📌 বরিশাল জেলায় মালচিং পদ্ধতির চাষাবাদে কৃষকরা পেয়েছেন নতুন সম্ভাবনা। আগাছা নিয়ন্ত্রণ, পানি সাশ্রয় ও শ্রম খরচ কমানোর মাধ্যমে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় অধিক লাভজনক হয়ে উঠছে এই প্রযুক্তি
বরিশাল, ২০ আগস্ট ২০২৬: অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মতো প্রতিকূলতার মধ্যেও মালচিং পদ্ধতির মাধ্যমে বরিশাল জেলার কৃষকরা পেয়েছেন নতুন সম্ভাবনা। প্রচলিত চাষাবাদের তুলনায় কম খরচে ও কম শ্রমে অধিক ফলন পাওয়ার ফলে দিন দিন এই প্রযুক্তির প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মালচিং পদ্ধতিতে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা, আগাছা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সাশ্রয়ের মাধ্যমে ফসল উৎপাদনে বিপ্লব ঘটেছে
- 📌 শসা, টমেটো, মরিচ, বেগুন, চিচিঙ্গা, করলা, লাউ ও তরমুজসহ বিভিন্ন সবজি চাষে ব্যবহৃত হচ্ছে এই প্রযুক্তি
- 📌 ২০ শতক জমিতে মালচিং পেপার ব্যবহারের খরচ প্রায় ৬ হাজার ৫শ’ টাকা
- 📌 প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় মালচিংয়ে শ্রম ও সেচ খরচ কমে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পেয়েছে
- 📌 কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মালচিং প্রযুক্তিকে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন
📰 বিস্তারিত
বরিশাল জেলায় প্রচলিত চাষাবাদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয় কৃষকদের। অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, আগাছা ও রোগবালাইয়ের কারণে প্রায়শই কাক্সিক্ষত ফলন পাওয়া সম্ভব হয় না। এছাড়া শ্রমিকের উচ্চ খরচও কৃষকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে মালচিং পদ্ধতি কৃষকদের জন্য হয়ে উঠেছে নতুন আশার আলো।
মালচিং পদ্ধতিতে জমিতে নির্দিষ্ট দূরত্বে বেড তৈরি করে তার ওপর বিশেষ ধরনের মালচিং পেপার বা পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিক শিট বিছিয়ে দেয়া হয়। প্রয়োজনীয় স্থানে ছিদ্র করে সেখানে চারা রোপণ করা হয়। এতে সূর্যের আলো সরাসরি মাটিতে পৌঁছাতে না পারায় আগাছার বৃদ্ধি কমে যায়। একই সঙ্গে মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘসময় ধরে রাখা যায়, ফলে ঘন ঘন সেচ দেয়ার প্রয়োজন হয় না। মাটির তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় ফসলের বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
হিজলা সদর উপজেলার কৃষক আনোয়ার জানান, তিনি এক একর জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো, করলা, বেগুন ও লাউ চাষ করেছেন। শুরুতে কিছুটা বাড়তি খরচ হলেও পরবর্তী সময়ে আগাছা পরিষ্কার ও সেচের খরচ অনেকটাই কমে যায়। প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় জমির পরিচর্যা সহজ হয়েছে এবং ফলন ও লাভ দুটোই ভালো পাচ্ছেন তিনি।
উজিরপুর উপজেলার কৃষক সুরুজও মালচিং পদ্ধতিতে লাউ, করলা, বেগুন ও চিচিঙ্গা চাষ করছেন। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজ করলেও এ পদ্ধতি ব্যবহারের পর জমির পরিচর্যায় সময় ও শ্রম দুটোই কম লাগছে। আগের তুলনায় খরচ কম এবং ফলনও ভালো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
"মালচিং পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে একই জমিতে কম শ্রম ও তুলনামূলক কম পানি ব্যবহার করে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব হয়েছে। ফলে এটি কৃষকের সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের একটি কার্যকর উপায় হয়ে উঠছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বরিশাল জেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কৃষক আনোয়ার, কৃষক সুরুজ, মো. মামুনুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ শতক, ৪ ফুট, ১ হাজার ৬৮৫ ফুট, ৬ হাজার ৫শ’ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!