📌 সোনার দাম বেড়ে সোয়া দুই লাখ টাকার বেশি হলে কত ক্যারেটের গয়না কিনলে লাভজনক, কোথায় ঝুঁকি? বাংলাদেশে ২২, ২১, ১৮ ক্যারেট ও সনাতনী সোনার অলংকারের বিশুদ্ধতা ও হলমার্কের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে
সোনার দাম বর্তমানে সোয়া দুই লাখ টাকার বেশি হলে কত ক্যারেটের গয়না কেনা লাভজনক এবং কোথায় ঝুঁকি রয়েছে, তা নিয়ে বাংলাদেশের অনেকেই দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে পড়েছেন। স্বাধীনতার বছর ১৯৭১-এ সোনার ভরি ছিল মাত্র ১৭০ টাকা, যা বর্তমানে ১ হাজার ৩৭০ গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি ২২ ক্যারেট সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা পৌঁছেছিল, যদিও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সোনার দামের ইতিহাস: স্বাধীনতার বছর ১৯৭১-এ সোনার ভরি ছিল ১৭০ টাকা, বর্তমানে ১ হাজার ৩৭০ গুণ বেড়ে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা
- 📌 বিশুদ্ধতার মানদণ্ড: ২৪ ক্যারেট খাঁটি সোনা, বাংলাদেশে ২২, ২১, ১৮ ক্যারেট ও সনাতনী সোনা বিক্রি হয়
- 📌 হলমার্কের গুরুত্ব: বাংলাদেশে হলমার্ক করে থাকে বাংলা গোল্ড ও ঢাকা গোল্ড, অলংকারে লেজার চিহ্ন ও সনদ দেয়
- 📌 ২১ ক্যারেটের চাহিদা বেশি: বাংলাদেশে ২১ ক্যারেটের সোনার অলংকার বেশি বিক্রি হয়, মেশিনে তৈরি অলংকার সাধারণত ২২ ক্যারেটের হয়
- 📌 ব্রোঞ্জের সোনা নিষিদ্ধ: ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ব্রোঞ্জের সোনার চুড়ি ও বালা বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে জুয়েলার্স সমিতি
- 📌 অনলাইন বিক্রির ঝুঁকি: অনলাইনে অলংকার কেনার আগে যাচাই-বাছাই করা দরকার, অন্যথায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে
📰 বিস্তারিত
সোনা এখন লাখ টাকার ধাতু হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোনার দামের এই অদ্ভুত উত্থান-পতনের সাথে জড়িত মানুষদের মধ্যে একটি সাধারণ প্রশ্ন রয়েছে: কত ক্যারেটের সোনার অলংকার কিনলে লাভজনক হবে? এবং কোথায় ঝুঁকি রয়েছে? বাংলাদেশে ২২, ২১, ১৮ ক্যারেট ও সনাতনী সোনার অলংকার বিক্রি হয়। সোনার বিশুদ্ধতা বোঝাতে বিশ্বব্যাপী হলমার্কের ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশেও এই হলমার্কের ব্যবস্থা আছে, যেখানে বাংলা গোল্ড ও ঢাকা গোল্ড হলমার্ক করে থাকে। এই প্রতিষ্ঠান দুটি অলংকার পরীক্ষা করে এবং লেজার দিয়ে ক্যারেটের তথ্য লিখে দেয়। পাশাপাশি একটি সনদও দেয় তারা, যা জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের কাছে সংরক্ষিত থাকে।
জুয়েলার্স সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেছেন, কোনো ক্যারেটের সোনার অলংকার কিনতে পারেন। কম ক্যারেট মানে মান কম, এমন ধারণা ভিত্তিহীন। বিদেশেও ৯ ক্যারেটের অলংকার তৈরি হয়। তবে তিনি বলেছেন, যে ক্যারেটের অলংকার কিনবেন, সেটি অবশ্যই হলমার্ক করা এবং ক্যাশমেমো থাকা উচিত। জুয়েলার্স সমিতির সদস্য প্রতিষ্ঠান থেকে সোনার অলংকার কেনার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সোনার দাম বেড়ে যাওয়ার পর কম ক্যারেটের সোনা ও অন্য ধাতুর অলংকারের চাহিদা বাড়ছে। ব্রোঞ্জের সঙ্গে দুই থেকে তিন আনা সোনা দিয়ে তৈরি ব্রোঞ্জের ‘সোনার’ চুড়ি ও বালা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে এই পণ্যে কি পরিমাণ সোনা দেওয়া হচ্ছে, সেটি পরিমাপ করার কোনো মাপকাঠি না থাকায় গ্রাহকের প্রতারিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এই কারণে ১০ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের জুয়েলারি দোকানে এই ধরনের পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে জুয়েলার্স সমিতি।
ঢাকার বাইরে কিছু এলাকায় জুয়েলারি দোকান মালিকেরা জুয়েলার্স সমিতির নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে সোনার অলংকার বিক্রির প্রলোভন দেন। এমনকি অনলাইনে সোনার অলংকার বিক্রির চটকদার বিজ্ঞাপনও দেখা যায়। দেওয়ান আমিনুল ইসলাম বলেছেন, জুয়েলার্স সমিতির নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ করে থাকেন, তাহলে ধরে নিতে হবে তিনি সোনার মানে কোনো না কোনো ঘাপলা করছেন। অনলাইনে পণ্য কেনার আগে যাচাই-বাছাই করা দরকার, না হলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
"কম ক্যারেট মানে মান কম, এমন ধারণা ভিত্তিহীন। বিদেশেও ৯ ক্যারেটের অলংকার তৈরি হয়। যে ক্যারেটের অলংকার কিনবেন, সেটি অবশ্যই হলমার্ক করা এবং ক্যাশমেমো থাকা উচিত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দেওয়ান আমিনুল ইসলাম (বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭০ টাকা (১৯৭১ সালে সোনার ভরি), ১ হাজার ৩৭০ গুণ (দামের বৃদ্ধি), ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা (বর্তমান সোনার দাম), ২২, ২১, ১৮ ক্যারেট (বিক্রিত সোনার ক্যারেট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!