📌 বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাসে ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলারের বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এটিই সর্বোচ্চ পাঁচ মাসের ঋণ পরিশোধ রেকর্ড। সরকারের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকরা বলেছেন, আগের সরকারের ঋণ নেওয়ার অদক্ষতার কারণে বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক চাপে সক্ষমতা প্রদর্শন করছে
বাংলাদেশের বর্তমান সরকার পাঁচ মাসের মধ্যে ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলারের (প্রায় ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা) বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ করেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এর তথ্য অনুযায়ী, এই পরিমাণ ঋণ পরিশোধের রেকর্ড পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ১৭ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এই ঋণ পরিশোধের চাপ মোকাবেলা করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৫ মাসে ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার** বিদেশি ঋণ পরিশোধ — সর্বোচ্চ পাঁচ মাসের রেকর্ড
- 📌 **মার্চ-জুলাই ২০২৬** সময়কালে আসল বাবদ **১৩৫ কোটি ২৪ লাখ ডলার**, সুদ বাবদ **৬৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার** পরিশোধ
- 📌 **প্রতি মাসে গড়ে ৪১ কোটি ডলার** ঋণ পরিশোধের চাপ — আগের বছরের তুলনায় **১৫ কোটি ডলার বেশি**
- 📌 **২০২৫-২৬ অর্থবছরে** বিদেশি ঋণ পরিশোধের লক্ষ্যমাত্রা **৪৪৯ কোটি ডলার** — আগের অর্থবছরের তুলনায় **১০ শতাংশ বেশি**
- 📌 **২০০৯-২০২৪** সময়কালে নেওয়া ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ায় বর্তমান সরকারের ওপর চাপ বেড়েছে
- 📌 **অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর** বলেছেন, আগের সরকার ঋণ নেওয়ার সময় প্রকল্পের মূল্য ও সুফল বিবেচনা করেনি
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র পাঁচ মাসে (মার্চ থেকে জুলাই) ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলারের বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে। এই পরিমাণ ঋণ পরিশোধের রেকর্ড পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগের বছরের একই সময়ে (২০২৫) ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ১৮৯ কোটি ৭১ লাখ ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে এই পাঁচ মাসে সরকারের ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ১৫ কোটি ৪ লাখ মার্কিন ডলার।
অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বাসসকে জানান, আগের সরকার ঋণ নেওয়ার সময় প্রকল্পের ‘ভ্যালু ফর মানি’ বা অর্থের বিপরীতে প্রত্যাশিত সুফল এবং ঋণের সুদের হার যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি। তারপরও সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়মিতভাবে এসব দায় পরিশোধ করে যাচ্ছে।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বর্তমান সরকার ঋণ নেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এখন থেকে শুধু অর্থ সংগ্রহ নয়, বরং বিনিয়োগ থেকে অর্থনৈতিক সুফল কতটা পাওয়া যাবে, সেটিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে দেশি-বিদেশি ঋণের ক্ষেত্রে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে গতিশীলতা বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে।
"আমরা একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি। তারপরও সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়মিতভাবে এসব দায় পরিশোধ করে যাচ্ছে।"
— **রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর**, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার (২৫ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা), ১৩৫ কোটি ২৪ লাখ ডলার (আসল), ৬৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার (সুদ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!