📌 খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের সরকারি স্কুলগুলোর ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। দরপত্রের শর্ত ও মূল্য নির্ধারণ নিয়ে ব্যবসায়ীদের অনীহা প্রকল্পটিকে থামিয়ে দিয়েছে। সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওজোপাডিকো।
খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার মুখে পড়েছে। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের হাঁসফাঁস অবস্থা স্বাভাবিক দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে খুলনা বিভাগের ১০ জেলা ও বরিশালের ৬ জেলাসহ মোট ২১ জেলার ১ হাজার ৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিল ওজোপাডিকো।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের হাঁসফাঁস অবস্থা দৈনন্দিন ঘটনা
- 📌 সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ ও ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্যমাত্রা
- 📌 খুলনা বিভাগের ১০ জেলা ও বরিশালের ৬ জেলাসহ মোট ২১ জেলার ১ হাজার ৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ
- 📌 দরপত্রের শর্ত ও মূল্য নির্ধারণ নিয়ে ব্যবসায়ীদের অনীহার কারণে প্রকল্পটি ব্যর্থ
- 📌 ওজোপাডিকো নতুন উদ্যমে প্রকল্প পুনরায় শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে
📰 বিস্তারিত
খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার মুখে পড়েছে। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের হাঁসফাঁস অবস্থা স্বাভাবিক দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। শ্রেণিকক্ষের ভেতরে বিদ্যুতের দেখা না থাকায় বই-খাতা দিয়ে বাতাস করে স্বস্তি খোঁজার চেষ্টা করছে শিক্ষার্থীরা। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কিছু সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন দৈনন্দিন চিত্র দেখা যায়। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করা গেলে সূর্যের আলো থেকেই পাওয়া যেত প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ। ফলে কমে আসত তীব্র লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি।
জ্বালানি সংকটে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে লোডশেডিং। শহর কিংবা গ্রাম, খুলনা অঞ্চলে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এমন পরিস্থিতিতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ সোলারসহ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে কেবল রুফটপ সোলার থেকেই ৩ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
সরকারের এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে খুলনা বিভাগের ১০ জেলা এবং বরিশালের ৬ জেলাসহ মোট ২১ জেলার ১ হাজার ৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল বসানোর উদ্যোগ নেয় ওজোপাডিকো। গত বছরের অক্টোবরে আহ্বান করা এই দরপত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন মূল্য ধরা হয়। আগ্রহ দেখিয়ে ৫টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনলেও শেষ পর্যন্ত কেউ তা জমা দেয়নি। পরবর্তীতে ছয় দফা সময় বাড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত সাড়া না পাওয়ায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সম্পূর্ণ দরপত্র বাতিল করে ওজোপাডিকো।
প্রকল্পটি ভেস্তে যাওয়ার পেছনে দরপত্রের শর্ত ও দর নির্ধারণকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমিতির সভাপতি মোস্তফা আল মামুন বলেন, ‘ওজোপাডিকো প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের যে দাম নির্ধারণ করেছে এবং পরবর্তীতে অবকাঠামোগত যে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের শর্ত দিয়েছিল, বর্তমান বাজারদর ও ডলারের মানের তুলনায় তা কোনোভাবেই লাভজনক নয়। বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ১ হাজার ৩১টি স্কুলে আলাদাভাবে টেকনিশিয়ান পাঠানো এবং প্যানেল দেখভাল করার খরচ অনেক বেশি। ফলে ব্যবসায়ীরা হিসেব-নিকাশ করে দেখেছেন যে এই প্রকল্পে নামলে লোকসান গুনতে হবে। আমরা সরকারকে আরও নমনীয় ও বাস্তবসম্মত নীতি প্রণয়নের অনুরোধ জানিয়েছি।’
তবে হাল না ছেড়ে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ওজোপাডিকো। সংস্থাটির সোলার ইউনিট প্রধান মতিউর রহমান বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার ঘটানো। প্রথম দফায় ব্যবসায়ীদের অনীহার কারণে দরপত্র বাতিল করতে হলেও আমরা তাদের মতামত ও আপত্তিগুলো পর্যালোচনা করছি। দর পুনর্নির্ধারণ করা যায় কি না এবং কীভাবে শর্তগুলো সহজ করে প্রকল্পটি বিনিয়োগবান্ধব করা যায়, সে বিষয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। খুব শিগগিরই আমরা নতুন উদ্যমে নতুন দরপত্র আহ্বান করব।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনা, বরিশাল, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোস্তফা আল মামুন, মতিউর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০, ১২, ২০, ৩০, ৩, ১০, ৬, ২১, ১, ৩১
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!