📌 গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে দেশের শিল্পখাত বিপর্যস্ত। নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় শিল্পমালিকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের শিল্পখাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে শতাধিক কারখানা উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, চট্টগ্রাম, ঢাকা, গাজীপুর, সাভার, ময়মনসিংহ, খুলনা ও হবিগঞ্জ এলাকার কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গ্যাস সংকটে দেশের শতাধিক কারখানা সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ করেছে
- 📌 নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম এলাকায় অর্ধেকের বেশি নিত্যপণ্য প্রক্রিয়াজাত কারখানা বন্ধ
- 📌 মেঘনা গ্রুপের ৫৭টি কারখানার মধ্যে ৪০টির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ
- 📌 টি কে গ্রুপের ২৮টি কারখানার অধিকাংশই উৎপাদন বন্ধ করেছে
- 📌 এসিআই লিমিটেডের কারখানাগুলোর উৎপাদন ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে
- 📌 গ্যাসের চাপ কম থাকায় শ্রমিকদের কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে
- 📌 বিদ্যুৎ সংকট ও গ্যাস না থাকায় জেনারেটর চালানো সম্ভব হচ্ছে না
📰 বিস্তারিত
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের শিল্পখাত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। গত এক মাস ধরে গ্যাস সরবরাহে তীব্র সংকট চলছে। গত সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক কারখানায় শ্রমিকদের কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। চাপ কিছুটা বাড়লেই উৎপাদন শুরু হলেও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারছে না শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো।
নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, চট্টগ্রাম, ঢাকা, গাজীপুর, সাভার, ময়মনসিংহ, খুলনা ও হবিগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের বেশির ভাগ উৎপাদনমুখী বড় শিল্পকারখানা এসব এলাকায় অবস্থিত। শিল্পমালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্যাস সরবরাহ সংকটের কারণে গত এক সপ্তাহে এসব অঞ্চলে ১০০টির বেশি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে বড় শিল্পগোষ্ঠীর কারখানাই অর্ধশতাধিক।
নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম এলাকায় নিত্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতের শতাধিক কারখানার মধ্যে প্রায় অর্ধেকই সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) দুই-তৃতীয়াংশের বেশি কারখানায় উৎপাদন বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল বিকেল পর্যন্ত মেঘনা গ্রুপের মালিকানাধীন ৫৭টি কারখানার মধ্যে ৪০টির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ ছিল।
অন্য একটি শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী টি কে গ্রুপের ২৮টি কারখানার অধিকাংশই উৎপাদন বন্ধ করেছে বলে জানিয়েছেন গ্রুপের পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা হায়দার। তিনি জানান, ঢাকার আশপাশের গ্যাসনির্ভর কারখানাগুলোর মধ্যে মাত্র একটিতে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালু রয়েছে; বাকিগুলো একেবারে বন্ধ। দেশের উত্তরাঞ্চল এবং যশোর ও খুলনা অঞ্চলেও টি কে গ্রুপের বেশ কিছু কারখানা রয়েছে। এগুলো বিদ্যুৎনির্ভর হলেও লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এসব স্থানে দিনে ৮ থেকে ১০ বার পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এসিআই লিমিটেডের বিভিন্ন কারখানায় সামগ্রিক উৎপাদন কমেছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক কামরুল হাসান জানান, তাদের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোথাও ৩০ শতাংশ, কোথাও ৫০ শতাংশ, কোথাও এর চেয়েও বেশি হারে উৎপাদন কমে গেছে। বিশেষ করে লবণ উৎপাদন বেশি ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘একদিকে বিদ্যুতের সমস্যা ভোগাচ্ছে। আবার যেসব কারখানায় জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হতো, গ্যাস না থাকায় এখন সেই জেনারেটরও চালানো সম্ভব হচ্ছে না।’
‘গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক না হলে উৎপাদন আরও ব্যাহত হতে পারে।’ — কামরুল হাসান, নির্বাহী পরিচালক, এসিআই লিমিটেড
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ঢাকা, গাজীপুর, সাভার, ময়মনসিংহ, খুলনা, হবিগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কামরুল হাসান (নির্বাহী পরিচালক, এসিআই লিমিটেড), মুহাম্মদ মোস্তফা হায়দার (পরিচালক, টি কে গ্রুপ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০ (কারখানা), ৫৭ (কারখানা), ৪০ (কারখানা), ২৮ (কারখানা), ৮-১০ (বার লোডশেডিং), ৩০-৫০ (শতাংশ উৎপাদন কম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!