📌 রাজশাহীতে পোলাওয়ের চালের দাম দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় ভোক্তারা চিন্তিত। ব্যবসায়ীরা রপ্তানির কারণে সরবরাহ কমে যাওয়াকে দায়ী করলেও কৃষকেরা দাবি করেছেন, তাঁরা উৎপাদন মৌসুমেই ধান বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছেন
রাজশাহীতে মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে পোলাওয়ের চালের দাম দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা হতবাক হয়ে গেছেন। আগে যেখানে প্রতি কেজি চালের দাম ছিল ১০০ টাকা, সেখানে এখন তা বেড়ে হয়েছে ২০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তাঁরা জীবনে এমন দাম বৃদ্ধি দেখেননি। অন্যদিকে কৃষকেরা জানিয়েছেন, উৎপাদন মৌসুমে তাঁরা যে দামে ধান বিক্রি করেছিলেন, তা এখন প্রায় দ্বিগুণ হলেও তাঁদের ঘরে আর কোনো ধান নেই।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজশাহীতে পোলাওয়ের চালের দাম ছয় মাসে দ্বিগুণ হয়ে ২০০ টাকা প্রতি কেজিতে উন্নীত হয়েছে
- 📌 ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, রপ্তানির কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে
- 📌 কৃষকেরা জানিয়েছেন, উৎপাদন মৌসুমে তাঁরা ধান বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছেন, ফলে দাম বৃদ্ধির সুফল তাঁরা পাননি
- 📌 ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তিনটি প্রতিষ্ঠান মিলে দিনাজপুর থেকে ১ হাজার ৫৩০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করেছে
- 📌 দিনাজপুরে এবার চিনিগুঁড়া ধানের আবাদ হয়েছে ৯৫ হাজার হেক্টর জমিতে
📰 বিস্তারিত
রাজশাহীর সাহেববাজার এলাকায় কর্মরত জাহাঙ্গীর আলম খান গত বুধবার পোলাওয়ের চাল কিনতে গিয়ে হতভম্ব হয়ে যান। তিনি জানান, পাঁচ মাস আগে তিনি প্রতি কেজি চাল কিনেছিলেন ১৪০ টাকায়, কিন্তু এবার তা কিনতে হয়েছে ২৩০ টাকা দরে। দোকানিরা তাঁকে জানিয়েছেন, আগের দামের যুগ আর নেই। রাজশাহীর কুমারপাড়া এলাকার গোলাপ মামার হোটেলের স্বত্বাধিকারী মো. গোলাপ সরদার জানান, ছয় মাস আগে তিনি প্রতি কেজি চাল কিনেছিলেন ১৩০ টাকায়, কিন্তু এখন তা কিনতে হচ্ছে ২০০ টাকা দরে। তবে তিনি সে অনুযায়ী পোলাওয়ের দাম বাড়াতে পারেননি বলে জানান।
রাজশাহীর পাইকারি চাল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁরা এই চাল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। খুচরা বাজারে দাম আরও বেশি। সাহেববাজারের এপি চাউল ভান্ডার-১-এর স্বত্বাধিকারী অশোক প্রসাদ জানান, কোরবানির ঈদের পর থেকেই দাম বাড়তে শুরু করে। তাঁর মতে, এই মূল্যবৃদ্ধি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, চাল রপ্তানি হওয়ায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। রপ্তানি বন্ধ হলে দাম আবার কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদী।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান, চিনিগুঁড়া ধান থেকে তৈরি সুগন্ধি চাল মোড়কজাত করে স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, ইস্পাহানি অ্যাগ্রো ও প্রাণ অ্যাগ্রোসহ কয়েকটি বড় কোম্পানি। তিনি আরও জানান, দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার জহুরা অটো রাইস মিল স্থানীয়ভাবে সুগন্ধি চাল প্রক্রিয়াজাত ও বিপণন করে। এ ধানকে কেন্দ্র করে জেলায় প্রায় ২০০ অটো রাইস মিল গড়ে উঠেছে।
"রপ্তানির কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। রপ্তানি বন্ধ হলে দাম আবার কমে আসবে।" — অশোক প্রসাদ, এপি চাউল ভান্ডার-১-এর স্বত্বাধিকারী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী, দিনাজপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আফজাল হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম খান, গোলাপ সরদার, অশোক প্রসাদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০ টাকা, ২০০ টাকা, ১ হাজার ৫৩০ মেট্রিক টন, ৯৫ হাজার হেক্টর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!