📌 ভারতে চিনির দাম হঠাৎ ২০ শতাংশ বৃদ্ধির কারণে পশ্চিমবঙ্গে মিষ্টির দামও বেড়েছে। ইথানল উৎপাদনের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সরকার চিনি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পদক্ষেপ নিয়েছে। পুজোর মৌসুমে ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে
ভারতে চিনির দাম হঠাৎ করে প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে পশ্চিমবঙ্গে মিষ্টির দামও বেড়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া পুজোর মৌসুমে ব্যবসায়ীদের আয় নির্ভর করে মিষ্টির বিক্রির উপর। তবে চিনির মূল্যবৃদ্ধির কারণে তাদের মুনাফা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভারতে চিনির দাম আগস্ট মাসে প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
- 📌 পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় চিনির দাম প্রতি কেজি ৭০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।
- 📌 'জলভরা সন্দেশ' খ্যাত মিষ্টির দোকান 'সূর্য কুমার মোদক'-এর কর্ণধার শৈবাল মোদক জানান, গ্যাস ও চিনির দাম বৃদ্ধির কারণে মিষ্টিপ্রতি লাভ কমেছে।
- 📌 ইথানল উৎপাদনের জন্য চিনির ব্যবহার বৃদ্ধির অভিযোগ উঠলেও সরকার চিনি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পদক্ষেপ নিয়েছে।
- 📌 পশ্চিমবঙ্গ সরকার চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও বাজারে তার প্রভাব এখনও দেখা যায়নি।
📰 বিস্তারিত
ভারতে চিনির দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের মিষ্টি ব্যবসায়ীদের উপর। আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হতে যাওয়া পুজোর মৌসুমে ব্যবসায়ীদের আয় নির্ভর করে মিষ্টির বিক্রির উপর। তবে চিনির মূল্যবৃদ্ধির কারণে তাদের মুনাফা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শৈবাল মোদক জানান, গ্যাস ও চিনির দাম বৃদ্ধির কারণে মিষ্টিপ্রতি লাভ কমেছে। তিনি বলেন, "গ্যাসের দাম বাড়ার জন্য এই কয়েকদিন আগেই দাম বাড়াতে বাধ্য হলাম। আবার চিনির দাম বেড়েছে, ফলে মিষ্টিপ্রতি পাঁচ শতাংশ লাভ কম করতে হচ্ছে। বছরে কতবার দাম বাড়াব?"
এদিকে, ইথানল উৎপাদনের জন্য চিনির ব্যবহার বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে। আখ থেকে উৎপাদিত ইথানল জ্বালানির সাথে মেশানো হচ্ছে, যার ফলে চিনির সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিনি উৎপাদনই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সরকারের একজন মুখপাত্র বলেন, "ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে চিনি কলগুলোর হাতে নগদের জোগান বাড়ে। তবে সরকার সব সময়ই স্পষ্ট করেছে যে, চিনি উৎপাদনই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।"
পশ্চিমবঙ্গ সরকার চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। গত ২৪ আগস্ট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চিনির দাম লাগাম টানার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে তার তিন দিন পরেও বাজারে তার প্রভাব দেখা যায়নি। ভারত সরকারের ভোক্তা বিষয়ক দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০ আগস্ট খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ৫৫ টাকা ৭০ পয়সা, যা এক মাস আগে ছিল ৪৮ টাকা ১৮ পয়সা।
"সরকার ইথানল উৎপাদনের জন্য চিনির ব্যবহার বন্ধ করেনি, তাই বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে- এমন অভিযোগ করা সহজ। কিন্তু মনে রাখতে হবে, চিনি উৎপাদনের প্রাথমিক পূর্বাভাস ছিল অনেক বেশি। আসল সমস্যা হলো, আখ ও চিনি উৎপাদনের সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলকাতা, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শৈবাল মোদক, শুভেন্দু অধিকারী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ শতাংশ, ৭০ টাকা, ৫৫ টাকা ৭০ পয়সা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!