দরগাগেটের পাশে** একটি হোটেল বেছে নেওয়া হয় যাতায়াতের সুবিধার জন্য।
- 📌 **২ সেপ্টেম্বর রাতে** উপবন এক্সপ্রেসে চড়ে তারা সিলেটে পৌঁছেন এবং মালনীছড়া চা-বাগান থেকে অভিযাত্রা শুরু করেন।
- 📌 **মালনীছড়া চা-বাগান** (১৮৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত) থেকে শুরু করে তারা রাতারগুলের জলাবনে নৌকা ভ্রমণ করেন এবং শেষ গন্তব্য হিসেবে সাদাপাথর পৌঁছান।
- 📌 **সাদাপাথর** ধলাই নদের পাথরঘেরা এলাকা, যেখানে ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা নদীর পানি এবং পাহাড়ের দৃশ্য তাদের আকর্ষণ করে।
📰 বিস্তারিত
৫৯জন শিক্ষার্থীর এই অভিযাত্রা শুরু হয় একটি দীর্ঘ পরিকল্পনার পর। তারা ‘হরিকেল অভিযাত্রা’ নামে একটি নাম রাখেন। কিন্তু টিকিটের ব্যবস্থা ছিল সবচেয়ে কঠিন কাজ। তারা দুটি বগির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করলেও সফল হননি। শেষ পর্যন্ত তারা সকাল আটটায় সবাই একত্রে রেলওয়ের অ্যাপে টিকিট কাটার সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় ২০ জনকে একসঙ্গে এই কাজে জড়িয়ে রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত ৫৯ জনের টিকিট কাটা হলো, কিন্তু প্রত্যেকের টিকিট আলাদা বগিতে পড়ল।
২ সেপ্টেম্বর রাতে ৫৯ জনের দল কমলাপুর রেলস্টেশনে উপস্থিত হন। রাত সাড়ে ১০টায় উপবন এক্সপ্রেসে চড়ে তারা সিলেটের পথে রওনা দেন। ট্রেনে উঠে সবাই আলাদা বগিতে পড়লেও তাদের যাত্রার উৎসাহ কমেনি। সিলেট স্টেশনে পৌঁছার পর তারা আগে থেকে ঠিক করা লেগুনায় চেপে হোটেলে যান। সেখানে কিছু বিশ্রাম ও খাওয়াদাওয়া করার পর তারা ‘হরিকেল অভিযাত্রা’র প্রথম দিনের অভিযান শুরু করেন।
মালনীছড়া চা-বাগান ছিল তাদের প্রথম গন্তব্য। এই চা-বাগান ১৮৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং এটি উপমহাদেশের প্রথম চা-বাগান হিসেবে পরিচিত। বৃষ্টিভেজা আকাশে তারা চা-বাগান ঘুরে দেখেন। বৃষ্টির মধ্যেও তারা ছবি তুলছিলেন, ভিডিও করছিলেন এবং বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা করছিলেন।
পরবর্তীতে তারা রাতারগুলের জলাবনে যান। এই জলাবন বাংলাদেশের পরিচিত মিঠাপানির জলাবনগুলোর একটি। বর্ষায় বনের বেশিরভাগ অংশ পানিতে ডুবে যায়। তারা নৌকায় চড়ে জলাবনের দৃশ্য দেখেন। নৌকার চলার সঙ্গে তৈরি হওয়া ছোট ছোট ঢেউ এবং চারপাশের সবুজ পরিবেশ তাদেরকে আকৃষ্ট করে।
সাদাপাথর ছিল তাদের শেষ গন্তব্য। ভোলাগঞ্জের ধলাই নদের পাথরঘেরা এলাকা সাদাপাথর নামে পরিচিত। ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা ধলাই নদীর পানি, পাথর এবং পাহাড়ের দৃশ্য তাদেরকে মুগ্ধ করে। পানিতে পা রাখার মুহূর্তে তাদের ক্লান্তি ভুলে যেতে দেখায়। তারা ছবি তুলছিলেন, পানিতে নেমে বন্ধুদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে সময় কাটাচ্ছিলেন।
"মালনীছড়া চা-বাগান থেকে শুরু করে রাতারগুলের জলাবন এবং সাদাপাথর পর্যন্ত এই অভিযাত্রায় আমরা প্রকৃতির বিভিন্ন রূপ দেখতে পেয়েছি। সবাই একসঙ্গে থাকার এই সুযোগ আমাদের জন্য বিশেষ ছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মালনীছড়া চা-বাগান, রাতারগুলের জলাবন, সাদাপাথর (সিলেট, বাংলাদেশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ৫৯জন শিক্ষার্থী (বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৯ জন শিক্ষার্থী, ২০ জন সহযোগী, ২ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!