📌 গ্যাস সংকটে দেশের কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি জানান, সমাধানে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি ও ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে এসব বাস্তবায়নে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে
গ্যাস সংকটে দেশের কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, দেশে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধিতে নতুন অনুসন্ধান, এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি এবং ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানান তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গ্যাস সংকটে কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির
- 📌 দেশে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে, যার সঙ্গে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে সর্বোচ্চ ৯০০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া যায়
- 📌 বিদ্যুৎকেন্দ্র, মিল-কারখানা ও নতুন শিল্প সংযোগের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় গ্যাস সরবরাহ অর্ধেকেরও কম
- 📌 এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি ও নতুন ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে
- 📌 সাম্প্রতিক সময়ে দুটি ভাসমান টার্মিনালের একটি থেকে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা ও অন্যটির বয়লার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে
📰 বিস্তারিত
সিলেট নগরের ধোপাদিঘীরপার এলাকায় শনিবার দুপুরে কৃষিবিষয়ক একটি কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বাসাবাড়িতেও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে—এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি আগের সরকারের সময় থেকে পাওয়া উত্তরাধিকার।
বর্তমানে দেশে মাটির নিচ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে সর্বোচ্চ ৯০০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে দেশে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে বলে জানান তিনি। বিদ্যুৎকেন্দ্র, মিল-কারখানা এবং নতুন শিল্প সংযোগের জন্য অপেক্ষমাণ চাহিদা বিবেচনায় এই পরিমাণ গ্যাস প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গ্যাসের ঘাটতি মেটানোর অন্যতম উপায় হিসেবে দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। অতীতে দীর্ঘদিন গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম বন্ধ থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের মাটির নিচে গ্যাস অনুসন্ধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। বাপেক্স এবং বাপেক্সের অধীন বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোও এ কাজে নিয়োজিত রয়েছে। তবে অনুসন্ধান করে কবে কত পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
"এলএনজি আমদানি বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের উদ্যোগ রয়েছে। চাইলেই এলএনজি আমদানি বাড়ানো সম্ভব নয়। নতুন এফএসআরইউ স্থাপন করতে হলে সেটি তৈরি করতে সময় লাগে। পাশাপাশি সমুদ্র থেকে জাতীয় গ্রিড পর্যন্ত পানির নিচ দিয়ে পাইপলাইন স্থাপনের কাজও করতে হয়। এসব প্রক্রিয়ায় প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে।"
সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অবনতির কারণ হিসেবে তিনি দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি থেকে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা এবং অন্যটির বয়লার নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। ইতিমধ্যে একটি টার্মিনালে আবার গ্যাস ভরা শুরু হয়েছে এবং অন্যটির একটি বয়লার মেরামত করা হয়েছে। আরেকটি বয়লার মেরামতের কাজ চলছে। দুটি টার্মিনাল থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস পাওয়া গেলে পরিস্থিতি প্রায় এক মাস আগের অবস্থায় ফিরে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিলেট নগরের ধোপাদিঘীরপার এলাকায়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: খন্দকার আবদুল মুক্তাদির (বাণিজ্যমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট, ৯০০ এমএমসিএফডি, ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফডি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!