📌 বিজ্ঞানীরা এমন এক খুদে রোবট উদ্ভাবন করেছেন যা ইঞ্জিন বা মোটরের সাহায্য ছাড়াই শব্দতরঙ্গের শক্তিতে চলাচল করতে সক্ষম। নতুন এই প্রযুক্তি আলট্রাসনিক কম্পাঙ্ক ব্যবহার করে অতিক্ষুদ্র যন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করার পথ উন্মুক্ত করেছে
জার্মানির একদল প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানী সম্প্রতি এমন এক অভিনব প্রযুক্তির রোবট উদ্ভাবন করেছেন, যা কোনো ইঞ্জিন বা মোটরের সাহায্য ছাড়াই শুধুমাত্র শব্দতরঙ্গের শক্তিতে চলাচল করতে পারে। বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স অ্যাডভান্সেস-এ প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে তাঁরা জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের শব্দ শুনলেই রোবটের অভ্যন্তরীণ ফাঁপা কাঠামোগুলো কম্পিত হয়ে ওঠে। ফলে সেখান থেকে বাতাসের শক্তিশালী ধাক্কা সৃষ্টি হয়, যা যন্ত্রটিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিজ্ঞানীরা উদ্ভাবন করেছেন ইঞ্জিনবিহীন রোবট, যা শব্দতরঙ্গের শক্তিতে চলাচল করতে সক্ষম
- 📌 আলট্রাসনিক কম্পাঙ্ক ব্যবহার করে অতিক্ষুদ্র যন্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রযুক্তি উদ্ভাবন
- 📌 ৫ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের নৌকা ও ১ মিলিমিটার আকারের উড়োজাহাজ তৈরি করেছেন গবেষকেরা
- 📌 হারমান ফন হেলমহোল্টজের আবিষ্কৃত হেলমহোল্টজ রেজোন্যান্স প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত যন্ত্রাংশ
📰 বিস্তারিত
গবেষক দলটি তাঁদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মাধ্যমে এমন এক খুদে রোবট তৈরি করেছেন, যা কোনো বিদ্যুৎচালিত মোটর বা ইঞ্জিনের প্রয়োজন ছাড়াই চলাচল করতে পারে। এই প্রযুক্তির মূল ভিত্তি হলো শব্দতরঙ্গের শক্তিকে যান্ত্রিক গতিতে রূপান্তর করা। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের শব্দ শুনলেই রোবটের অভ্যন্তরীণ ফাঁপা কাঠামোগুলো কম্পিত হয়ে ওঠে। ফলে সেখান থেকে বাতাসের শক্তিশালী ধাক্কা সৃষ্টি হয়, যা যন্ত্রটিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়।
জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হারমান ফন হেলমহোল্টজ ১৮৫৬ সালে আবিষ্কার করেছিলেন যে, কোনো ফাঁপা জায়গায় আটকে থাকা বাতাস কম্পিত হলে তা থেকে অল্প পরিমাণ বাতাস বাইরে বেরিয়ে আসে। তাঁর নামানুসারে এই ঘটনার নাম দেওয়া হয়েছে হেলমহোল্টজ রেজোন্যান্স। গবেষকেরা তাঁদের উদ্ভাবনে এই নীতিকেই কাজে লাগিয়েছেন। তাঁরা টু-ফোটন প্রিন্টিং নামক এক বিশেষ থ্রিডি-প্রিন্টিং কৌশল ব্যবহার করে অতিক্ষুদ্র ফাঁপা কাঠামো তৈরি করেছেন, যা আলট্রাসনিক কম্পাঙ্কের শব্দ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
গবেষণা দলটি প্রায় ৫ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের ছোট নৌকা তৈরি করেছেন, যার অভ্যন্তরে একাধিক রেজোনেটর যুক্ত ছিল। প্রতিটি রেজোনেটর নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের শব্দ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতো এবং মুখ বিভিন্ন দিকে ঘোরানো ছিল। ফলে স্পিকারের মাধ্যমে শব্দের সুর পরিবর্তন করে তাঁরা নৌকাটিকে ইচ্ছেমতো ডানে, বাঁয়ে বা সামনে চালাতে সক্ষম হন। এছাড়া তাঁরা মাত্র ১ মিলিমিটার আকারের উড়োজাহাজও তৈরি করেছেন, যা রকেটের মতো নিচের দিকে ধাক্কা সৃষ্টি করে উড়তে পারে। এমনকি কিছু উড়োজাহাজ হেলিকপ্টারের মতো নিজেদের গায়ের ক্ষুদ্র ব্লেড ঘোরাতেও সক্ষম হয়েছে, যার শক্তিও আসে শব্দতরঙ্গ থেকে।
"প্রচলিত বিদ্যুৎ ও মোটর ব্যবস্থার তুলনায় এই নতুন প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর অতিক্ষুদ্র আকার। একে সহজেই অত্যন্ত ক্ষুদ্র আকারে নির্মাণ করা সম্ভব, যা প্রচলিত মোটরের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।"
গবেষণাপত্রের সহলেখক অধ্যাপক সেলমান সাকার জানিয়েছেন, প্রচলিত মোটর নির্মাণের জন্য চুম্বক, তারের কয়েল ও শ্যাফটের মতো উপাদানের প্রয়োজন হয়, যা যন্ত্রটিকে নির্দিষ্ট মাপের চেয়ে ছোট করা সম্ভব করে না। কিন্তু এই রেজোনেটরগুলো কেবল সুনির্দিষ্ট আকৃতির ফাঁপা গহ্বর হওয়ায় এদেরকে অতি ক্ষুদ্র আকারে নির্মাণ করা যায়। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি আরও উন্নত হয়ে ছোট যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাতে পারে বলে গবেষকেরা আশাবাদী।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জার্মান
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: হারমান ফন হেলমহোল্টজ, অধ্যাপক সেলমান সাকার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ সেন্টিমিটার, ১ মিলিমিটার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!