📌 ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে মোট ১৫ কোটি ৮৬ লাখ টন পণ্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষ ১০ পণ্যের পরিমাণই ছিল ৯ কোটি ৯৮ লাখ টন। কয়লা প্রথমবারের মতো শীর্ষ স্থান দখল করেছে, যেখানে ক্লিংকারের ২৫ বছরের আধিপত্যের অবসান ঘটেছে
বাংলাদেশে সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ১৫ কোটি ৮৬ লাখ টন পণ্য আমদানি হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই আমদানির মধ্যে শীর্ষ ১০ পণ্যের পরিমাণই ছিল ৯ কোটি ৯৮ লাখ টন। অর্থাৎ প্রতি ১০০ কেজি আমদানি করা পণ্যের প্রায় ৬৩ কেজিই ছিল এই ১০টি পণ্য।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে মোট ১৫ কোটি ৮৬ লাখ টন পণ্য আমদানি হয়েছে
- 📌 শীর্ষ ১০ পণ্যের পরিমাণ ছিল ৯ কোটি ৯৮ লাখ টন, যা মোট আমদানির ৬৩ শতাংশ
- 📌 কয়লা প্রথমবারের মতো শীর্ষ স্থান দখল করেছে, যার পরিমাণ ২ কোটি ৭ লাখ টন
- 📌 ক্লিংকারের ২৫ বছরের শীর্ষস্থান হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছে, যার পরিমাণ ১ কোটি ৯২ লাখ টন
- 📌 চূর্ণ পাথর তৃতীয় স্থানে রয়েছে, যার পরিমাণ ১ কোটি ৬৮ লাখ টন
- 📌 গম একমাত্র ভোগ্যপণ্য হিসেবে পঞ্চম স্থানে রয়েছে, যার পরিমাণ ৭৪ লাখ ৩৪ হাজার টন
- 📌 সিমেন্টশিল্পের চার ধরনের কাঁচামাল মিলিয়ে আমদানি হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৮৫ লাখ টন
📰 বিস্তারিত
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে দেশের ৪৬টি কাস্টমস স্টেশন দিয়ে মোট ১৫ কোটি ৮৬ লাখ টন পণ্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষ ১০ পণ্যের পরিমাণ ছিল ৯ কোটি ৯৮ লাখ টন। এই ১০ পণ্যের মধ্যে শিল্পের কাঁচামাল, জ্বালানি ও অবকাঠামো নির্মাণের উপকরণের আধিপত্য রয়েছে।
২৫ বছরের শীর্ষ স্থান হারিয়ে কয়লা প্রথমবারের মতো শীর্ষ স্থান দখল করেছে। বিদায়ী অর্থবছরে দেশে ২ কোটি ৭ লাখ টন কয়লা আমদানি হয়েছে। কয়লার এই উত্থান অবশ্য অপ্রত্যাশিত নয়। দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হওয়ার পর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লার চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। গত অর্থবছরে আমদানি হওয়া মোট কয়লার প্রায় ৭৫ শতাংশই এসেছে ছয়টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে।
ক্লিংকারের ২৫ বছরের শীর্ষস্থান হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছে। গত অর্থবছরে ক্লিংকার আমদানি হয়েছে ১ কোটি ৯২ লাখ টন। সিমেন্ট উৎপাদনে ক্লিংকারের পাশাপাশি স্ল্যাগ, চুনাপাথর, ফ্লাই অ্যাশসহ কয়েক ধরনের কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়। শীর্ষ ১০ আমদানি পণ্যের তালিকায় এই চারটিরই স্থান হয়েছে। ক্লিংকারের পর সিমেন্টের আরেক কাঁচামাল স্ল্যাগ রয়েছে চতুর্থ অবস্থানে। গত অর্থবছরে স্ল্যাগ আমদানি হয়েছে ৮৩ লাখ টন। ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা চুনাপাথর আমদানি হয়েছে প্রায় ৬০ লাখ টন। আর প্রায় ৫০ লাখ টন আমদানি নিয়ে ফ্লাই অ্যাশ বা ছাই রয়েছে দশম অবস্থানে।
চূর্ণ পাথর তৃতীয় স্থানে রয়েছে, যার পরিমাণ ১ কোটি ৬৮ লাখ টন। সড়ক, ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে এই পাথর ব্যবহৃত হয়। চূর্ণ পাথরের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বোল্ডার পাথরও আমদানি হয়েছে। গত অর্থবছরে বোল্ডার পাথর আমদানি হয়েছে ৫৫ লাখ টন, যা অষ্টম অবস্থানে রয়েছে।
শীর্ষ দশে একমাত্র ভোগ্যপণ্য গম। পরিমাণের হিসাবে গম রয়েছে পঞ্চম অবস্থানে। গত অর্থবছরে দেশে ৭৪ লাখ ৩৪ হাজার টন গম আমদানি হয়েছে। দেশে গমের চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আমিরুল হক (চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ কোটি ৮৬ লাখ টন (মোট আমদানি), ৯ কোটি ৯৮ লাখ টন (শীর্ষ ১০ পণ্য), ২ কোটি ৭ লাখ টন (কয়লা), ১ কোটি ৯২ লাখ টন (ক্লিংকার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!