📌 করপোরেট জীবনে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য অভিযোজনযোগ্যতা, ডিজিটাল দক্ষতা ও ধারাবাহিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন এসিআইয়ের জি এম ফারিদ হোসেন। বিক্রয় ও বিতরণ অভিজ্ঞতাকে তিনি ব্যবসা শেখার মাধ্যম হিসেবে দেখতে বলেছেন।
করপোরেট জীবনে প্রবেশের পর প্রথম কয়েক বছরেই কর্মক্ষেত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রশ্নটি বদলে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ পরীক্ষা শেষে জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়া তরুণ বা সদ্য অফিসে যোগ দেওয়া তরুণীর সামনে তখন প্রশ্ন থাকে, কীভাবে এমন একজন পেশাজীবী হওয়া যায় যাকে প্রতিষ্ঠান সত্যিই প্রয়োজন মনে করে। এসিআইয়ের কনজ্যুমার ডিজিটাল বিজনেসের হেড অব সেলস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন জি এম ফারিদ হোসেন তাঁর ১৪ বছরের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তুলে ধরেছেন করপোরেট সাফল্যের অজানা দিকগুলো।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 করপোরেট জীবনে অভিযোজনযোগ্যতা এখন টিকে থাকার মৌলিক দক্ষতা হিসেবে বিবেচিত
- 📌 বিভিন্ন শিল্পে কাজের অভিজ্ঞতা এক শিল্প থেকে অন্য শিল্পে প্রয়োগযোগ্য দক্ষতা তৈরি করে
- 📌 ডিজিটাল দক্ষতা বলতে শুধু সফটওয়্যার চালানো নয়; তথ্য বিশ্লেষণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত
- 📌 ধারাবাহিক আপস্কিলিং ও নিজেকে প্রশ্ন করার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের চাবিকাঠি
- 📌 বিক্রয় পেশাকে শুধু চাকরি নয়, ব্যবসা শেখার উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখার পরামর্শ
📰 বিস্তারিত
ফারিদ হোসেন তাঁর কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে জানান, ক্যারিয়ার কোনো সরল সিঁড়ি নয়; এটি নদীর মতো যেখানে কখনো পথ বদলাতে হয়, কখনো অচেনা তীরে ভিড়তে হয়। যে ব্যক্তি স্রোতের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন, তিনি শেষ পর্যন্ত অনেক দূর যেতে পারেন। করপোরেট জগতে অভিযোজনযোগ্যতা এখন আর অতিরিক্ত কোনো গুণ নয়; এটি টিকে থাকার মৌলিক দক্ষতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, টেলিকমে গ্রাহককে বোঝার অভিজ্ঞতা এফএমসিজিতে বাজারের আচরণ বুঝতে কাজে লাগতে পারে। ডিভাইস ব্যবসায় চ্যানেল ম্যানেজমেন্টের শিক্ষা ফিনটেকে অংশীদার ব্যবস্থাপনায় কাজে আসতে পারে। তাই নতুন দায়িত্ব বা নতুন শিল্পকে ভয় না পেয়ে আগের অভিজ্ঞতার কোন অংশটি এখানে নতুনভাবে কাজে লাগানো যায় তা ভাবতে হবে।
আজকের কর্মজগতে ডিজিটাল দক্ষতা ছাড়া এগিয়ে যাওয়া কঠিন বলে উল্লেখ করেন ফারিদ হোসেন। তাঁর মতে, ডিজিটাল দক্ষতা মানে শুধু কোনো সফটওয়্যার চালাতে পারা নয়; তথ্য পড়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে কাজকে আরও কার্যকর করা এবং অনলাইনে পেশাদার যোগাযোগ বজায় রাখাও এর অংশ।
"বিক্রয়কর্মী যদি শুধু মাসিক লক্ষ্যমাত্রা জানেন, কিন্তু কোন অঞ্চলে কেন বিক্রি কমছে তা তথ্য দিয়ে ব্যাখ্যা করতে না পারেন, তাহলে তাঁর সম্ভাবনা সীমিত থাকবে। প্রযুক্তি মানুষের বিকল্প নয়; বরং যে ব্যক্তি প্রযুক্তিকে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ব্যবহার করতে পারেন, প্রযুক্তি তাঁর সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।"
ফারিদ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ চাকরির দরজা খুলতে পারে; তবে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য দরকার ধারাবাহিক আপস্কিলিং। প্রতিবছর নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে, গত বছর কী শিখেছি? আগামী বছর কোন দক্ষতা আমাকে আরও কার্যকর করবে? ব্যবসায়িক যোগাযোগ, ডেটা বিশ্লেষণ, উপস্থাপনা, নেতৃত্ব এবং ইংরেজি ও বাংলায় পরিষ্কারভাবে লেখার ক্ষমতা ধীরে ধীরে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বিক্রয় ও বিতরণ অভিজ্ঞতাকে বিশেষ মূল্যবান বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, বিক্রয় পেশা তরুণদের প্রত্যাখ্যান সামলাতে, দর-কষাকষি করতে, লক্ষ্য নির্ধারণ করতে এবং ফলাফলের দায় নিতে শেখায়। অফিসের আলো ঝলমলে কক্ষের বাইরে বাজারে যাওয়া, গ্রাহকের চোখে নিজের পণ্যকে দেখা এবং মাঠের মানুষের সঙ্গে কাজ করা ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপককে অনেক বেশি বাস্তববাদী করে তোলে। তাই বিক্রয়কে শুধু চাকরি হিসেবে নয়, ব্যবসা শেখার উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখার পরামর্শ দেন তিনি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জি এম ফারিদ হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!