📌 গাইবান্ধায় সরকারি ধান ক্রয় অভিযান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। প্রকৃত কৃষকদের তালিকা না করে মহাজনদের মাধ্যমে ধান বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কম মূল্যে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকেরা
গাইবান্ধায় সরকারি ধান ক্রয় অভিযান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। জেলা খাদ্য বিভাগ গত ৯ আগস্ট থেকে ধান ক্রয় বন্ধ করে দেওয়ায় প্রকৃত কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি সাদেকুল ইসলাম জানান, সরকারি গুদামে স্থান থাকলেও ধান ক্রয় বন্ধ থাকায় কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাইবান্ধায় সরকারি ধান ক্রয় অভিযান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন
- 📌 প্রকৃত কৃষকদের তালিকা না করে মহাজনদের মাধ্যমে ধান বিক্রির অভিযোগ
- 📌 সরকার নির্ধারিত দাম প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪৪০ টাকা হলেও স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকায়
- 📌 জেলায় বোরো ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ লাখ ৯৪ হাজার ১০৮ টন, উৎপাদিত হয়েছে ৮ লাখ ৯২ হাজার ১৭৩ টন
- 📌 গোবিন্দগঞ্জের কৃষক হাফেজ আলী জানান, তাঁর উৎপাদিত ধান বিক্রি করতে পারলে লোকসান গুনতে হবে
📰 বিস্তারিত
গাইবান্ধা জেলায় সরকারি ধান ক্রয় অভিযান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৫৬৩ টন। গত ৩ মে থেকে সরকারিভাবে ধান ক্রয় শুরু হলেও গত ৯ আগস্ট থেকে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে প্রকৃত কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত ধান বিক্রি করতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি সাদেকুল ইসলাম বলেন, সরকারি গুদামে স্থান থাকলেও ধান ক্রয় বন্ধ থাকায় কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সরকার প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করলেও স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ মোটা ধান ৮৫০ টাকা ও চিকন ধান ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
গোবিন্দগঞ্জের পুরনদগ গ্রামের কৃষক হাফেজ আলী জানান, তাঁর জমিতে এ বছর ১২০ মণ বোরো ধান উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ মণ খাওয়ার জন্য রেখেছেন। বাকি ৯০ মণ ধান বিক্রি করে সংসারের দেনা পরিশোধ করতে চান। কিন্তু বর্তমান বাজারে প্রতি মণ ধান ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই দামে ধান বিক্রি করলে তাঁকে লোকসান গুনতে হবে।
সদর উপজেলার চাপাদহ গ্রামের কৃষক হায়দার আলী বলেন, তাঁর পরিবারের কেউ চাকরি করেন না বা ব্যবসাও নেই। ধান বিক্রি করেই তাঁদের সংসার চলে। কিন্তু সরকারি গুদামে ধান ক্রয় বন্ধ থাকায় তাঁকে ধান গোলায় জমিয়ে রাখতে হচ্ছে। পাইকাররা কম দামে ধান কিনতে চাইলে তাঁর লোকসান হবে।
‘হামার ঘরে সংসারের কারও চাকরি নাই, ব্যবসাও নাই। ধান চাল বেচি দায়দেনা মিটান নাগে। কিনত বাজারোত ধানের দাম কম। কম দামে ধান বেচলে লোকসান হবে। তাই ধান গোলায় জমা আকছি।’
এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্যানন্দ কুণ্ডু জানান, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অতিরিক্ত ধান কেনা হয়েছে। তাই ধান ক্রয় বন্ধ রাখা হয়েছে। জেলায় ১১টি খাদ্যগুদামে ধান ও চালের ধারণক্ষমতা ৪৩ হাজার টন হলেও বর্তমানে মজুত আছে ৩৯ হাজার টন। ফলে গুদামে স্থান থাকলেও ধান ক্রয় বন্ধ রয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাইবান্ধা জেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাদেকুল ইসলাম (জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি), হাফেজ আলী (কৃষক), হায়দার আলী (কৃষক), নিত্যানন্দ কুণ্ডু (জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ হাজার ৫৬৩ টন (ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা), ৮৫০ টাকা (প্রতি মণ ধানের স্থানীয় মূল্য), ৯৫০ টাকা (প্রতি মণ চিকন ধানের স্থানীয় মূল্য), ১ হাজার ৪৪০ টাকা (সরকার নির্ধারিত মূল্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!