📌 পুরোনো ও ছেঁড়া ব্যাংক নোটের কারণে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও ব্যাংকাররা বিপাকে পড়ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নোট সরবরাহে দেরি হওয়ায় পুরোনো নকশার নোটই চলছে বাজারে
পুরোনো ব্যাংক নোটের কারণে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও ব্যাংকাররা বিপাকে পড়ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নোট সরবরাহে দেরি হওয়ায় পুরোনো নকশার নোটই চলছে বাজারে। ফলে ছেঁড়া, ফাটা ও জীর্ণ নোট দিয়ে লেনদেন করতে হচ্ছে মানুষকে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কারওয়ান বাজারের একটি ব্যাংকের সিআরএমে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ৩৬টি পুরোনো নোট প্রত্যাখ্যান করা হয়
- 📌 বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, পুরোনো নোটের সমস্যা সমাধানে নতুন নোট সরবরাহে দেরি হচ্ছে
- 📌 জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিসহ পুরোনো নোট বাজারে ছাড়া বন্ধ করে বাংলাদেশ ব্যাংক
- 📌 নতুন নোট ছাপানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যার সরবরাহে সময় লাগে তিন মাস
- 📌 বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুনে মানুষের হাতে ছিল ৩ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার মতো নোট
📰 বিস্তারিত
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের একটি ব্যাংকের শাখায় গিয়েছিলেন এক বেসরকারি চাকরিজীবী। তিনি চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে জরুরি ভিত্তিতে টাকা পাঠাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাংকের সিআরএমে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ৩৬টি পুরোনো নোট প্রত্যাখ্যান করা হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, নোটগুলো বেশি পুরোনো হয়ে গেছে। যদিও তিনি কাছের আরেকটি ব্যাংক থেকে নোটগুলো উত্তোলন করেছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান প্রথম আলোকে বলেন, পুরোনো নোটের সমস্যা সমাধানে নতুন নোট সরবরাহে দেরি হচ্ছে। তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিসহ পুরোনো নোট বাজারে ছাড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু নতুন নকশার নোট ছাপিয়ে বাজারে ছাড়তে অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে ছাপানো টাকার পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। মানুষের হাতে ছিল ৩ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার মতো। বাকিটা ছিল ব্যাংকে। অন্যদিকে নতুন নোট ছাপানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, ইতালি ও ইন্দোনেশিয়ার আটটি কোম্পানি কাঁচামাল সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত।
আরিফ হোসেন খান বলেন, কাঁচামাল আসার পরও নোট ছাপাতে তিন মাসের মতো সময় লেগে যায়। কারণ, টাঁকশাল নামে পরিচিত সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেডের (এসপিসিবিএল) সক্ষমতা কম। তিনি জানান, এখন ২ ও ৫ টাকার কাগুজে নোট ছাপানো বন্ধ। এ মূল্যমানের ধাতব মুদ্রা ব্যাংকের ভল্টে পড়ে আছে। ব্যাংকগুলোও এসব মুদ্রা গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করতে আগ্রহী নয়।
"পুরোনো নোটের সমস্যা সমাধানে নতুন নোট সরবরাহে দেরি হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পুরোনো নকশার নোট ছাপানো বন্ধ হয়ে যায়। নতুন নকশা অনুমোদন ও ছাপাতে সময় লাগছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কারওয়ান বাজার, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আরিফ হোসেন খান (বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ হাজার টাকা, ৩৬টি নোট, ৪ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!