📌 যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। রপ্তানি বৃদ্ধি ও বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানান তিনি
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অতিরিক্ত ১০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। শনিবার দুপুরে সিলেট মহানগর পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর সাধারণ শুল্কের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে
- 📌 মার্কিন পাল্টা শুল্কের আওতায় বাংলাদেশ সবচেয়ে কম শুল্ক আরোপিত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম
- 📌 ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের অবকাঠামো ও ডিজিটাল খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন
- 📌 সরকার দেশের স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে
- 📌 বাংলাদেশের বাণিজ্যঘাটতি ২৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি
- 📌 সিএমএসএমই খাতের অবদান বর্তমানে জাতীয় অর্থনীতিতে ৩৪ শতাংশ
- 📌 সরকারের লক্ষ্য সিএমএসএমই খাতের অবদান ৫০ শতাংশে উন্নীত করা
📰 বিস্তারিত
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতির আওতায় বাংলাদেশের ওপর সাধারণ শুল্কের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে মার্কিন এই পদক্ষেপ অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের জন্য তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। তিনি আরও জানান, মার্কিন পাল্টা শুল্ক আরোপিত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম যেসব দেশের ওপর সবচেয়ে কম শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের অবকাঠামো ও ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া তারা বাংলাদেশ ও ভারতের স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর করার বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছেন। তিনি জানান, স্থলবন্দরগুলো বন্ধ থাকায় ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাঁচামাল পরিবহনে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের সীমান্তের স্থলবন্দরগুলো দ্রুত পুরোপুরি সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহনের জটিলতা কমবে এবং দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য আরও বাড়বে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের বিনিয়োগে আগ্রহ রয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধিদলের কিছু প্রস্তাব ও পরামর্শ বিবেচনায় নিয়েছে সরকার।
বাংলাদেশের বাণিজ্যঘাটতি সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের আমদানি রপ্তানির তুলনায় বেশি। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক দেশেই এমন পরিস্থিতি বিদ্যমান। তবে তিনি দেশের রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, রপ্তানি বাড়লে আমদানির পরিমাণও বাড়বে। ভিয়েতনামের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, দেশটির আমদানি-রপ্তানি মিলিয়ে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার, যেখানে বাংলাদেশের পরিমাণ প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের অর্থনীতির আকারের সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণ আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সিলেট মহানগর পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সিলেট মহানগরে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আইন অনুযায়ী কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দলমত নির্বিশেষে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
এদিন দুপুরে মন্ত্রী সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শাহপরান (রহ.) বাইপাস এলাকায় প্রস্তাবিত বিসিক-৩-এর জমি পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, বর্তমানে জাতীয় অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩৪ শতাংশ। সরকারের লক্ষ্য এই অবদান ৫০ শতাংশে উন্নীত করা। শিল্প খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে দৈনিক সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা সৌরশক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার সম্ভব। স্টোরেজ সুবিধা থাকলে সন্ধ্যার পিক আওয়ারেও এই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে। সরকার ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে।
"আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আইন অনুযায়ী কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দলমত–নির্বিশেষে অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিলেট, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: খন্দকার আবদুল মুক্তাদির (বাণিজ্যমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ শতাংশ, ২৭ বিলিয়ন ডলার, ৮০০ বিলিয়ন ডলার, ৬০০ বিলিয়ন ডলার, ৩৪ শতাংশ, ৫০ শতাংশ, ১০ হাজার মেগাওয়াট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!