📌 'ইশো'র প্রতিষ্ঠাতা রায়ানা হোসেন পডকাস্টে বলেছেন, ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য বাজারের গ্যাপ বুঝতে হয় এবং ডেটা-চালিত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। তিনি কীভাবে তৃতীয় প্রজন্মের উদ্যোক্তা হিসেবে ফার্নিচার ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন ধারা গড়ছেন, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন
ব্যবসায়িক উদ্যোগ শুরু করা সহজ হলেও তা টিকিয়ে রাখা এবং সফলভাবে পরিচালনা করা একটা চ্যালেঞ্জিং কাজ। এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হক সঞ্চালিত ‘লিগ্যাসি উইথ এমআরএইচ: সিজন–৩’ পডকাস্টের এক পর্বে ‘ইশো’র প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রায়ানা হোসেন। তিনি কীভাবে পরিবারের ৭০ বছরের ব্যবসায়িক ঐতিহ্য নিয়ে ‘ইশো’ প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং কীভাবে ডিজাইন ও ডেটা-ড্রাইভেন সিদ্ধান্ত নেওয়া ব্যবসায়কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রায়ানা হোসেনের পরিবারের ব্যবসায়িক ঐতিহ্য প্রায় ৭০ বছর, যার শুরু হয়েছিল ‘রক্সি পেইন্ট’ থেকে এবং পরবর্তীতে ‘ডেকো গার্মেন্টস’-এ সম্প্রসারণ ঘটে।
- 📌 ‘ইশো’ প্রতিষ্ঠার সময় তিনি ফার্নিচার ইন্ডাস্ট্রিতে একটি বিশাল মার্কেট গ্যাপ দেখতে পান, যা কোভিডের সময় মানুষের ডিজাইন চাহিদায় পরিবর্তনের কারণে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
- 📌 ডিজাইন করার সময় তিনটি মূল নীতিতে কাজ করেন: ঐতিহ্য, আধুনিকতা ও কার্যকারিতা, যা দেশীয় ও বৈশ্বিক উভয় ঐতিহ্যের সমন্বয় করে।
- 📌 শুরুর দিকে ডিজাইনার ও প্রোডাকশন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে বিদেশ থেকে ডিজাইনার নিয়ে আসতে হয়েছিল এবং কাঠের ধরন ও টেক্সচার সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান অর্জন করতে হয়েছিল।
- 📌 আধুনিক বাংলাদেশের চাহিদা অনুযায়ী ফার্নিচার ডিজাইনে স্লিম ও স্মার্ট টেক্সচারকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, কারণ বর্তমান সময়ে মানুষের থাকার জায়গা ছোট হয়ে আসছে।
- 📌 কোভিডের সময় ডেটা বিশ্লেষণ করে বুঝতে পেরেছিলেন যে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ সেটআপের চাহিদা বেড়েছে, যা ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ডেটার গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করেছে।
📰 বিস্তারিত
‘লিগ্যাসি উইথ এমআরএইচ: সিজন–৩’ পডকাস্টের এক পর্বে রায়ানা হোসেন বলেছেন, ব্যবসায়িক সাফল্যের পেছনে ডিজাইনের ভাষা এবং বাজারের গ্যাপ বুঝতে হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা ডিজাইন করার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করি—ঐতিহ্য, আধুনিকতা ও কার্যকারিতা। অর্থাৎ ডিজাইনে দেশীয় ও বৈশ্বিক ঐতিহ্যের ছাপ থাকবে, সেটি বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কার্যকর হবে।’
রায়ানা হোসেনের পরিবারের ব্যবসায়িক ঐতিহ্য প্রায় ৭০ বছর পুরনো। তিনি বলেন, ‘রক্সি পেইন্ট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমার দাদার হাত ধরে এই যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে আমার বাবা এবং চাচা মিলে শুরু করলেন ডেকো গার্মেন্টস। এরপর আমি আর্কিটেকচার নিয়ে বিদেশে পড়াশোনা করলাম। দেশের বাইরে গিয়ে পড়াশোনা করার উদ্দেশ্যই ছিল দেশে এসে কিছু করা। এরপর দেশে ফিরে আমার যাত্রা শুরু হলো ‘‘ইশো’’র সঙ্গে।’
রায়ানা হোসেনের মতে, ফার্নিচার ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়ার পেছনে ছিল মার্কেট গ্যাপ। তিনি বলেন, ‘আমি যখন দেশে ফিরলাম, তখন ফার্নিচার ইন্ডাস্ট্রিতে একটি মার্কেট–গ্যাপ ছিল। মানুষ যেটা চাচ্ছিল এবং মার্কেটে যেটা ছিল তার মধ্যে বিশাল একটা গ্যাপ ছিল। এ কারণেই আমি এখানে কাজ শুরু করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোভিড চলাকালীন মানুষের মধ্যে ডিজাইনের ধারণায় একটা বিশাল পরিবর্তন আসে। সে সময় মানুষের মধ্যে গ্লোবাল মিডিয়ার এক্সপোজারটা বেড়ে যায়, যা মানুষের রুচি এবং চিন্তাধারা পরিবর্তন করে। তখনই আমাদের ডিজাইনের ভাষায় একটা পরিবর্তন নিয়ে আসতে হয়।’
রায়ানা হোসেনের মতে, ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ডেটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইউনিলিভারের মতো বড় মাল্টি-ন্যাশনাল প্রতিষ্ঠান যেভাবে গ্রাহকের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়, আসবাবশিল্পের ক্ষেত্রেও ঠিক একই নিয়ম প্রযোজ্য। কোভিডের সময় ডেটা বিশ্লেষণ করেই আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে একসময় দীর্ঘমেয়াদে মানুষকে ঘর থেকে কাজ করবে। ডেটার মাধ্যমেই আমরা দ্রুত বুঝতে পারি মানুষ ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ সেটআপের চাহিদা বেড়েছে।’
"ওয়ার্ক ফ্রম হোম"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রায়ানা হোসেন (ইশো প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক), মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হক (অধ্যাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০ বছর (ব্যবসায়িক ঐতিহ্য), ৩ (ডিজাইন নীতি: ঐতিহ্য, আধুনিকতা ও কার্যকারিতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!