📌 মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি ও শিল্পের কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে প্রায় ৬ লাখ কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি রয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘায়িত এই যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে
- 📌 বিশ্বব্যাংকের হিসাবে প্রায় ৬ লাখ কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি রয়েছে
- 📌 দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠে আসা মানুষের সংখ্যা কমে যেতে পারে ৫ লাখে
- 📌 দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ২০১৬ সালের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে
- 📌 এলএনজির দাম প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪-২৮ ডলারে উঠেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি
📰 বিস্তারিত
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে। সমুদ্রপথে জাহাজীকরণ ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে আমদানি খরচও বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে জ্বালানি খাতে। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ২০১৬ সালের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। ঘাটতি মেটাতে আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ৬০-৬৫ শতাংশ এবং এলএনজির ৫৫-৬০ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ফলে ওই অঞ্চলে যুদ্ধ মানে বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারে বাড়তি অনিশ্চয়তা।
এরই মধ্যে পেট্রোবাংলার ছয়টি এলএনজি সরবরাহ চুক্তির পাঁচটিকে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করা হয়েছে। স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বেড়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪-২৮ ডলারে উঠেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। সেপ্টেম্বরের জন্য কেনা দুটি এলএনজি কার্গোর দামও প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ ডলারের বেশি পড়েছে। জ্বালানির এই বাড়তি খরচের সঙ্গে যোগ হয়েছে সরকারের ভর্তুকির চাপ। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ২০২৬ সালে জ্বালানি খাতে ভর্তুকির বোঝা ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন থেকে ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে উঠতে পারে।
কৃষিতেও এর প্রভাব পড়ছে। ইউরিয়া উৎপাদনে গ্যাস দরকার; আবার ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপির মতো সারের জন্য বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর। গ্যাস-সংকটে দেশের ছয়টি ইউরিয়া কারখানার পাঁচটিতে উৎপাদন বন্ধ হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়ার দামও প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। সংকট দীর্ঘ হলে দাম দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক।
"বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থার পুরোনো দুর্বলতা এই আশঙ্কাকে আরও বড় করে তুলেছে। দেশের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের অর্ধেকের বেশি আসে গ্যাস থেকে। অথচ দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন ২০১৬ সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। ঘাটতি মেটাতে আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিশ্বব্যাংক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ লাখ কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠতে পারে না
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমেছে ১৫ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!