📌 মাউশির পরিদর্শনে দেখা গেছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৫৭ শতাংশ শ্রেণিকক্ষে ব্যবহৃত শিক্ষা উপকরণ পাঠ্যসূচির সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। উপকরণের ঘাটতি নয়, সামঞ্জস্য ও ধারাবাহিক মূল্যায়নের দুর্বলতাই প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে
পুরান ঢাকার ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে গত ১৯ আগস্ট পদার্থবিজ্ঞানের ক্লাসে সহকারী শিক্ষক আবদুল্লাহ আল নাহিয়ান সরল দোলকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিভব শক্তির সংরক্ষণশীলতা বিষয়টি সহজভাবে বুঝিয়েছিলেন। তাঁর মতে, সঠিক শিখন উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে কঠিন বিষয়গুলোও শিক্ষার্থীদের কাছে সহজ হয়ে ওঠে। তবে দেশের অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এমন চিত্র বিরল। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সাম্প্রতিক পরিদর্শন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের ৫৭ শতাংশ বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে ব্যবহৃত শিক্ষা উপকরণ পাঠ্যসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৫৭ শতাংশ শ্রেণিকক্ষে ব্যবহৃত শিক্ষা উপকরণ পাঠ্যসূচির সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ
- 📌 পরিদর্শন করা ২ হাজার ৭৪৭টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৭ শতাংশ বিদ্যালয়ে উপকরণের সামঞ্জস্য না থাকার প্রমাণ মিলেছে
- 📌 ধারাবাহিক মূল্যায়নের রেকর্ড যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয় না এমন বিদ্যালয়ের হার ৫২ শতাংশ
- 📌 অসংগতিপূর্ণ উপকরণ ব্যবহারের দিক থেকে ঢাকা অঞ্চলে সর্বাধিক ৩২১টি বিদ্যালয় রয়েছে
- 📌 মাউশির পরিদর্শনে দেশের ৫ হাজার ৪৩১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
মাউশির পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন শাখার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দেশের ৫ হাজার ৪৩১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ৭৪৭টি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পর্যবেক্ষণ করা বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ৫৭ শতাংশ বিদ্যালয়ে ব্যবহৃত শিক্ষা উপকরণ পাঠ্যসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শুধু উপকরণের সামঞ্জস্য নয়, শিক্ষার্থীদের শিখন অগ্রগতি যাচাইয়ের ব্যবস্থাতেও দুর্বলতা রয়েছে। পর্যবেক্ষণ করা বিদ্যালয়গুলোর ৫২ শতাংশ বিদ্যালয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়নের রেকর্ড যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি।
মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, শিক্ষকদের সঠিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ শিখন উপকরণ ব্যবহারের বিষয়ে বিদ্যালয়গুলোকে সতর্ক করা হচ্ছে। তিনি জানান, বিদ্যালয়গুলোকে আরও তদারকি করা হচ্ছে যাতে শিক্ষার্থীরা কার্যকরভাবে শিখতে পারে। মাউশির পরিদর্শনে দেখা গেছে, অধিকাংশ বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা উপকরণ থাকলেও তা পাঠ্যসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পরিদর্শন করা বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ২ হাজার ৯৮টি বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ রয়েছে। তবে এর মধ্যে মাত্র ১ হাজার ১৯০টি বিদ্যালয়ে ব্যবহৃত উপকরণ পাঠ্যসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
"শিক্ষকেরা যেন পাঠদানের সময় সঠিক ও সংগতিপূর্ণ শিখন উপকরণ ব্যবহার করেন, সে বিষয়ে বিদ্যালয়গুলোকে সতর্ক করার পাশাপাশি মনিটরিং জোরদার করা হচ্ছে।"
অসংগতিপূর্ণ উপকরণ ব্যবহারের দিক থেকে অঞ্চলভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঢাকা অঞ্চলে সর্বাধিক ৩২১টি বিদ্যালয় রয়েছে। এরপর রয়েছে ময়মনসিংহে ২৪৯টি, খুলনায় ১৯৪টি, রংপুরে ১৯৩টি, বরিশালে ১৫৩টি, চট্টগ্রামে ১৩৫টি, রাজশাহীতে ১৩২টি, কুমিল্লায় ১১১টি এবং সিলেট অঞ্চলে ৬৯টি বিদ্যালয়। মাউশির প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের বই বাসায় নিয়ে পড়ার সুযোগ, শিক্ষক-কর্মচারীদের অননুমোদিত অনুপস্থিতি এবং যৌন হয়রানির অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সারা দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহ
- 👥 প্রধান ব্যক্তি: অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল (মাউশি মহাপরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৭ শতাংশ, ৫২ শতাংশ, ২ হাজার ৭৪৭টি বিদ্যালয়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!