📌 মোংলা বন্দরে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে চারটি বিলাসবহুল গাড়ির চালান শনাক্ত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তর। চালানটিতে গুরুত্বপূর্ণ অংশ সংযুক্ত থাকায় তা পুনর্গঠন সম্ভব হওয়ায় শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে
মোংলা বন্দরে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে চারটি বিলাসবহুল গাড়ির চালান শনাক্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। অনুসন্ধানে দেখা যায়, চালানটিতে থাকা অংশগুলো পুনরায় সংযোজন করলে গাড়ির মূল কাঠামো পুনর্গঠন করা সম্ভব। ফলে এটি সাধারণ যন্ত্রাংশ নয়, বরং আংশিক সংযোজিত অবস্থায় মোটরযান আমদানির চেষ্টা ছিল বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চারটি বিলাসবহুল গাড়ির চালান শনাক্ত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তর
- 📌 চালানটিতে গুরুত্বপূর্ণ অংশ সংযুক্ত থাকায় তা পুনর্গঠন সম্ভব হওয়ায় শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ
- 📌 চারটি গাড়ির সম্ভাব্য বাজারমূল্য ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা
- 📌 চালানটির ইনভয়েস মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার
- 📌 গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে রেঞ্জ রোভার ভোগ, বিএমডাব্লিউ ৬৫০ আই, লেক্সাস এলএক্স৫৭০ ও টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট
📰 বিস্তারিত
মোংলা বন্দরে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে চারটি বিলাসবহুল গাড়ির চালান শনাক্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। অনুসন্ধানে দেখা যায়, চালানটিতে থাকা অংশগুলো পুনরায় সংযোজন করলে গাড়ির মূল কাঠামো পুনর্গঠন করা সম্ভব। ফলে এটি সাধারণ যন্ত্রাংশ নয়, বরং আংশিক সংযোজিত অবস্থায় মোটরযান আমদানির চেষ্টা ছিল বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
চালানটির বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-৬৯০৪। আমদানিকারক হিসেবে রয়েছে ঢাকার গেন্ডারিয়ার ক্রাউন অটো মোবাইল সার্ভিসেস এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে খুলনার এসটি ইন্টারন্যাশনাল। জাপানের মাহি কার পোর্ট থেকে পণ্যগুলো আমদানি করা হয়। চালানটিতে মোট ১৪ ধরনের পণ্যের ১৬৪টি প্যাকেজ ছিল। ঘোষিত পণ্যের মধ্যে ছিল ব্যবহৃত দরজা, ২০০০ সিসি পেট্রোল ইঞ্জিনসহ গিয়ার অ্যাসেম্বল, সাসপেনশন শক অ্যাবসরবার, নোজ কাট, হেড লাইট, টেইল লাইট, ফেন্ডার, কেবিন, স্টিরিং হুইল ও বাম্পার।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় এবং মোংলা সার্কেল চালানটির খালাস কার্যক্রম স্থগিত করে। পরে গত ১৯ জুলাই চালানটির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার সময় বিআরটিএ ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তা নেওয়া হয়। গাড়ির বিভিন্ন অংশে থাকা স্টিকার, লেবেল, চিহ্ন ও নম্বর বিশ্লেষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সহায়তায় গাড়িগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
পরীক্ষায় পাওয়া অংশগুলোর মধ্যে ছিল বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ ব্যবস্থা, সংবেদক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সংযুক্ত অবস্থায় সামনের কাটা অংশ, সম্পূর্ণ পেছনের কাটা অংশ, সামনের ও পেছনের অংশ কাটা ও ছাদ কাটা প্যানেল এসেম্বল। অর্থাৎ সাধারণ খুচরা যন্ত্রাংশের মতো সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন না করে গাড়িগুলোকে কয়েকটি বড় অংশে কেটে আমদানি করা হয়েছিল বলে কাস্টমস গোয়েন্দার অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে।
"পরীক্ষায় পাওয়া অংশগুলোর ধরন ও বিন্যাস বিবেচনায় এসব গাড়ির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ মোটরযানের 'এসেনশিয়াল ক্যারেক্টার' বিদ্যমান রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। ফলে এগুলোকে পৃথক ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে না দেখিয়ে জিআরআই আইন অনুযায়ী আংশিক সংযোজিত অবস্থায় সম্পূর্ণ মোটরযান হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করা যেতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মোংলা বন্দর, খুলনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: চারটি গাড়ি, ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!