📌 বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি বাতিল ঘোষণা করলেও সরকার নতুন ঋণ কর্মসূচির জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা সরকারের এই দ্বৈত অবস্থানকে আর্থিক সংকটের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন
বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা জাগিয়ে দিয়েছে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মন্তব্য। তিনি আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি বাতিল ঘোষণা করলেও সরকারের পক্ষ থেকে নতুন ঋণ কর্মসূচির জন্য আলোচনা চলছে। এই দ্বৈত অবস্থান নিয়ে অর্থনীতিবিদদের সতর্কতা জাগিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে এবং তাদের শর্তগুলো বাংলাদেশের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
- 📌 সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ গত জুনেই আইএমএফের কাছে নতুন ঋণ কর্মসূচির জন্য আবেদন করেছে এবং এই মাসেই ঢাকায় আইএমএফের প্রতিনিধি দল আসার কথা রয়েছে।
- 📌 অর্থনীতিবিদ ডঃ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেছেন, সরকারের বাজেটে সংস্কারের অভাব থাকা সত্ত্বেও আইএমএফের ঋণ এড়ানো কঠিন হবে।
- 📌 অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশ ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রতি বছর ৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রয়োজন।
- 📌 সরকার ডলার বন্ড, সামুরাই বন্ড এবং প্যান্ডা বন্ডের মতো বৈশ্বিক ফাইন্যান্সিয়াল প্রোডাক্টের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
রবিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত 'বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি বাতিলের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দাতা সংস্থার ওপর নির্ভর করা যাবে না। তিনি আইএমএফের শর্তগুলোকে বাংলাদেশের কাছে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন না।
অর্থমন্ত্রী বলেন, "২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যে আমরা আইএমএফের ওপর নির্ভর করতে পারি না। আমি আইএমএফের প্রোগ্রাম ক্যান্সেল করে দিয়েছি। তাদের শর্ত আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।" তিনি আরও বলেন, "আইএমএফ ওয়ার্ল্ড ব্যাংক পয়সা দিবে এটা ভুলে যান। আমার প্রতি বছর ৫০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। তোমরা সবাই মিলে দশ বিলিয়ন ডলার দিবা ওটার জন্য আমার টাইম নাই।"
অর্থমন্ত্রীর মন্তব্যের পর অর্থনীতিবিদ ডঃ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সতর্কতা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, "আইএমএফের বড় শর্ত হলো সংস্কার। সংস্কার ছাড়া তারা অর্থায়নে যাবে না। কিন্তু সরকারের বাজেট ডকুমেন্টে বলা হয়েছে প্রথম দুই বছরে তারা বড় কোন সংস্কারে যাবে না। বরং জনতুষ্টির জন্য ফ্যামিলি কার্ড, সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বাড়ানো ও বিশাল বড় এডিপি নেওয়া হয়েছে। এগুলো নিয়েও আইএমএফের আপত্তি আছে।"
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ গত জুনেই আইএমএফের কাছে নতুন ঋণ কর্মসূচির জন্য আবেদন করেছে এবং এই মাসেই ঢাকায় আইএমএফের প্রতিনিধি দল আসার কথা রয়েছে। এছাড়া, এই মাসেই ওয়াশিংটনে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় বাংলাদেশ নতুন ঋণ কর্মসূচি সম্পর্কে আলোচনা করবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, "বিশ্বমানের অর্থনীতির সঙ্গে তাল মেলাতে আমাদের 'হাই স্ট্রিট থেকে ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট'-এর দিকে যাত্রা করতে হবে। আমরা আইএমএফ কর্মসূচি বাতিল করেছি কারণ তাদের শর্তগুলো আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।"
অর্থমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিচ্ছে। তিনি বলেন, "নিউইয়র্কে আমরা ডলার বন্ড এবং হংকংয়ে বাংলাদেশ ডেডিকেটেড ফান্ড প্রবর্তনের উদ্যোগ নিচ্ছি। পাশাপাশি সামুরাই বন্ড ও প্যান্ডা বন্ডের মতো বৈশ্বিক ফাইন্যান্সিয়াল প্রোডাক্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের পাবলিক ও প্রাইভেট সেক্টরের ফাইন্যান্সিং স্ট্রাকচার বদলে দেওয়া হবে।"
"আইএমএফ- এর বড় শর্ত হলো সংস্কার। সংস্কার ছাড়া তারা অর্থায়নে যাবে না। কিন্তু সরকারের বাজেট ডকুমেন্টে বলা হয়েছে প্রথম দুই বছরে তারা বড় কোন সংস্কারে যাবে না। বরং জনতুষ্টির জন্য ফ্যামিলি কার্ড, সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বাড়ানো ও বিশাল বড় এডিপি নেওয়া হয়েছে।"
"২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির জন্য আমরা আইএমএফ এর ওপর নির্ভর করতে পারি না। আইএমএফ ওয়ার্ল্ড ব্যাংক পয়সা দিবে এটা ভুলে যান। আমি আইএমএফ এর প্রোগ্রাম ক্যান্সেল করে দিয়েছি। তোমাদের শর্ত আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য না।"
"তোমরা (আইএমএফকে ইঙ্গিত করে) যে টাকা দিবে তা দিয়ে বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে যেতে পারবে না। আমার প্রতি বছর ৫০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। তোমরা সবাই মিলে দশ বিলিয়ন ডলার দিবা ওটার জন্য আমার টাইম নাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ডঃ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ বিলিয়ন ডলার (বছরে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ), ১২ই জুলাই (সচিবালয় অনুষ্ঠান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!