📌 বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সমন্বিত ম্যানগ্রোভভিত্তিক মৎস্য চাষের সম্ভাবনা নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বন ও মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ করে উচ্চমূল্যের মাছ ও চিংড়ি উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। ২০১২ সাল থেকে শুরু হওয়া পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ১০০ হেক্টর এলাকায় ইতিমধ্যে ৩০০টি ঘেরে চাষ করা হয়েছে
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ম্যানগ্রোভভিত্তিক মৎস্য চাষের সম্ভাবনা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকার প্রথম আলো কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশে উপকূলীয় অঞ্চলে সমন্বিত ম্যানগ্রোভভিত্তিক মৎস্য চাষ’ শীর্ষক বৈঠকে বন ও মৎস্য বিশেষজ্ঞরা দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বাড়ানোর জন্য এই প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬** ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভভিত্তিক মৎস্য চাষের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
- 📌 **১ লাখ ৯৫ হাজার হেক্টর** এলাকার সঠিক ম্যাপিং করা দরকার, যেখানে ম্যানগ্রোভ চাষের উপযোগী জমি চিহ্নিত করতে হবে।
- 📌 **১০০ হেক্টর** এলাকায় ইতিমধ্যে ৩০০টি ঘেরে কেওড়া, বাইন ও গোলপাতা লাগানো হয়েছে।
- 📌 **৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ** পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব চিংড়ির পোনার টিকে থাকার হার ম্যানগ্রোভের লিফ লিটার ব্যবহার করে।
- 📌 **উচ্চমূল্যের চিংড়ি উৎপাদন** বাড়াতে চিংড়িঘেরে ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ করলে কীটনাশক ও সারের ব্যবহার কমবে।
- 📌 **২০ থেকে ২৫ শতাংশ** বনাঞ্চল থাকা প্রয়োজন কার্বন বাফারিংয়ের জন্য, কিন্তু বাংলাদেশের বনাঞ্চল খুবই সীমিত।
- 📌 **চিংড়ি রপ্তানিতে ১ নম্বরে** নিয়ে আসতে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের দরকার। বর্তমানে চিংড়ি রপ্তানিতে চতুর্থ বা পঞ্চম অবস্থানে।
📰 বিস্তারিত
বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক **মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী** বলেছেন, ম্যানগ্রোভভিত্তিক মৎস্য চাষের মাধ্যমে বাড়তি মূল্য সংযোজন সম্ভব। তবে প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ ধ্বংস না করে এই চাষের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, **চকরিয়া সুন্দরবন** একটি বড় উদাহরণ যেখানে ম্যানগ্রোভ ধ্বংসের কারণে পরিবেশগত ক্ষতি হয়েছে। ২০১২ সাল থেকে শুরু হওয়া পাইলট প্রকল্পে **কালীগঞ্জ ও শ্যামনগরে** ১০০ হেক্টর এলাকায় ৩০০টি ঘেরে উপযোগী ম্যানগ্রোভ প্রজাতি লাগানো হয়েছে।
**বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)**ের মহাপরিচালক **ড. মো. লতিফুল ইসলাম** বলেছেন, কার্বন বাফারিংয়ের জন্য একটি দেশের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বনাঞ্চল থাকা প্রয়োজন। বাংলাদেশের বনাঞ্চল খুবই কম এবং এর বড় অংশ সুন্দরবন, শালবন ও মধুপুরে সীমিত। তিনি বলেছেন, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। ম্যানগ্রোভের লিটারে থাকা নাইট্রোজেন ও ফসফরাস মৎস্যসম্পদের পুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে কাজ করে।
মৎস্য অধিদপ্তরের **মো. সাজদার রহমান** বলেছেন, সুন্দরবনের লিফ লিটার ব্যবহার করলে চিংড়ির পোনার টিকে থাকার হার **৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ** পর্যন্ত বাড়তে পারে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ম্যানগ্রোভের শিকড় চিংড়ির খোলস বদলের সময় আশ্রয় দেয়। তিনি আরও বলেছেন, চিংড়িকে রপ্তানির তালিকায় **১ নম্বরে** নিয়ে আসতে আধুনিক ও উচ্চ প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। বর্তমানে চিংড়ি রপ্তানিতে চতুর্থ বা পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।
"ম্যানগ্রোভের পাতা ও ছোট ডাল পানিতে পচে পুষ্টি তৈরি করে, যা ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন, জুপ্ল্যাঙ্কটনসহ চিংড়ির খাদ্য তৈরিতে সহায়তা করে। গবেষণায় আমরা দেখেছি, সুন্দরবনের লিফ লিটার ব্যবহার করলে চিংড়ির পোনার টিকে থাকার হার ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (প্রথম আলো কার্যালয়), উপকূলীয় অঞ্চল (কালীগঞ্জ, শ্যামনগর, চকরিয়া সুন্দরবন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী (প্রধান বন সংরক্ষক), ড. মো. লতিফুল ইসলাম (বিএফআরআই মহাপরিচালক), মো. সাজদার রহমান (মৎস্য অধিদপ্তর পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০০ হেক্টর, ৩০০টি ঘের, ১ লাখ ৯৫ হাজার হেক্টর, ৭০-৭৫ শতাংশ, ২০-২৫ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!