📌 জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ এক লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। জনতা ব্যাংক সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ ধারণ করেছে ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা। এস আলম গ্রুপের ঋণ খেলাপি অবস্থা নিয়ে সংসদ সদস্যরা প্রশ্ন তোলেন।
জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ রোববার রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ এক লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বলে জানান। তিনি বলেন, এই ঋণগুলোর মধ্যে জনতা ব্যাংক সর্বাধিক খেলাপি ঋণ ধারণ করেছে ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংকের ১৯ হাজার ২৮১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংকের ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, বেসিক ব্যাংকের ৮ হাজার ১৩১ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ৮৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাষ্ট্রায়ত্ত ৬টি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ: এক লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা
- 📌 জনতা ব্যাংক সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ: ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা
- 📌 অর্থমন্ত্রী: "কোম্পানিকে বন্ধ করে দেওয়া অর্থনীতির ক্ষতি করে"
- 📌 এস আলম গ্রুপের ঋণ: ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি
- 📌 সরকার: বিদ্যুৎ ও কৃষি খাতে সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে
📰 বিস্তারিত
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "একটি দেশের অর্থনৈতিক পরিচালনায় কোম্পানির কার্যক্রম অব্যাহত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত দুর্নীতির কারণে কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়া অর্থনীতির ক্ষতি করে। আইনের অধীনে কোম্পানির কার্যক্রম চলতে দিতে হবে।" অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, "বাংলাদেশ ব্যাংক আইন ভঙ্গ করে কোনো ঋণ দেওয়া হয় না। পুনঃতফসিলের সুযোগ থাকলে তা দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বিচার অব্যাহত থাকবে।"
সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের শীর্ষ ঋণ খেলাপি দেশ। এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এসএস পাওয়ারকে ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ ডলারের এলসি খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, সরকার কেন ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠানকে নিলামে তুলে না দিচ্ছে এবং বিশেষ ঋণ দিয়ে তাদের উৎসাহিত করছে না। অর্থমন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য জাতীয় স্বার্থ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিদ্যুৎ ও কৃষি খাতে সহায়তা অব্যাহত রাখা হচ্ছে।"
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে বেসরকারিভাবে পরিচালিত ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক অনুমোদিত হয়েছে। তিনি বলেন, "উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান হলো জাতীয় স্বার্থ, আর্থিক সক্ষমতা ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।"
"আইনের ওপর অর্থনীতি চলতে হবে। ইমোশনের ওপর অর্থনীতি চলে না। ব্যক্তিগত দুর্নীতির কারণে কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়া অর্থনীতির ক্ষতি করে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় সংসদ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, সংসদ সদস্য আব্দুল আলীম, আবদুল হান্নান মাসউদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা (মোট খেলাপি ঋণ), ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা (জনতা ব্যাংক), ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা (এস আলম গ্রুপের ঋণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!