📌 বাংলাদেশের শহুরে জনসংখ্যা ৪২ শতাংশে পৌঁছালেও কৃষকের সমস্যা নিয়ে আলোচনা কম। সারের উচ্চমূল্য ও দুষ্প্রাপ্যতা ধানের উৎপাদনকে বিপন্ন করছে। শহরের মানুষের মধ্যে কৃষকদের প্রতি উদাসীনতা প্রকট
বাংলাদেশে শহুরে জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে এখন ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ১৯৭২ সালে ছিল মাত্র ৮ দশমিক ২ শতাংশ। মাত্র ৫৫ বছরে গ্রাম ছেড়ে শহরে আসা এই মানুষেরা শহুরে জীবিকার সঙ্গে যুক্ত হলেও অধিকাংশের আয়ই পর্যাপ্ত নয়। ফলে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে তারা গ্রামের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখলেও কৃষকের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে অনাগ্রহী। এমনকি রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও এই প্রবণতা দেখা যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশের শহুরে জনসংখ্যা ৪২ শতাংশে পৌঁছালেও কৃষকের সমস্যা নিয়ে আলোচনা কম
- 📌 জয়পুরহাট ও মেহেরপুরে সার বিক্রি হচ্ছে সরকারি দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি
- 📌 মেহেরপুরে টিএসপি সারের দুষ্প্রাপ্যতা দেখা দিয়েছে
- 📌 শহুরে মানুষেরা কৃষকদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে অনাগ্রহী
- 📌 রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও কৃষকদের সমস্যা নিয়ে উদাসীনতা রয়েছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের শহুরে জনসংখ্যা ১৯৭২ সালে ছিল মাত্র ৮ দশমিক ২ শতাংশ। কিন্তু মাত্র ৫৫ বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ শতাংশে। শহরে আসা এই মানুষেরা শহুরে জীবিকার সঙ্গে যুক্ত হলেও অধিকাংশের আয়ই পর্যাপ্ত নয়। ফলে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে তারা গ্রামের চাল-ডাল-আম-কাঁঠালের দিকে তাকিয়ে থাকে। তবে শহরের এই মানুষেরা কৃষকের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে একেবারেই আগ্রহী নয়। এমনকি রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও এই প্রবণতা দেখা যায়।
২১ আগস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, জয়পুরহাট ও মেহেরপুরে সরকারনির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে। মেহেরপুরে টিএসপি সার পাওয়া যাচ্ছে না। দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, বাংলাদেশের কৃষি-আবাদ ও বাজার-সংস্কৃতি প্রায় একই ধরনের। ফলে সারের উচ্চমূল্য ও দুষ্প্রাপ্যতা দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও বিরাজ করছে।
এমন পরিস্থিতিতে আমনের চারা রোপণের সময় হওয়ায় কৃষকদের জন্য সার ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু বিদ্যুৎ ও ডিজেল ঘাটতির কারণে সেচ-জল সরবরাহেও সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অথচ শহুরে মানুষেরা কৃষকের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে অনাগ্রহী। এমনকি রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও এই প্রবণতা দেখা যায়।
"বাংলাদেশের উঠতি শহুরে সমাজের সদস্যরা কৃষি নিয়ে আলোচনা করাটাকে যথেষ্ট চৌকস কাজ বলে মনে করেন না। তদুপরি তাঁরা এ আলোচনায় প্রবৃত্ত হলে এর মধ্য দিয়ে পেছনের অর্থাৎ পিতৃপুরুষের কৃষক পরিচয় প্রকাশ পেয়ে যায় কি না, সে হীনম্মন্যতায়ও তাঁরা ভোগেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 প্রধান ব্যক্তি: শহুরে মানুষ, কৃষক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪২ শতাংশ, ৮ দশমিক ২ শতাংশ, ৪০০ টাকা, ৬০০ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!