📌 বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট উত্তরণে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণে জোর দিচ্ছে সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তত সাত দিনের এলএনজি মজুত রাখার সক্ষমতা তৈরি করা না হলে জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হবে
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চলমান সংকট থেকে তাৎক্ষণিক উত্তরণের উপায় হিসেবে স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। জ্বালানি সংরক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার তাগিদ দেওয়া হলেও তা সময়সাপেক্ষ বলে উল্লেখ করেন তারা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৬৫ শতাংশই এখন আমদানিনির্ভর, যা ২০৩০ সালে ৯০ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে
- 📌 এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে যান্ত্রিক কার্যক্রমের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকায় অন্তত সাত দিনের সরবরাহ সমপরিমাণ মজুত রাখার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
- 📌 বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা সরবরাহের ঘাটতি এড়াতে আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে পূর্ণোদ্যমে চালু রাখতে হবে
- 📌 সরকারের সদিচ্ছা থাকলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বিদ্যমান কর ও মূল্য সংযোজন করের বাধা দূর করতে হবে
📰 বিস্তারিত
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণে জোর দিচ্ছে সরকার। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জ্বালানি সংরক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে সংকট উত্তরণ সম্ভব হলেও তা সময়সাপেক্ষ। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১০ ও ২০১৬ সালের মহাপরিকল্পনায় জ্বালানি আমদানিকে সর্বোচ্চ প্রাধিকার দেওয়া হলেও নিজস্ব জ্বালানির উৎস অনুসন্ধানে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় জ্বালানির ৬৫ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই হার ২০৩০ সালের মধ্যে ৯০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে যান্ত্রিক কার্যক্রমের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকায় অন্তত সাত দিনের সরবরাহ সমপরিমাণ মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রম বন্ধ রাখার শর্ত চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। দেশে বিকল্প জ্বালানি উৎস না থাকায় এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করেন তারা।
আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে পূর্ণোদ্যমে চালু রাখা এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চালু করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বিদ্যমান কর ও মূল্য সংযোজন করের বাধা দূর করে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের তাগিদ দেন তারা। সরকারের সদিচ্ছা থাকলেও মাঠপর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হতে হয় বলে উল্লেখ করেন তারা।
"আমরা সারাক্ষণই আপৎকালীন সমস্যা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। দীর্ঘ মেয়াদের চিন্তা করলেও সেটার ব্যাপারে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। সে কারণে ছয় মাসের সমস্যা সামাল দিতেই আমরা সর্বোচ্চ মনোযোগ দিচ্ছি, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদের কাজগুলো সব সময় পিছিয়ে থাকছে।" — ম তামিম, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও উপাচার্য, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি)
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ম তামিম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৫ শতাংশ, ৯০ শতাংশ, ৭ দিন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!